বাংলাদেশ এ বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। এটা গর্বের এবং অনেক আনন্দের। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে এবার ৫০তম স্বাধীনতা দিবস। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালি জেগে ওঠে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুনের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। সেই থেকে শুরু বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। বাষট্টি, উনসত্তর এবং সত্তরের পথ ধরে উত্তাল একাত্তরে বাঙালি চিরতরে পরাধীনতার শিকল মুক্তির গান রচনা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' তার পথ ধরেই স্বাধীনতা।
আমাদের জন্য আনন্দের খবর, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটল বাংলাদেশের।
সংবাদমাধ্যমে খবরটা পেয়ে স্বাভাবিকভাবে গর্বে বুকটা ভরে উঠল। ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো এবং ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্তভাবে এই সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- তিনটি সূচকের সব কয়টি পূরণ করে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০২১ সালে এক দফা পর্যবেক্ষণের পর ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদাপ্রাপ্তি উপলক্ষে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখন আমার বয়স ৭৫ বছর, ২০৪১-এ হবে ৯৫। তখন আমি নিশ্চয় ক্ষমতায় থাকব না, হয়তো বেঁচেও থাকব না। কিন্তু আগামী ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে, তার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আমি রেখে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হয়ে উন্নত দেশে পরিণত করার দুরারোহ পথের অভিযাত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া স্বপ্নাদর্শের আলোকে এগিয়ে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পেরেছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-উত্তর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাফল্যের শুরু বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে; স্বল্পসংখ্যক নগরবাসীর শহুরে স্বাস্থ্যসেবা হতে বিপুল গ্রামীণ জনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে। স্বাস্থ্যকে সংবিধানের মূল অধিকারের তালিকায় সংযোজন, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানদান, গুটিকয় জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল থেকে থানায় থানায় শত শত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে স্বাস্থ্যকে গুরুত্ববহ করে তোলা ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রযাত্রা শুরু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে 'জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান' প্রতিষ্ঠা করেন। '৭৫ সালের ২৩ এপ্রিল 'বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ' গঠনের আদেশ স্বাক্ষর করেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য তৎকালীন আইপিজিএম অ্যান্ড আরকে (বর্তমানে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং এ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩০০ থেকে ৫০০ বেডে উন্নীত করেন। বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। গবেষণার জন্য তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। তখন দেশে ছিল মোট আটটি মেডিকেল কলেজ। প্রতিটি মেডিকেল কলেজে তিনি অধ্যাপকের পদসহ বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করেন। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের স্বাস্থ্য ভাবনা ও পদক্ষেপগুলোর কিছু কথা এ লেখায় উল্লেখ করছি। দেশের মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এডুকেশন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এডুকেশন, সেইসঙ্গে মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিটি বিষয়ে জাতির পিতার অবদান রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে মেডিকেল শিক্ষার ডিগ্রিগুলো ব্রিটিশ জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল একে একে বাতিল করে দেয়। এর ফলে আমাদের দেশ থেকে ইংল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষা লাভের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জাতির পিতা তখন অত্যন্ত দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে ১৯৭২ সালে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব সার্জনস (বিসিপিএস) প্রতিষ্ঠা করেন। যারা পাকিস্তান থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যারা বিদেশ থেকে এমআরসিপি, এফআরসিএস করেছেন, এ ধরনের ৫৪ জন ফেলো নিয়ে বিসিপিএসের যাত্রা শুরু। জাতির পিতা বিসিপিএস প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলেই এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে ছয় হাজারের মতো ফেলো দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। তিন হাজারের মতো চিকিৎসক এমসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে দেশে কাজ করেছেন- এটি দেশের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতির পিতার অনন্য অবদান বলে আমি মনে করি।
উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ পঙ্গু হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারির ওপর এমএস ডিগ্রি চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এভাবে দেশে তিনি অর্থোপেডিক সার্জারির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেন। তাছাড়া পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার ক্ষেত্রে আইপিজিএম অ্যান্ড আরকে বঙ্গবন্ধু যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শাহবাগে শিফট করেন, তখন শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়। পরে জাতির পিতা এটি আরও বৃদ্ধি করে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেন।
বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের দিকে একঝলক দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, এ সরকার টানা দশকাধিক কাল ধরে ক্ষমতাসীন থাকাকালে দেশে দারিদ্র্যের হার বিস্ময়করভাবে হ্রাস পেয়েছে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে বাংলাদেশে মাত্র ২৩ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে পেরেছিল, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের জনমুখী পদক্ষেপের ফলে গত ৯ বছরে ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আর বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থাৎ মানদণ্ডের প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদণ্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫ দশমিক ৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদ নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। ওই সময় এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭। বলার অপেক্ষা রাখে না, সবক'টি খাতেই সর্বনিম্ন সূচক থেকে অনেক ওপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। কাজেই সবকিছু ঠিক থাকলে ৫ বছর পর এলডিসি থেকে বের হয়ে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমাকে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক আর তার কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র না বললেই নয়।
স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে 'জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১'। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৩১২টি উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০ শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার এবং জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৯০ সালে নবজাতক মৃত্যুর হার ১৪৯ থেকে নেমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৩-তে। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেরও বেশি জনশক্তি। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন হিসেবে স্বাস্থ্য খাতেও ডিজিটালাইজেশন শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক তথ্য জাতীয় স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারে জমা করছেন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া 'স্বাস্থ্য বাতায়ন' ১৬২৬৩ সার্বক্ষণিক কল সেন্টারের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে যে কোনো মানুষ যে কোনো সময়ে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে পারছেন। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই স্বাস্থ্য খাতে ই-ফাইলিং সেবা চালু করা হয়েছে, যা ক্রমে 'পেপারলেস' অফিস তৈরির পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে; যার ফলে ২০১১ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক 'ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট' পুরস্কারে ভূষিত হয়। স্বাস্থ্য সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশে নারী-পুরুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১.৮ বছর।
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই তার সুযোগ্য কন্যাও স্বাস্থ্য খাতের বেশ কিছু সাফল্য আমাদের উপহার দিয়েছেন। শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অটিজম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অটিজম চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে অটিজম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপালের মতে, সায়মা হোসেন নজিরবিহীন উদ্যোগ ও তার ত্যাগের ফলে অটিজম-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে এ সরকারের আমলে। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদন করছে। চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরি করছে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্বমানের ওষুধ এত কম দামে আর কোথাও পাওয়া যায় না। দেশের ওষুধের চাহিদা পূরণ করে ইউরোপের ২৬টি দেশসহ বিশ্বের ১২৭টি রাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
আমাদের স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও কিন্তু পিছিয়ে নেই। স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ পরিচালিত জরিপে বিশ্বের সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৪০তম হিসেবে স্থান পেয়েছে বিএসএমএমইউ। প্রখ্যাত যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। ল্যানসেট বলেছে, বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ভারতের অবস্থান ১৫৪তম। অথচ বাংলাদেশ ৫২তম অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে এই সড়কের অর্জন আসলেই যুগান্তকারী। স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে 'জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১'। সারাদেশে জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি এবং হৃদরোগ ব্যবস্থা সংবলিত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার চক্ষু রোগীদের যেমন চোখে ছানি পড়া, গল্গুকোমা বা ডায়াবেটিস, রেটিনোপ্যাথি বা শিশুর চোখে আঘাতজনিত চিকিৎসা, পাওয়ার চশমার ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভর হবে বাংলাদেশ- বঙ্গবন্ধুকন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাশা করি। া
লেখক
প্রাক্তন ডিন ও চেয়ারম্যান
মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয় : স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত

মন্তব্য করুন