রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিলেট-আখাউড়া বিভাগে অরক্ষিত ক্রসিং সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এগুলোর প্রায় সবই যেন মৃত্যুকূপ। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, অনুমোদন ছাড়াই ইচ্ছে মতো এসব জায়গায় ক্রসিং দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছেন। সেখান থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছে। তবে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্নিষ্টরা এর দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
রেলওয়ের সিলেট অঞ্চলের আওতায় রয়েছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা। এ তিন জেলায় মাত্র ১৯টি ক্রসিং অনুমোদিত। এর মধ্যে গেটম্যান রয়েছেন মাত্র ৭টিতে। বাকি ১২টি অরক্ষিত। সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে অবৈধ ক্রসিং রয়েছে ৫৬টি। এর মধ্যে ৩০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এর মধ্যে সিলেটের শিববাড়ি, খালেরমুখ বাজার, মোগলাবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন, মাইজগাঁও স্টেশন, মনিপুর ও মোমিনছড়া চা বাগান ক্রসিং, ফেঞ্চুগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কের বরমচাল ক্রসিং, ব্রাহ্মণবাজার-শমশেরনগর সড়কের ক্রসিং, মনু স্টেশন-শমশেরনগর রেলক্রসিং, ভানুগাছ-কুমড়াকাপন সড়কের ক্রসিং, ভানুগাছ-মুন্সিবাজার সড়কের ক্রসিং, সাতগাঁও-সিন্দুর খান সড়কের ক্রসিং, শাহজিবাজার-আশিদ্রোন সড়কের ক্রসিং ও মিরপুর-তুঙ্গেশ্বর মাছবাজার ক্রসিং রয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, লাইন স্থাপনের ১০ বছরের মধ্যে ক্রসিং প্রয়োজন হলে তা নির্মাণ করে রেলওয়ে। অন্য কোনো বিভাগের সড়ক নির্মাণের পরে ক্রসিং প্রয়োজন হলে, ওই বিভাগকেই ব্যারিয়ার ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হবে। যে কারণে বেশিরভাগ সময় অনুমোদন ছাড়াই ক্রসিং তৈরি করে এলজিইডি, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্য সংস্থাগুলো।
আঞ্চলিক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম খান বলেন, সিলেট অঞ্চলের অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধে তাঁদের পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রণালয়ে ২০০৯ সালে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীর (২) পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় দেশের সব অবৈধ রেলক্রসিং বাতিল করতে প্রজ্ঞাপন দেয়। পরে এলাকার স্বার্থে এসব ক্রসিং নিরাপদ করতে স্থানীয়ভাবে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন রেল সচিব।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এর দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। যে কারণে ওই নির্দেশনা আর বাস্তবায়িত হয়নি বলেও জানান আশরাফুল আলম।