করোনা মহামারির জন্য ২০২০ সালে গানের ভুবনে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, ২০২১ সালে আমরা তার অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পিছপা হইনি। যে কোনো পরিস্থিতি যে আমরা মোকাবিলা করতে পারি, তারও প্রমাণ দিয়েছি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। উঠেছি গানের মঞ্চে। টিভি আয়োজন আর নতুন গানের প্রকাশনাও বিরত থাকেনি। গানে গানে শ্রোতাদের মাঝে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি থেমে যাওয়া উচ্ছ্বাস, আনন্দ-উল্লাস। তাই ২০২১ সালকে আমি বলব, নতুন করে স্বপ্ন বুননের বছর। সে কারণেই সংগীতের নানা মাধ্যমে নতুন করে সৃষ্টির নেশায় মেতে উঠতে পেরেছি। ২০২২ সালেও সৃষ্টিশীল কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব বলেই বিশ্বাস করি। লকডাউনের দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনও মন বিষাদে ছেয়ে যায়। কাজের অভাবে সংগীতাঙ্গনের অনেকেই তখন অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তাদের মুখের দিকে তাকানো যেত না। কবে বিস্ময় কাটবে, যার যার কাজ নিয়ে পুনরায় ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারবেন- তারও ছিল না কোনো নিশ্চয়তা। আমরা কেউ ভাবিনি, কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো। বাস্তব আর কল্পনার তফাত এখানেই। তারপরও সেই বাস্তবতার সেই কঠিন সময়ে মানুষ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে গেছে। আমরা যারা গানের ভুবনের বাসিন্দা, তারাও অনলাইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সহযোগিতার জন্য নানা রকম কাজ করেছি। তার প্রতিফলন হিসেবে ২০২১ সালে গানের ভুবনের বাসিন্দার আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রয়াস পেয়েছি।
মন্দা সময় পার করে ২০২১ সাল আমিও বেশ কিছু ভালো কাজের সুযোগ পেয়েছি। যার মধ্যে দুটি গানের কথা না বলেই নয়। যার একটি নতুন করে রেকর্ড করা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী গান 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে' গাইতে পারা। গোবিন্দ হালদারের লেখা ও সমর দাসের সুরের এই গানটির নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন পাভেল অরিণ। গানের মূল শিল্পীদের একজন একাত্তরের শব্দসৈনিক ডালিয়া নওশিন নিজেও আমাদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন। এ ছাড়া আর্ক ব্যান্ডের হাসান, চিরকুটের সুমি, নেমেসিসের জোয়াদ, তানজীর তুহিনসহ আর যারা এই গানে আমার সহশিল্পী ছিলেন, তারা সবাই আমার ভীষণ প্রিয়। তাই এই আয়োজন আমার শিল্পী জীবনের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে 'মীনা' কার্টুন সিরিজের 'আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে' গানটি নতুন করে গাওয়ার অভিজ্ঞতাও কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। একইভাবে মনে রাখার মতো ঘটনা ছিল 'ইয়াং স্টার' রিয়েলিটি শোর বিচারক নির্বাচিত হওয়া। আমি নিজেই একটি রিয়েলিটি শো থেকে উঠে এসেছি। সময়ের ফেরে আমিও যে কোনো রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে বসব- তা সত্যি ভাবিনি।
আমার মতো অনেকে শিল্পী, সুরকার, সংগীতায়োজক ২০২১ সালে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টা ২০২২ সালেও অব্যাহত থাকবে, যার যার পরিকল্পনা নিয়ে অভিনব সব সৃষ্টিতে মেতে উঠবে- এটাই আমি বিশ্বাস করি।
লেখক

সংগীতশিল্পী