'দিন' আর 'দিবস' শব্দ দুটি প্রায়-একার্থক হলেও পুরোপুরি একার্থক নয় নিশ্চয়। অন্তত ব্যবহারিক অর্থে তো নয়ই। দিন নিতান্তই আটপৌরে ও সাধারণ, দিবস একান্ত আনুষ্ঠানিক ও অসাধারণ। অভিধানে 'দিন'-এর প্রধান দুটি অর্থ নির্দেশ করা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে- 'সূর্যোদয় হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাল, দিবাভাগ, দিবস'; এর পরই বলা হয়েছে- 'এক সূর্যোদয় হইতে অব্যবহিত পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত কাল, অহোরাত্র।' আমরা সাধারণত প্রথম অর্থেই শব্দটির ব্যবহার করে থাকি, দ্বিতীয় অর্থে প্রয়োগ করি 'দিনরাত্রি'। অভিধানে 'দিবস'-এর প্রতিশব্দ 'দিবা' ও 'দিন' লেখা হলেও আমরা বছরের পঁয়ষট্টি দিনকেই 'দিবস' বলে বিবেচনা করতে রাজি নই। ইংরেজিতে যাকে বলে 'রেড লেটারড ডে' তাকেই ব্যবহারিক বাংলায় বলি 'দিবস'। তেমন দিবস ব্যক্তির আছে, পরিবারের আছে, আছে জাতির। আন্তর্জাতিক দিবসও আছে।
ব্যক্তিক বা পারিবারিক দিবসের গুরুত্ব বিশেষ ব্যক্তি বা পরিবারের পরিধিতেই সীমাবদ্ধ। সে-রকম দিবস আমাদের আলোচনার বিষয়ীভূত নয়। বিশ্বপরিসরে পালিত আন্তর্জাতিক দিবসগুলোকেও আমাদের বিবেচনার বাইরেই রাখছি। আমাদের বর্তমান বিবেচ্য আমাদের জাতির কথা, জাতীয় দিবসের কথা।
কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, আমাদের আসল জাতি-পরিচয়টিকেই বিভ্রান্তির ধূম্রজালে আচ্ছন্ন করে ফেলা হয়েছিল, এখনও সে বিভ্রান্তি আমাদের কাটেনি। এখন বরং আমাদের জাতি-পরিচয়ের ওপর নতুনতর বিভ্রান্তির জাল বিছানো হচ্ছে।
জাতি-পরিচয় নিয়ে আমাদের এ রকম বিভ্রান্তি প্রায় শতাব্দী-প্রাচীন। ধর্ম-সম্প্রদায়কে 'জাতি' বলে চিহ্নিত করে এক অদ্ভুত দ্বিজাতিতত্ত্বের জন্ম হয়েছিল এখানে এবং সেই ভুয়া তত্ত্বের বেদিমূলেই অনেকে তনুমন সমর্পণ করে বসেছিলেন। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি তথাকথিত জাতিরাষ্ট্রের আমরা নাগরিক হয়েছিলাম, পাকিস্তান নামক সেই রাষ্ট্রের বিশেষ কয়েকটি দিনকে আমরা জাতীয় 'দিবস' বলে গণ্য করেছিলাম।
সে-সময়ে আমাদের 'দিবস' হয়েছিল- তেইশে মার্চ, চৌদ্দই আগস্ট। মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ নামক একজন লোককে তখন 'জাতির পিতা' বানানো হয়েছিল, তাকে 'কায়েদে আজম' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। সেই তথাকথিত কায়েদে আজমের কল্পিত জন্মদিন পঁচিশে ডিসেম্বর আর নিশ্চিত মৃত্যুদিন এগারোই সেপ্টেম্বর  আমাদের জন্য পালনীয় 'দিবস' হয়ে গিয়েছিল। সে-সময়কার শাসকগোষ্ঠী, '৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। সেই থেকে ৬ সেপ্টেম্বরকেও জাতীয় মর্যাদায় 'প্রতিরক্ষা দিবস' নামে পালন করতে আমাদের বাধ্য করা হয়েছিল।
তবে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রায় গোড়াতেই দ্বিজাতিতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের মোহভঙ্গেরও সূত্রপাত ঘটেছিল। আমরা- তখনকার পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা- অচিরেই বুঝে ফেলেছিলাম যে, দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান আমাদের ধোঁকা দিয়েছে, আমাদের মুখের ভাষাটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়ে চিরদিনের জন্য আমাদের আসল জাতি পরিচয়টি ভুলিয়ে দিতে চাইছে। তখন থেকে আমরা দ্বিজাতিতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম, পাকিস্তানির বদলে আমাদের নিজস্ব বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠায় মন দিয়েছিলাম। বুকের রক্তের বিনিময়ে একটি সাধারণ দিনকে আমরা অনন্য সাধারণ দিবসে পরিণত করেছিলাম। সেটি একুশে ফেব্রুয়ারি-শহীদ দিবস। শহীদ দিবসকেই বলা যেতে পারে আমাদের প্রথম ও প্রকৃত জাতীয় দিবস। কারণ এটিই আমাদের জাতীয় চেতনার উদ্বোধনের দিন। রক্তের বেদিতে এ-দিবসটি যে আলো জ্বেলে দিয়েছিল বায়ান্ন সালে, সেই আলোতেই আমরা এরপর থেকে পথ চলতে শুরু করেছিলাম। পথ চলতে চলতেই জাতীয় স্বাধিকারের অনেকটি বাঁক অতিক্রম করে যাচ্ছিলাম বাষট্টিতে, ছেষট্টিতে, ঊনসত্তরে, সত্তরে। প্রায় প্রতি বছরই অনেক দিন পরিণত হচ্ছে দিবসে। সেই দিবসগুলো বাঙালি জনগণের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছিল : তোমরা পাকিস্তানের বিজাতীয় দিবসগুলোকে ছুড়ে ফেলে দাও; একুশে ফেব্রুয়ারির পদচিহ্ন ধরেই আমরা সতেরই সেপ্টেম্বর, সাতই জুন, বিশে জানুয়ারি, চব্বিশে জানুয়ারি- এ রকম আরও অনেক দিন-তোমাদের কাছে দিবস হয়ে এসেছি তোমাদেরই ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়ে; সেই রক্তের সঙ্গে যদি বিশ্বাসঘাতকতা না-করতে চাও তাহলে আমাদেরকেই তোমাদের জাতীয় দিবস রূপে প্রতিষ্ঠা দাও- এ ছাড়া তোমাদের জাতিগত পরিত্রাণ লাভ ঘটবে না।
আমরাও বুঝে ফেললাম যে, বাঙালিরূপে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে ঘাড়ের ওপর থেকে পাকিস্তানের বোঝাটিকে নামিয়ে ফেলতেই হবে। সেই লক্ষ্যটিকেই ধ্রুবতারা করে সত্তরের নির্বাচনে আমরা 'জয় বাংলা'র মার্কায় ছাপ মেরে ব্যালট বাক্স ভরে দিলাম। কিন্তু যে-বর্বর শাসকরা বুলেট ছাড়া আর কিছুই বোঝে না তারা যে ব্যালটের কাছে মাথা পেতে দেবে, এমন মনে করার কোনোই কারণ ছিল না। তাদের আচরণ দিয়েই তারা জানিয়ে দিল যে, বুলেট দিয়েই তারা ব্যালটের রায়কে খতম করে দেবে। আর তাই একাত্তরের সাতই মার্চে আমাদের নেতাকে নতুন সংগ্রামের ঘোষণা দিতে হলো; ঘরে ঘরে দুর্গ তৈরি করার কথা বলতে হলো, এবারের সংগ্রামকে মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রাম বলে চিহ্নিত করতে হলো। এভাবে ৭ মার্চও 'দিন' মাত্র হয়ে থাকল না, আরেকটি 'দিবস'-এ রূপান্তরিত হয়ে গেল এবং ঐ দিবসটিই স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তানের সব জাতীয় দিবসকে, একাত্তরেই তেইশে মার্চের পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ফেলে বাঙালিরা ঘরে ঘরে উঠাল রক্তসূর্য-লাঞ্ছিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। অর্থাৎ সেই দিন থেকেই এ দেশে তেইশে মার্চ দিনটির 'দিবস' হওয়ার দাবি শেষ হয়ে গেল। এর দু'দিন পরেই পঁচিশের কালরাত্রিতে পাকিস্তান বাঙালি জাতির ওপর আক্রমণ চালাল এবং এ-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের টিকে থাকার সব সম্ভাবনাকে নিজেই খতম করে দিল। আর সেই বছরেরই ষোলোই ডিসেম্বর বিজয়ী বাঙালি জাতি 'বিজয় দিবস' প্রতিষ্ঠা করল। এর পরই বাংলাদেশের বুক থেকে পাকিস্তানের সব দিবস চিরবিদায় নিল এবং সে-সবের বদলে বাঙালির- স্বাধীন বাঙালি জাতির- অনেক দিবস স্ব-মহিমায় প্রতিষ্ঠা পেল।
দিবস আমাদের অনেক বটে, কিন্তু ভুললে চলবে না, সব দিবসকেই রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে এনেছে যে, সে একটিই দিবস। 'একুশে ফেব্রুয়ারি'। ফেব্রুয়ারি টেব্রুয়ারি বলারও দরকার পড়ে না। শুধু 'একুশে'। একুশে বললেই অনেক কিছু বলা হয়ে যায়। 'একুশের চেতনা,' 'একুশের উত্তরাধিকার' এ-রকম সব শব্দখণ্ড অসাধারণ ব্যঞ্জনাময় তাৎপর্য নিয়ে বাংলার শব্দভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। আমাদের জীবনে একুশে মোটেই একটি স্থবির প্রপঞ্চ হয়ে থাকেনি। জন্মের পর থেকেই তার বহুমুখী বিকাশ ও বিস্তার ঘটে চলেছে। 'শহীদ দিবস' নামে সাধারণ পরিচিতি পেলেও প্রতি বছরই একুশে নতুন নতুন তাৎপর্যের দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বায়ান্নর পরে চুয়ান্নতেই একুশে জন্ম দিয়েছে একুশ দফার, সেই একুশ দফা প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে পাকিস্তান-সৃষ্টিকারী অপশক্তি মুসলিম লীগের দফারফা করে দেওয়ারই সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। ছাপ্পান্নতে একুশের স্মৃতি ও শক্তি নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলা একাডেমি। আটান্নতে একুশের চেতনাকে ভয় করেই পাকিস্তানের কর্তৃত্বশীল শক্তি গণতন্ত্রের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে স্বৈরাচারের মুখটিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এলো। কিন্তু এরপর থেকে একুশের শক্তি ক্রমেই বহুগুণিত হয়ে উঠেছিল। ঊনষাটেই, বর্বর সামরিক শাসন জারির মাত্র চারমাস পরেই, স্বৈরাচারের সব ধমক উপেক্ষা করে এ দেশের জাগ্রত তরুণেরা 'একুশে' পালন করে নতুন প্রত্যয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু হায়, সে-প্রত্যয় একাত্তরের মহান বিজয়ের পরই যেন একেবারে চূড়া থেকে খাদে নেমে এলো। বাহাত্তরের একুশেতে উদভ্রান্ত তারুণ্যের উৎকেন্দ্রিকতা শহীদ মিনারকে অপবিত্র করল, একুশের চেতনার ওপর এই প্রথমবার অপচেতনার ছায়া পড়ল। তেয়াত্তর চুয়াত্তর পঁচাত্তরে সেই অপছায়া যে আরও বেশি পরিমাণে বিস্তারিত হয়ে পড়েছিল, তেমন কথা অবশ্যই বলল না। তবে এ-সময়ে 'একুশে' যেন শাসকদের সোনার শিকলে বন্দি হয়ে পড়েছিল, সরকারি আনুষ্ঠানিকতাই একুশেকে গ্রাস করে ফেলেছিল, একুশের চেতনার জনপ্রবাহ সাময়িকভাবে হলেও রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরই সুযোগ নিয়ে একুশে বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীলরা ভেতরে ভেতরে শক্তিসঞ্চয় করে যাচ্ছিল, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যর্থ বিদ্রুপ করার স্পর্ধা দেখাচ্ছিল এবং এক সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মূল স্থপতিকেই সপরিবারে হত্যা করার মতো অচিন্তনীয় দুস্কর্মও সাধন করে ফেলতে পেরেছিল। এমনকি, প্রথম সারির মুক্তিসংগ্রামীদের কারাগারে পুরে কারাগারেই হত্যা করে ফেলার সাহস ও শক্তিও তারা পেয়ে গিয়েছিল। স্বাধীন বাংলার দিনপঞ্জিতে পনেরোই আগস্ট ও তেসরা নভেম্বরের মতো দুটি দিনকে কালো দিবসে পরিণত করে ফেলে ওরা আমাদের রক্তের-মূল্যে-অর্জিত সব জাতীয় দিবসের ওপরই কালি ছিটিয়ে দিল। এ-রকমটি ওরা কিছুতেই করতে পারত না যদি আমরা আগের মতো একুশের মুক্তধারাটিকে সচল রাখতে পারতাম।
তবু, একুশে তো মৃত্যুঞ্জয়। জ্বলন্ত চিন্তার মধ্য থেকে বারবার সে জীবন্ত হয়ে উঠে আসে। পঁচাত্তরের পর ছিয়াত্তরে-সাতাত্তরেও তা-ই হয়েছিল। বাংলার বিবেক বলে পরিচিত আবুল ফজলের মতো মানুষও সাময়িক বিভ্রান্তিতে আক্রান্ত হয়ে স্বৈরাচারী সামরিক চক্রের সহযোগী হয়ে গিয়েছিলেন যদিও, তবু এই একুশেই তাকে ওই বিবর থেকে টেনে তুলল। 'একুশ মানে মাথা নত না করা'- এই প্রত্যয়েই তিনি নিজেও আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেন এবং আমাদেরও মাথা উঁচু করতে উদ্বুদ্ধ করলেন। আশির দশকের গোড়ায় আরেক জঙ্গি স্বৈরাচারী এসে প্রথমেই একুশের চেতনার ওপর আঘাত হানতে চেয়েছিল। সেক্যুলার একুশেকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঘেরাটোপে আটকে ফেলার মতলব এঁটেছিল এর প্রাণশক্তিকে পিষে মেরে ফেলার লক্ষ্যে। এটি করতে গিয়ে ওই স্বৈরাচার শুরুতেই একুশের প্রতিরোধের সামনে পড়ে গেল। তবু এর পরও দশক কাল ধরে সে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পেরেছিল আমাদের রাজনীতিকদের ক্লীবতার ওপর ভর করে, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বলে উচ্চকণ্ঠে প্রচার করে, রাজনীতিকদের সেই গোষ্ঠীটিরও ক্লীবতা একেবারে অসভ্য রকমের প্রকট হয়ে উঠল। এ-রকমটি অবশ্য অনেক আগে থেকেই- স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রায় গোড়া থেকেই হয়ে উঠছিল। তা না হলে একুশের ও মুক্তিযুদ্ধের যে মূল অর্জন, সেই ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িকতাকে ধরে রাখার কোনো গরজই তাদের মধ্যে দেখা যায়নি কেন? এক জঙ্গি শাসক যখন কলমের এক খোঁচায় রক্তে লেখা সংবিধানের পাতা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে উঠিয়ে দিল এবং আরেক জঙ্গি শাসক এসে সেখানে 'রাষ্ট্রধর্ম' ঢুকিয়ে দিল, তখন এসবের বিরুদ্ধে আমার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি কি সত্যিকার কোনো প্রতিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল? তখন করেনি এবং এখনো যে করছে না, সেটি প্রমাণ করার জন্য কি খুব বেশি যুক্তিজালের বিস্তার ঘটাতে হবে?
তবে রাজনীতিকদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে অন্যেরা যে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবে, কিংবা নিজেদেরকে একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা বলে জাহির করতে পারবে, এমনও নিশ্চয়ই নয়।
আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সৈয়দ বদরুদ্দিন হোসাইন লিখেছেন- 'আমরা মনে করি এ-দেশের মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যেতে পারেন যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেন, যারা সুন্দর সত্যের সাধক, যারা কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, যারা যুক্তিবাদী। জানি, তারা সংখ্যায় খুব বেশি নন, তারা সংগঠিতও নন। কিন্তু তারাই পারেন সব আচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত করে এ দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ফিরিয়ে আনতে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের কথা ভেবে। তাদের কেউ মৌলবাদ নিয়ে খেলবেন না বা মৌলবাদ তাদের নিয়ে খেলবে।'
প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে যারা মৌলবাদী রাজনীতি করে, তারা তো নিঃসন্দেহে একুশের শত্রু, একুশের চেতনাজাত বাঙালির সব দিবসের শত্রু, বাঙালি জাতির শত্রু, বাঙালি জাতীয় স্বাধীনতার শত্রু। শত্রুতা সাধনে তারা কোনোরূপ রাখঢাক করে না বলে তাদের চিনতে ভুল হয় না। কিন্তু যে-রাজনীতিকরা মৌলবাদ-বিরোধী বলে আত্মবিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং মৌলবাদকে নিয়ে খেলে চতুরতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে চায় অথচ আসলে মৌলবাদের কাছে নীতিধর্ম বিসর্জন দিয়ে দেউলে হয়ে যায়, তারা বড় বেশি বিভ্রান্তি ছড়ায়। সেই বিভ্রান্তির হাত থেকে ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীদের মুক্তি পেতেই হবে। বিগত দিনের মতো এখনও একুশের কাছ থেকেই তারা মুক্তির দিশা পাবে।
কারণ একুশে যে অনন্য।
লেখক
প্রাবন্ধিক

বিষয় : দিবসের ভিড়ে অনন্য একুশ

মন্তব্য করুন