মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের অনুপম দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর আবার সমাগত। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন- ঈদ কি সোমবার, নাকি মঙ্গলবার। আজ রোববার সন্ধ্যায়ই এ প্রশ্নের জবাব মিলবে। আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর, অন্যথায় ঈদ হবে মঙ্গলবার। আজ তাই আকাশে শাওয়ালের এক ফালি চাঁদ খুঁজবে কোটি কোটি চোখ।

আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ঈদের দিন চূড়ান্ত হবে।

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে কোমলমতি শিশুদের উচ্ছ্বাস আর উল্লাস, স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈহুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো। ঈদ মানে কোলাকুলি, করমর্দন।

ঈদ মানে প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেওয়া। নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাইবোনদের সঙ্গে একত্র হওয়া। নতুন জামাকাপড় পরা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মানুষ এখন প্রস্তুত। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন।

গত দুই বছর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঈদ উদযাপিত হয়েছে সীমিত পরিসরে। ঈদগাহের পরিবর্তে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। এবার আবার ঈদের জামাত ফিরছে উন্মুক্ত ময়দানে, ঈদগাহে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আজ মাগরিবের নামাজের পর ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি ফরিদুল হক খান দুলাল। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে তা ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ নম্বরে কিংবা সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

রাজধানীতে এবার ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায়। বরাবরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার হবে। ঈদ উপলক্ষে মুদ্রিত সংবাদপত্র বন্ধ থাকবে তিন অথবা চার দিন।

ঈদের দিনে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীর বাড়িতে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার চিরায়ত রেওয়াজও পালিত হবে এবার। নতুন জামাকাপড় কমবেশি সাধ্যমতো কিনেছেন সবাই। দেশের অনেক স্থানে বসবে ঈদের মেলা, সঙ্গে বৈশাখী মেলাও। প্রতি বছর শাড়ি মেলা, পাঞ্জাবি মেলাসহ বিভিন্ন প্রকার মেলা বসে ঈদ ঘিরে।

ছেলেমেয়ে, পরিবার-পরিজনসহ অনেকেই যাবেন বিনোদন কেন্দ্রে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকে ছুটে যান পর্যটন কেন্দ্রে।

ঈদ সামনে রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাসের টিকিট কাটার জন্য হুড়াহুড়ি, ঈদের আগে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের ছাদ ভর্তি মানুষ- এসব দৃশ্য দুই বছর পর ফিরে এসেছে আবার। লঞ্চেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ঈদ উৎসবকে মহা আনন্দের এক মিলনমেলা হিসেবেই দেখা হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ মনে করেন, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে মুসলমানদের সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। মুসলমানদের ওপর নির্দেশনা রয়েছে, ঈদের নামাজের আগেই যেন ফিতরা পরিশোধ করা হয়। সঠিকভাবে জাকাতের টাকা পরিশোধ করার মাধ্যমেও গরিব মানুষের উপকার করতে হবে।

প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ: জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দু'বছর পর এবার এখানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। সকাল সাড়ে ৮টায় হবে প্রধান জামাত।

গতকাল শনিবার ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, করোনা মহামারি অতিক্রম করে দুই বছর পর ঢাকাবাসী যাতে আবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারেন, সেই আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ জামাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে চলেছে।

ডিএসসিসি জানায়, এবার একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অজু করার ব্যবস্থাও রয়েছে। আছে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট। বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ত্রিপলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।