২০২১ সাল একটা স্বপ্নের বছর আমার জন্য। তবে কষ্টও কম পাইনি এই বছর। কষ্টের কথা পরে বলি। আগে আসি সাফল্যে। এই বছর সুইজারল্যান্ডের লুজানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আরচারির রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে পেয়েছি রৌপ্যপদক, যেখানে আমার সঙ্গী ছিলেন রোমান সানা। একই বছর টোকিও অলিম্পিকে তুলেছি নিজের জীবনের সর্বোচ্চ স্কোর। অলিম্পিকে আরচারির নারী একক র‌্যাঙ্কিং রাউন্ডে ৭২০ পয়েন্টের মধ্যে ৬৩৫ পয়েন্ট অর্জন করে ৩৬তম স্থান অর্জন করেছি ২০২১ সালে। এটিই আমার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পয়েন্ট। আগে আমার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ৬৩৪ পয়েন্ট। এই তীর-ধনুকের খেলাকে কেন্দ্র করে আমি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি থাইল্যান্ড, স্পেন, প্যারিস, সুইজারল্যান্ড ও টোকিওতে। আসলে দেশের বাইরে যখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করি, তখন ভালো লাগে। বিশেষ করে লাল-সবুজের পতাকা হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করার সময় অন্য রকম এক শিহরণ অনুভব করি। এই ভালো লাগা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এবার বলি খারাপ লাগার কথা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে যাওয়া বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত খেলতে পারিনি আমি। খেলা শুরুর আগেই করোনায় আক্রান্ত হই। যদিও আমার শরীরে ছিল না কোনো উপসর্গ। এটাই ২০২১ সালের সবচেয়ে খারাপ লাগা বিষয়। আমার জন্ম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর বাবার সঙ্গে চলে আসি নীলফামারী জেলা শহরে। ভর্তি হই স্থানীয় আনন্দ নিকেতন মডেল স্কুলে। স্কুল থেকে ফিরে সময় যেন কাটত না। অন্য আট-দশজনের মতোই খেলতাম। সত্যি কথা বলতে, আরচারি নামে যে একটি খেলা আছে, সেটি জানতামও না! বাবা তখন বলতেন, তুই বড় হয়ে ডাক্তার হবি। আমিও মনে মনে ডাক্তার হওয়ার কথাই ভাবতাম। পরে আস্তে আস্তে চলে আসি তীর-ধনুকে। ২০১৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হই বিকেএসপিতে। বিকেএসপিতে ভর্তির পর শুরু হলো কঠোর অনুশীলন। আস্তে আস্তে হয়ে উঠি পেশাদার তীরন্দাজ। ২০১৯ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় আইএসএস ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি ছিল আমার প্রথম খেলা। আর সেই খেলাতেই আমি স্বর্ণপদক জয় করি। অথচ তখনও বাংলাদেশের ন্যাশনাল পর্যায়ের কোনো খেলায় কেউ স্বর্ণপদক পাননি। এরপর একে একে আমার ঝুলিতে যোগ হয়েছে অসংখ্য পদক।
সে যাক, ২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপেও পেয়েছি সাফল্য। তবে আমার মূল স্বপ্ন অলিম্পিকের স্বর্ণপদকে। ২০২৪ সালের অলিম্পিকে আরচারিতে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনতে চাই। এই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতেই কাজ করব নতুন বছরে।

লেখক

তীরন্দাজ
বাংলাদেশ আরচারি টিম