ব্যাংকারদের চাকরি শুরুর পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ, ঋণ আমানতে সুদহার বেঁধে দেওয়া, ছাঁটাই-পদোন্নতি, ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপিমুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু সিদ্ধান্তে নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তারা। আন্তর্জাতিক অনুশীলনের বাইরে এভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করলে ব্যাংক খাতের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা। 

মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সভায় তারা ওই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় কয়েকজন এমডিও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের উদ্বেগের বিষয়টি জানাতে আজ বুধবার গভর্নর ফজলে কবিরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংগঠন এবিবির বৈঠক হতে পারে।

মঙ্গলবারের বৈঠকটি ডাকা হয় মূলত এন্ট্রি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার ২৮ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ ও শিক্ষানবিশকাল শেষে ৩৯ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার বিষয়ে। সেখানে কর্মী ছাঁটাই ও পদোন্নতি বিষয়ে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এসব নিয়ে ব্যাংকগুলোর অবস্থান বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ সভা ডাকা হয়। 

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ নিয়ে এতে আলোচনা হয়। অবশ্য এসব নিয়ে ব্যাংকগুলোর আপত্তির মধ্যে গতকাল নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নির্দেশনার কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।

ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম, মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ এন আশিকুর রহমান, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ লাবু, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজীল চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেনসহ কয়েকজন প্রধান নির্বাহী এতে অংশ নেন।

সভায় আরও বলা হয়, ভালো কর্মীর চাহিদা সবসময় আছে। করোনার মধ্যেও বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন বৃদ্ধিসহ নানাভাবে উৎসাহিত করছে। ভালো কাজ করা ব্যাংকারদের শুধু অন্য ব্যাংক নয়, অন্য প্রতিষ্ঠানও বেশি বেতন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঢালাওভাবে সবাইকে পদোন্নতি দেওয়া হলে তাতে এ খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। এসব বিবেচনায় না নিয়ে চাকরি স্থায়ী করা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনে শর্ত আরোপ না করার নির্দেশনা আপত্তিকর। 

বৈঠকে আরও জানানো হয়, করোনার কারণে ঋণ পরিশোধে ছাড় ওঠে যাওয়ার পর ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। এ নিয়ে তারা যখন দুশ্চিন্তায়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নানাভাবে আন্তর্জাতিক চর্চাবহির্ভূত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।