আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বাইরে লিখতে পারি না; যা লিখি, তা কোনো না কোনোভাবে আমার জীবনের অভিজ্ঞতা বা জানার জায়গা থেকেই লেখা। ফলে নতুন কিছু লেখা আমার জন্য অনেক কঠিন। ভালো-মন্দে ২০২১ সাল তো প্রায় চলেই গেল। ২০২১ সালে আমার ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। ২০২১ সালে আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা অভাবনীয়। এ বছরটা শুধু আমার জন্য নয়, আমার পুরো টিমের জন্য ছিল অসাধারণ কিছু নতুন অভিজ্ঞতা। যাকে অনেকেই প্রাপ্তি বলবেন। আমার পরিচালনায় 'রেহানা মরিয়ম নূর' নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঘুরে এসেছি। তবে এই জার্নি কিন্তু আমাদের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। ছবির চিত্রনাট্য অনেকবার করেছি। ছবি বানানোর পর এ বছর যা হলো তাতে আমরা খুবই লাকি। এ বছর আমাদের সঙ্গে অনেক কিছুই ঘটেছে। তাতে আমি খুবই গ্রেটফুল, খুবই অনারড।
নতুন বছরের প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে বলব সিনেমা নির্মাণ হতে থাকুক। দেশের চলচ্চিত্র শিল্প তার নিজের মতো করেই চলে আসছে। চলবেও। সবাই নিজের মতো করে গল্প বলার চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টা চলতে থাকুক। সিনেমা তো অনেক লং প্রসেস। আমি আসলে কোন ছবিটা বানাতে চাই, এটা ফিগার আউট করতেও একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমি আসলে কী চাই, আমি আসলে কোন প্রশ্নগুলো তুলতে চাই- এটা নির্বাচন করতেও অনেকটা সময় দিতে হয়, বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এভাবেই হয়তো আমরা যেতে থাকব।
আর আমার কাছে মনে হয়, এই প্রজন্মের প্রত্যেকেই কিন্তু একেকজন ফিল্মমেকার। প্রত্যেকের হাতে রয়েছে মোবাইল ক্যামেরা, যা দিয়ে তারা প্রতিনিয়ত তাদের বিভিন্ন বিষয় শুটিং করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড দিয়ে দিচ্ছেন। আর জাতি হিসেবেও কিন্তু আমরা সংবেদনশীল ও গল্পবাজ। আমাদের রয়েছে গল্পের ভান্ডার। এই সময়ে সারাদেশে বসবাস করা মানুষ নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছেন। যেগুলোর প্রতিটিই এক অনন্য গল্প। এগুলো পর্দায় নিয়ে এলেই দিন বদলে যাবে। পরিশেষ... হ্যাপি নিউ ইয়ার। ২০২১ থেকে একটি নতুন বলয়ে আমরা আমাদের সিনেমাকে দেখতে চাই। যাতে করে আমাদের দেশের দর্শক আমাদের গল্প দেখবেন। জীবনের নানামুখী চাপ সামলে একটু স্বস্তি পাবেন। একটু স্বপ্নময় জগতে বিচরণ করতে পারবেন। দেখা পাবেন নতুন আনন্দের। া
লেখক
চলচ্চিত্র পরিচালক