ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও ওষুধের পাশাপাশি বিনামূল্যে ইনসুলিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে অক্ষমরা এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল কর্মসূচির আওতায় একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত রোগীরা বিনামূল্যে পাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ওষুধ। একই সঙ্গে চারটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প আকারে ইনসুলিন বিতরণ কার্যক্রমও চলছে। ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে গোলটেবিল আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনসিডিসি), বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) ও সমকাল যৌথভাবে এ গোলটেবিলের আয়োজন করে।

'ডায়াবেটিস চিকিৎসা :বর্তমান ও আগামীর ভাবনা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও ইনসুলিন বিতরণের পাশাপাশি চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জনবল বাড়ানো, ওষুধের দাম কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের ওপর শুল্ক্ক বৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের মোড়কে ক্ষতিকর বার্তা লেখা, শরীর চর্চার জন্য পর্যাপ্ত মাঠের ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বাড়ানোসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের অভিমত, সরকারের একার পক্ষে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়সহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘাতক ব্যাধি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যথায় সরকার গৃহীত উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে।

বাডাস সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে ও সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগের কারণে দেশের অন্তত ৬১ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ডায়াবেটিস এমনই একটি নীরব ঘাতক। দেশের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এ বিষয়ে সচেতন নয়। একটি জরিপের উদ্ৃব্দতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মাত্র ১২ ভাগ মানুষের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবার অনেক মানুষ অর্থাভাবে এ রোগের চিকিৎসা নেন না। এসব মানুষের জন্য দেশে সব সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস রোগের প্রায় সব ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যয়বহুল এ রোগের চিকিৎসায় বিনামূল্যে ইনসুলিনও দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক আরও বলেন, শিশুরা এখন খেলাধুলার পরিবর্তে আইফোন, ট্যাব, কম্পিউটারে গেম খেলতে পছন্দ করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান ও ফাস্টফুড গ্রহণ করছে। এতে অল্প বয়সেই তারা মুটিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সুতরাং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে তাদের এই অভ্যাসের পরিবর্তন করতেই হবে। এ জন্য অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। হাঁটাচলা, শারীরিক ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। অন্যথায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ইনসুলিন বিতরণের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতিরোধে করা সম্ভব হবে না। এজন্য সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন। এতে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। পৃথিবীতে ৫৪ কোটি মানুষ এ ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এরমধ্যে অর্ধেক মানুষ শনাক্তের বাইরে রয়েছে। ৬০-৭০ ভাগের রোগ নিরাময়যোগ্য। ৫০ ভাগ রোগীর কোনো উপসর্গই থাকে না। এ রোগের কারণে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যাচ্ছেন। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যয়ের ১০ শতাংশ ডায়াবেটিসের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। টাইপ-১ এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসও সমান হারে বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডায়াবেটিস বাড়ার হার অত্যন্ত বেশি এবং তা প্রায় ২৫ শতাংশ। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৮৪ লাখ ডায়াবেটিস রোগী আছে। ২০৪৫ সাল নাগাদ দেশের দেড় কোটি মানুষের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ডায়াবেটিস আছে কি না, তা জানেন মাত্র ১০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ।

ডা. রোবেদ আমিন বলেন, এ অবস্থায় সারাদেশে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ওষুধ বিনামূল্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে বিনামূল্যে ইনসুলিন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেশের চারটি উপজেলায় এনসিডিসি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকেও রয়েছে ডায়াবেটিস শনাক্তের ব্যবস্থা। শনাক্ত হওয়া রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ওষুধ। একইসঙ্গে এক লাখ ইমামকে সচেতনতায় যুক্ত করা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা, বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক এমএম ফয়েজ ও অধ্যাপক শাহ্‌ মনির হোসেন, মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, বাডাস মহাসচিব সায়েফ উদ্দিন, বারডেম হাসপাতালের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা ফারুক পাঠান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ইপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, বাডাসের সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিচার্সের পরিচালক ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের এনপিও অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, জাইকা বাংলাদেশ শাখার পরামর্শক ডা. তাজুল ইসলাম, নভোনরডিক্স বাংলাদেশ শাখার মহাব্যবস্থাপক রাজশ্রী দে সরকার এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এইচ এম নাজমুল আহসান।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একক প্রচেষ্টায় কমিউনিটি ক্লিনিকে মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছেন। এই কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া ও সেবা দেওয়া হচ্ছে, এটি অনেকে জানেন না। এটি জানানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেবা নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এনায়েত হোসেন বলেন, ডায়াবেটিস এক সময় ধনীদের রোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রান্তিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্মূল করা সহজ হবে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এমএম ফয়েজ বলেন, দেশের সব উপজেলায় রোগ নির্ণয় ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দিয়ে দ্রুত সেবা দিলে ডায়াবেটিস কমিয়ে আনা সম্ভব। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মতান্ত্রিক লাইফস্টাইলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শাহ্‌ মনির হোসেন বলেন, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীর অনেক পদ খালি পড়ে আছে, জনবল বাড়াতে হবে। জনবল কম থাকায় মানসম্মত সেবা নিয়ে কখনও কখনও প্রশ্ন ওঠে।

আহমেদুল কবীর বলেন, বিনামূল্যে ডায়াবেটিস শনাক্ত করার সুবিধার আওতায় মানুষকে আনা গেলে প্রাথমিকভাবে এ রোগটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। ডা. ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, বাংলাদেশে মাত্র আটটি মেডিকেল কলেজে ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগ আছে। প্রতিটি কলেজে এ বিভাগ চালু হলে ডায়াবেটিস চিকিৎসার খুঁটিনাটি শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবেন।

রুহুল আমিন বলেন, হাসপাতালগুলোতে আলাদা ডায়াবেটিস ডিপার্টমেন্ট রাখা উচিত। এতে দ্রুত রোগ শনাক্ত হবে। সায়েফ উদ্দিন বলেন, ৮০ শতাংশ রোগীর ডায়াবেটিসের ইনসুলিন কিংবা ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। মসজিদে একটি করে ডায়াবেটিস কর্নার স্থাপন করা যেতে পারে। তাতে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা সহজ হবে।

ফারুক পাঠান বলেন, মাতৃগর্ভ থেকেও অনেক শিশু ডায়াবেটিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। সুতরাং মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে। সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে হবে। ফলোআপে এক মাস পর ফোন করলেও রোগী আসে না। মানুষ বলে অনেক দূরে। ফলে কমিউনিট ক্লিনিক থেকে সেবা দেওয়া যেতে পারে।

বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও জ্ঞানের অভাব আছে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করতে হবে। প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভাষা নিয়েও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, ডায়াবেটিসের কারণে অকাল মৃত্যু হচ্ছে। যখন তারা সমাজকে আরও কিছু দেবেন, তখনই তাদের হারাচ্ছি। পুরো সমাজকে এ বিষয়ে সচতেন করতে হবে। তাজুল ইসলাম বলেন, ডায়াবেটিসের মানসম্মত ও টেকসই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য ব্যবহার করে পরিকল্পনা করতে হবে। বছরে দু'বার ডায়াবেটিস শনাক্তমূলক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।

রাজশ্রী দে সরকার বলেন, সচেতনতা, শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নভো নরডিস্ক ৩ হাজার গরিব শিশুকে বিনামূল্যে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। আগামী দিনে সরকার বিনামূল্যে ইনসুলিন প্রদান করবে- এটা বেশ ভালো উদ্যোগ। দেশে মানসম্মত ইনসুলিন উৎপাদন করাও জরুরি। নাজমুল আহসান বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডায়াবেটিসের সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানের লামার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরকার ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যয়বহুল ওষুধ বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু এটি অনেকেই জানেন না। এটি সবাইকে জানাতে হবে।

এ কে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশ সরকারই ইউএন রেজ্যুলেশনের উদ্যোক্তা। ইউএন রেজ্যুলেশনের অংশ হিসেবে সরকার এ-সংক্রান্ত পলিসি নির্ধারণ করবে। অথচ দেশে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও ন্যাশনাল পলিসি-সংক্রান্ত ড্রাফট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, ফাস্টফুডের প্যাকেটে খাদ্যের ভ্যালু লিখে দেওয়া হোক। মানুষ এটি দেখলে ফাস্টফুড কম খাবে। এর পরও যারা ফাস্টফুড গ্রহণ করবে, তাদের বেলায় বলতে হবে, জেনেশুনে করেছি বিষপান। জেনেশুনে এই বিষ হয়তো কিছু মানুষ কম খাবে। যা হোক, ওই ন্যাশনাল পলিসি বাস্তবায়ন করা জরুরি। আশা করি, এ বছর এটি বাস্তবায়ন হবে।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমকাল সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে গণমানুষের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ দুটোই আমাদের করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে সমকাল কাজ করে যাবে।