করোনার প্রাদুর্ভাবে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয়তায় বেড়েছে ইন্টারনেটনির্ভর সেবার চাহিদা। করোনাকালে লকডাউনে পরিবহন সেবা বন্ধ থাকায় রাইডিং সার্ভিসও বন্ধ ছিল। লকডাউনে সব ধরনের রাইডিং সেবাদাতা কোম্পানির জন্যই ছিল কঠিন সময়। তবে পাঠাও শুধু রাইডিং সেবায় সীমাবদ্ধ না থেকে পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কলেবর বাড়িয়েছে। কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের ব্যাপ্তি এখন সর্বত্র। এটি আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সুযোগ।
২০১৫ সালে পাঠাওর যাত্রা শুরু হয়। এটি এখন দেশের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পাঠাওয়ের সার্ভিসগুলোর মধ্যে রাইড শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। সেইসঙ্গে আমাদের রয়েছে পাঠাও কুরিয়ার, পাঠাও ফুড, পাঠাও টং (গ্রোসারিজ ডেলিভারি), পাঠাও হেলথ (টেলিমেডিসিন সেবা এবং মেডিসিন ডেলিভারি) ইত্যাদি। এ ছাড়া শিগগিরই 'পাঠাও পে'র মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক) সার্ভিসও চালু করতে যাচ্ছি আমরা।
পাঠাওয়ের লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান তৈরি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রাকে যতটা সম্ভব সহজ করে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠাও টিম প্রতিনিয়ত নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে চলেছে। আরও একটা বিষয় বেশ স্পষ্ট যে, কভিড-১৯ মহামারিতে প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভ্যস্ততা বেড়েছে। ডিজিটাল জীবনযাত্রায় গ্রাহকের এই নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়টি পাঠাওসহ ইন্টারনেটনির্ভর সেবার জন্য সুফল বয়ে এনেছে। এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
মহামারিকালে অন্যান্য ই-কমার্স, কুরিয়ার ও ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের মতো সেবার চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। করোনাকালে সহস্রাধিক ডেলিভারি এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছি আমরা। তৃতীয় লিঙ্গের ৫০ জনকে চাকরিতে নিযুক্ত করেছি। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালক ও যাত্রীদের জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু করা, রাইড শেয়ারিংয়ে কমিশন কমিয়ে আনা, গ্রাহকদের জন্য 'পে লেটার' ফিচার, ফুড ডেলিভারির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি এসবই ঘটেছে এ সময়ে।
বর্তমানে দেশজুড়ে আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। দেশে প্রায় ৩০০ এবং দেশের বাইরে আরও শখানেক কর্মী রয়েছেন আমাদের। এ ছাড়া আমরা প্রায় তিন লাখ তরুণের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছি। এখন আমাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা সম্পৃক্ত রয়েছেন, যাদের ৪০ শতাংশই হচ্ছেন নারী। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে আমাদের ডেলিভারি সেবা মোট সার্ভিসের প্রায় ৪০ শতাংশ। আমরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নেপালেও মার্কেট লিডার হিসেবে অবস্থান শক্ত করেছি। তিন বছর আগে যাত্রা শুরুর পর নেপালে বর্তমানে আমরা 'বাইক', 'কার' ও 'ফুড ডেলিভারি' সার্ভিস প্রদান করছি।
আমি মনে করি, যে কোনো স্টার্টআপের সফলতা নির্ভর করে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি সমাধান করার সামর্থ্যের ওপর। পাঠাও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনগুলো সহজভাবে মেটানোর ওপর জোর দিয়েছে এবং অনেক বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
করোনাকালে আমাদের প্ল্যাটফর্মে ই-কমার্সের চাহিদা বেড়েছে তিন গুণ। এসবই ডিজিটাল লাইফস্টাইলকেন্দ্রিক মার্কেটের জন্য বেশ ইতিবাচক ধারণা দিচ্ছে। আগামী দিনে আরও বেশিসংখ্যক মানুষ ডিজিটাল লাইফস্টাইলমুখী হবেন। তাই তাদের নির্বিঘ্ন সেবা দিতে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এ চ্যালেঞ্জকে আমরা নতুন সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছি।
লেখক

প্রধান নির্বাহী
ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাঠাও