স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নারীর অবস্থা ও অবস্থান অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ের বিবেচনায়। সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে আলোচনা করলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। একই সঙ্গে সময় এবং লক্ষ্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজতর হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য প্রতিবেদন ২০২১-কে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই প্রতিবেদন ধরে আলোচনার সূত্রপাত করার মূল কারণ এখানে বেশকিছু সূচক এর মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে নারীর অবস্থানকে তুলে ধরা হয়েছে যা একাডেমিক আলোচনার জন্য সহায়ক।
বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য প্রতিবেদন ২০২১ বিশ্নেষণে আমরা দেখছি, ওই বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সপ্তমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে আছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে বিশ্বের প্রথম ১০০টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এই প্রতিবেদনের ১৪টি উপসূচকের মধ্যে চারটি উপসূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের ওপরে স্থান পেয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হলো- ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতা, জন্মের সময় ছেলে ও মেয়েশিশুর সংখ্যাগত সমতা ও সরকারপ্রধান হিসেবে কত সময় ধরে একজন নারী রয়েছেন। এসব কিছুই একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে। বিশ্বের ১৫৩টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এবারের প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
চারটি সূচকের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাদের বিশ্নেষণ উপস্থাপন করে, এগুলো হলো- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সুযোগ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৪৭তম; শিক্ষায় অংশগ্রহণ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১২১তম;
স্বাস্থ্য ও আয়ু, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৩৪তম এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সপ্তম।
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৫তম, যা ২০২০ সালে ছিল ৫০তম। চারটি সূচকের মধ্যে তিনটিতেই আমাদের অবস্থান পিছিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক লিঙ্গবৈষম্যের অবনমন ঘটেছে দশমিক ৭ শতাংশ। এই সামান্য বিচ্যুতিতে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫ ধাপের অবনমন আরেকটি বিষয়কে মনে করিয়ে দেয়, তাহলো প্রতিযোগী দেশগুলো সব সময় ক্রম অগ্রসরমাণ ধারা অব্যাহত রেখেছে। তাই শুরুর কথাগুলোর ওপর ভিত্তি করে আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ আমাদের সামনে খোলা নেই। বরং ভিশন ২০৪১-এর ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ক্রমাগত উন্নতি করে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি সংকট এক বা একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আসে।
অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সুযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতি ঘটেছে ২ শতাংশ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবনতি ঘটেছে পেশাজীবী এবং টেকনিক্যাল কাজে জড়িত নারীদের ক্ষেত্রে। এই উপসূচকের ১০ শতাংশ অবনমন ঘটেছে। এর ফলে দক্ষ নারীদের শতকরা হার ২৯.৬ থেকে ২৪.৩-তে নেমে এসেছে। ব্যবস্থাপনা কাজে নারীর অংশগ্রহণ ১০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। করোনাকালে যুবদের অনলাইন কার্যক্রমের যুক্ততা বেড়েছে। যুবরা অনলাইন ব্যবসা ও কমার্সের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু প্রান্তিক নারীরা ডিজিটাল ডিভাইডের শিকার হয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে পড়ছে। একশনএইড বাংলাদেশ এবং সানেমের এক গবেষণা অনুযায়ী মাত্র ৩০ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের ইন্টারনেট সুবিধা প্রবেশগম্যতা আছে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ শতাংশ যুব নারীর ইন্টারনেট প্রবেশগম্যতা আছে, শহরাঞ্চলে যা ২৩ শতাংশ এবং গ্রামে মাত্র ১৩ শতাংশ।
দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহার আজ আর কোনো পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়, এটি আবশ্যকতা। মহামারিকালে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শনের কিছুটা সুফল ভোগ করেছে। তবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করলে সবার সমান অংশগ্রহণের এবং প্রবেশগম্যতার বিষয়টি এখনও অনেক দূরের পথ। আমরা মনে করি সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সরকারি-বেসরকারি সব খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে যথাযথ বিনিয়োগ করা গেলে এই ব্যবধান কমে যাবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিকাশমান ব্যক্তি খাত আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তরুণ সমাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়ন দর্শনকে তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান এবং জীবনধারার অংশ করার সুযোগ পাবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে যুক্ত হওয়ার মতো উপযোগী করে নারীদের প্রশিক্ষিত করে তোলা গেলে অচিরেই এই ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য অনেকটা হ্রাস পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশের যে পথনকশা ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তাতে নারীর সমঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে এই ব্যবধান ঘুচানো সম্ভব।
প্রতিবেদনের আরেকটি উপসূচক- শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণেও বিশাল বৈষম্য বিরাজমান। মাত্র ৩৮.৫ শতাংশ নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ আছে, যেখানে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮৪.২ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে একটি সমরূপতা ও বিদ্যমান। মোট শ্রমশক্তির ৯৬.৬ শতাংশ নারী এবং ৯৩.৯ পুরুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক বা ইনফরমাল খাতে যুক্ত। যার ফলে তারা কম আয় করেন এবং সারা বছর আয়ের অনিশ্চয়তায় ভোগেন। অন্যদিকে, নারী কর্মস্থলে যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ওই সব বিষয়ের প্রভাবে নারীদের গড়পড়তা আয় পুরুষের আয়ের ৪০.৩ শতাংশ এবং মজুরির ক্ষেত্রে এটি ৫৮.৪ শতাংশ।
এ ছাড়াও গৃহস্থালি কাজের একটি বড় অংশের চাপ নারীদের বহন করতে হচ্ছে। যদিও মহামারিকালে অতি স্বল্প পরিসরে পুরুষ সদস্যরা কিছু কিছু কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে একই সময়ে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সংকটজনিত কারণে নারী নির্যাতনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব নীরব মহামারি বলে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশ এখনও আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুস্বাক্ষর করেনি। গৃহস্থালি সেবামূলক কাজে শুধু নারীকে বিবেচনা করা হয় এবং এর কোনো স্বীকৃতি এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয় না।
এর পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের নারীদের জন্য মহামারি একমাত্র সংকট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে এ দেশের প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। সে হিসেবে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীও অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ কোনো ক্ষেত্রেই এখনও সে তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য প্রকাশের সবটুকু সার্বভৌমত্ব লাভ করেনি। তাই জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও লিঙ্গবৈষম্যের কারণে তার মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে এখনও তাকে সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপন্ন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে লিঙ্গবৈষম্য নিরসনের সংগ্রামে জয়ী হওয়া খুবই কঠিন।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, 'অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সুযোগ' সূচকের প্রতিটি উপসূচকে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিস্তৃত হয়েছে। তাই আর্থিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টির অবকাশ রয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনীতি অর্জন করতে গেলে এর কোনো বিকল্প নেই। যার প্রাথমিক ধাপটি আমাদের ২০২৬ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে। আশা করা যায় শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আয়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে এবং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। তবে এই ক্ষেত্রে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ, মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিবেচনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। সার্বিক রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে আছে। বিশেষ করে গত ৫০ বছরে একাধিক্রমে ২৭ বছর নারী সরকারপ্রধানের উপস্থিতি, উক্ত উপসূচকে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। তবে এখনও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অগ্রগতি সাধনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে কারণ সংসদ সদস্যদের মাত্র ২০.৯ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদে মাত্র ৭.৭ শতাংশ নারী।
এ ছাড়াও স্থানীয় সরকার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী যুক্ত থাকলেও প্রায়ই তাদের ক্ষমতা হরণের অথবা পিতৃতান্ত্রিকতার কারণে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়। যার ফলে নামেমাত্র উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। বস্তুত স্বামী অথবা পরিবারের পুরুষ সদস্য তার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। এর পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এটিসহ অন্য সূচকগুলোতে অগ্রগতি আনতে হবে। তা না হলে নারী উন্নয়ন নীতিমালাসহ সরকারের বিভিন্ন নারীবান্ধব কাজের সুফল তৃণমূলে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এর ফলে লিঙ্গবৈষম্য কমানোর সব উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে। গণপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নূ্যনতম নাগরিক চাহিদা যেমন- নারীবান্ধব গণপরিবহন, গণশৌচাগার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা না গেলে মধ্যম আয়ের দেশের দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খেতে হবে, উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হয়ে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হবে।

উপরন্তু উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণে বৈষম্য, ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বৈষম্য, উত্তরাধিকারে বৈষম্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রাপ্তিতে বৈষম্য এবং বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈষম্য নারীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। কিশোরী ও মেয়ে শিশুরা পারিবারিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে ৬৪ শতাংশ এবং গ্রাম অঞ্চলের ৩৩ শতাংশ মেয়েশিশু কিশোরী কোনো না কোনোভাবে সাইবার স্পেসে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ২০২১ সালের বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য প্রতিবেদনে ১৫-১৯ বছর বয়সে ৪৫.২ শতাংশ নারী বাল্যবিয়ের শিকার হন এবং ৫৩.৩ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় সহিংসতার শিকার হন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও সমাজে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে বেশিরভাগ নারী বিবাহিত জীবনে নিজেকে হারিয়ে খোঁজেন। এর প্রভাব পরিবার এবং সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই পড়ে। বিষয়টিকে দীর্ঘদিন অগ্রাহ্য করলে চলমান উন্নয়ন ধারায় জটিল সমস্যা তৈরি করবে। এই প্রবণতা বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কমানো উচিত।
এসব বৈষম্য বিলোপে কাজ করতে হবে। যা সুস্থ-সবল, দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমাজিক সাম্য ও সুষম পরিবেশ নিশ্চিত করবে। নির্যাতন মুক্ত পরিবেশে অধিকতর উৎপাদনক্ষম হয়ে উঠবেন নারী। ফলে তার সামাজিক অবদান হবে বহুমুখী এবং বৈচিত্র্যময়। মানবিক মর্যাদায় উদ্ভাসিত হবেন আপন মহিমায়। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অবস্থা এবং অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে। তবুও নারীরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন এবং অবাধ প্রবেশগম্যতা পায়নি। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। যা অপসারণ করতে না পারলে জাতীয় অগ্রগতির রূপরেখা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তৈরি পোশাক শিল্পে নারীর অংশগ্রহণের ফলে সৃষ্ট বিপ্লবের উদাহরণ টেনে বলতে চাই, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও ভালোভাবে নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় সমৃদ্ধির স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেবে। এ ক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে শুরু থেকেই, যাতে শ্রম শোষণের ঘটনা না ঘটে।
একশনএইড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় উঠে আসা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত এক বছরে বাল্যবিয়ের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রকাশিত হয়েছে তা ওই প্রতিবেদনের চেয়েও ভয়াবহ বৈষম্যের অবস্থা তুলে ধরে। যথাযথ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করে এই চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব। প্রয়োজন গভীরতর গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। মনে রাখতে হবে, এটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং উন্নয়নকে স্থায়িত্ব দানের বিনিয়োগ। এর মধ্য দিয়ে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধ পরিকল্পনা, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসের সেন্দাই কর্মকাঠামো বাস্তবায়িত হবে। যা 'হোল অব সোসাইটি' বা সমাজের সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে কর্মপ্রক্রিয়া তাকে বাস্তব রূপ দেবে।

লেখক

মানবাধিকারকর্মী
কান্ট্রি ডিরেক্টর
অ্যাকশনএইড

বিষয় : নারীর বাস্তবতা

মন্তব্য করুন