অন্যান্য খাতের মতো কভিড-১৯-এর প্রভাব আউটসোর্সিং খাতেও পড়েছে। তবে প্রভাবটি হচ্ছে মিশ্র। এ সময়ে কারও ব্যবসা বেড়েছে, আবার কেউ কাজ হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। করোনা শুরুর পর আউটসোর্সিং খাতে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ কমেছে, এটি সত্যি। এর ফলে আউটসোর্সিং কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানকে কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে, অনেকে কর্মী ছাঁটাই না করলেও বেতন কাটছাঁট করেছে। তবে এ সময়ে অনেকের ব্যবসা উল্টো ফুলেফেঁপে উঠেছে। মূলত ইন্টারনেটনির্ভর কাজের চাহিদা কভিড-১৯ শুরুর পর কয়েক গুণ বেড়েছে। যেসব ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেটনির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চাহিদা বেড়েছে। যেমন- ওয়েবসাইট ডিজাইনার ও ডেভেলপার, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটারের মতো কাজের চাহিদা বেড়েছে।
আমার প্রতিষ্ঠান 'এমরাজিনা টেকনোলজিস' ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন সেবা নিয়ে কাজ করে। ভার্চুয়াল মিটিং, অনলাইন কমিউনিকেশনভিত্তিক নানা সেবা আমরা দিই। করোনার সময় আমাদের ব্যবসার ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমরা এ সময়ে বাড়তি জনবল নিয়োগ করেছি। ইন্টারনেটনির্ভর কাজের বাড়তি চাহিদা এখনও রয়েছে। ফলে আমরা কিছু কাজ অস্থায়ী কর্মীর মাধ্যমেও করিয়ে নিচ্ছি।
ফিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে কোনো বিষয়ে দক্ষতা আছে এমন কর্মী, তিনি নারী কিংবা পুরুষ হোক, তার চাহিদা রয়েছে। নারীদের যদি স্কিল থাকে, তারা যদি নিজেদের সেভাবে তৈরি করতে পারে, যোগ্য করে তুলতে পারে, তবে ভালো করার সম্ভাবনাও বাড়ে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন, যে খাতেই কাজ করতে ইচ্ছুক, ওই বিষয়ে স্কিলড হতে হবে। তবে জরুরি হচ্ছে যোগাযোগ দক্ষতা। অনেক সময় নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলেও যোগাযোগ দক্ষতার অভাবে কাজটা পাওয়া যায় না। ফলে যোগাযোগ দক্ষতাটা ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য বলা যায়।
ঘরে বসে কাজ করার মতো পরিবেশও তৈরি করে নিতে হবে। আর ঘরে বসে কাজ করার জন্য কম্পিউটারসহ আনুষঙ্গিক ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তো লাগবেই। আর উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হলে এমন কিছু নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তোলা যায়। এতে করে উপার্জন করা সম্ভব। একটা কথা আমি বলতে চাই, স্কিল যদি থাকে আর আপনি যদি প্রফেশনাল হোন, তবে করোনা আসুক বা না আসুক, আপনি ঘরে বসে কাজ করেন কিংবা বাইরে- আপনার সাফল্য অনিবার্য। আপনি দক্ষ কিন্তু প্রফেশনাল নন, তবে কাজ হবে না। আপনি সততার সঙ্গে কাজ করছেন, সময়মতো ডেলিভারি দিচ্ছেন কিনা এটা গুরুত্বপূর্ণ। যে কাজটি আপনি ভালো পারেন, সেখানেই ফোকাস করুন। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে এমন কোনো কাজ নেওয়া যাবে না, যেটি আপনি পারেন না। এমন কিছু করলে আপনার সম্পর্কে ক্লায়েন্টের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে, আপনার রেটিং কমে যাবে, যা আপনার জন্য সত্যিই ক্ষতিকর। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে এটি সব সময় মাথায় রাখতে হবে।

লেখক
সফল ফ্রিল্যান্সার ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, পেওনিয়র