বিনা প্রশ্নে আবাসন খাতে আরও ১০ বছরের জন্য অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি তুলে ধরেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছর রেকর্ড ২০ হাজার ৬০০ কোটি অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হয়েছে। ১১ হাজার ৮৫৯ জন করদাতা এই অর্থ বৈধ করেছেন। এই টাকা বিভিন্নভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যেত। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হওয়ায় দেশ সুফল পেয়েছে। এনবিআর দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে।
আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করার আহ্বান জানিয়ে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, গেইন ট্যাক্সের বর্তমান হার কমিয়ে সব মিলিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে দ্বিতীয়বার ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচার প্রচলন করা দরকার। এতে একই সম্পত্তি একাধিকবার হাত বদলের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। আবাসন শিল্পের জন্য 'সেকেন্ডারি বাজার' সৃষ্টিসহ উন্নত দেশের মতো 'রিয়েল এস্টেট মার্কেট' ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বর্তমানে নতুন ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে মোট নিবন্ধন ফি ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পরিশোধ করতে হয় ক্রেতাকে। এই হার কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

রিহ্যাবের মতে, বর্তমানে আবাসন শিল্পের সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পটি রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূল্য সংযোজন করের (মূসক) নির্ধারিত হার কমানো খুব জরুরি। বিদ্যমান ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ মূসক কমিয়ে দেড় শতাংশ নির্ধারণ করা এবং নতুন করে মূসক আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

কয়েক বছর ধরে গৃহায়ন শিল্প গভীর সংকটে রয়েছে মন্তব্য করে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, এ শিল্পের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বেশিরভাগ ডেভেলপার উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। বর্তমানে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আয়করের উচ্চ হারের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় আয়কর কমানো জরুরি।

তিনি বলেন, জমির মালিকের জন্য নির্ধারিত ১৫ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ৪ শতাংশ করা প্রয়োজন। রাজউক ও সিডিএর আওতাধীন ও বহির্ভূত এলাকায় জমির ক্ষেত্রে নতুনভাবে ৪ ও ৩ শতাংশ হারে কর নির্ধারণের ফলে আবাসন খাতে ক্রেতাদের ব্যয় বাড়ছে। সংকটে থাকা আবাসন খাত রক্ষার্থে এই কর প্রত্যাহার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সাপ্লায়ার ও ভেন্ডরের কাছ থেকে ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহের জন্য ডেভেলপারদের সংগ্রহকারী হিসেবে চিহ্নিত করে একতরফাভাবে দায়িত্ব ন্যাস্তক্রমে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করায় এই খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাপ্লায়ার ও ভেন্ডরের ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহকারীর দায়িত্ব থেকে ডেভেলপারদের অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ঢাকা জেলাসহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মধ্যে পাঁচ বছরের জন্য এবং পৌরসভার বাইরের এলাকায় নগরায়ণকে উৎসাহিত করতে ১০ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে ব্যবস্থা প্রবর্তন করা প্রয়োজন।
এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আবাসন একটি বড় খাত। প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হবে।