ময়মনসিংহ সদরের খাগডহর ঘুণ্টি রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার রয়েছেন তিনজন। মুক্তগাছা থেকে ময়মনসিংহ শহরে ঢোকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশের এই ক্রসিংয়ের এক পাশে ব্যারিয়ার রয়েছে। অন্য পাশ খালি। বাঁশ দিয়ে যানবাহন আটকানো হয় সেখানে।
ওই ক্রসিংয়ের কিপারদের একজন কবির হোসেন। ১২ বছর ধরে নিজে দায়িত্ব পালন করেন না। সাবেক কর্মী নূরনবী তাঁর বদলি (প্রক্সি) খেটে দিতেন। এ জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা পেতেন তিনি। ওই ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী অন্যজন আবুল কাশেম বলেন, তিনি এখানে ১০ বছর ধরে কাজ করছেন। সহকর্মী রুবেল ও তাঁকে ১২ ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। যদিও ৮ ঘণ্টা কাজ করার কথা তাঁদের।
১০ বছরের কর্মজীবনে অপর সহকর্মী কবিরকে কোনোদিন গেটে কাজ করতে দেখেননি। কাশেম বলেন, কবিরের দায়িত্ব পালনের যে সময় বেঁধে দেওয়া, তখন দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?
অভিযুক্ত কবির বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁর কথা শোনেন না। যে কারণে অন্য কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেন। নিজের বেতন থেকে তাঁদের কিছু টাকা দেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেওয়াটখালীতে রেল কলোনিতে কবির হোসেনের নামে বরাদ্দ টি-৫ নম্বর বাসাটি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন ৮ হাজার টাকায়। একটি কক্ষে মাঝেমধ্যে তিনি থাকেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সারাবছরই থাকেন ঢাকায়।
রেলওয়ের ময়মনসিংহ প্রকৌশল বিভাগের অধীনে রয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে ময়মনসিংহ সদরের বিদ্যাগঞ্জ, ময়মনসিংহ জংশন থেকে গৌরীপুর হয়ে ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী, নেত্রকোনার জারিয়া-ঝানজাইল ও মোহনগঞ্জ এলাকা। এসব রেলপথে দিনে ২১ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। চারটি লাইনে অনুমোদিত রেলক্রসিং রয়েছে ১০০টি। আরও শতাধিক ক্রসিং অবৈধ। অনুমোদন আছে গাজীপুরের শ্রীপুর-ময়মনসিংহ-বিদ্যাগঞ্জ রুটের অন্তত ৪০টি, ময়মনসিংহ-আঠারবাড়ী রুটে ২০টি, গৌরীপুর-জারিয়ায় ১০টি এবং গৌরীপুর-মোহনগঞ্জ রুটে ৩০টি ক্রসিংয়ের। অনুমোদনহীন ক্রসিংয়ের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ-গফরগাঁও রুটের কাউরাইদ, নগরীর মিন্টু কলেজ ক্রসিং, নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ ও জারিয়া পর্যন্ত বিশাল এলাকা পড়েছে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার আওতায়। এ এলাকায় ২০২১ সালের জুন থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ৫৬টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক চন্দ্র পাল বলেন, ক্রসিংয়ে কম হলেও ট্রেনের ধাক্কা ও কাটা পড়েই বেশি মৃত্যু হয়েছে।
রেলওয়ের ময়মনসিংহের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, অনুমোদনহীন ক্রসিং তাঁদের জন্য ঝামেলার। এতে ট্রেনের গতি কমে যায়, দুর্ঘটনাও ঘটে। নতুন যেসব এলাকায় পাকা সড়ক হয়েছে, সে এলাকায় ক্রসিং দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
জনউদ্যোগ ময়মনসিংহের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, ক্রসিংসহ সর্বত্র অব্যবস্থাপনা। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরছে রেল।