বাড়ির সামনেই কবর লিটন মুন্সি ও নাসির উদ্দিন সরদারের। তাঁদের কবর প্রতিদিনই স্বজনদের মনে করিয়ে দেয় প্রিয়জন হারানোর বেদনা। লিটনের বাবা-মা আর্থিক সংকটে দিন পার করছেন, নেই ওষুধ কেনারও সামর্থ্য। নাসিরের ভাই আনোয়ার সরদার ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। সরকারের তরফ থেকে নাসিরের কবর বাঁধিয়ে (পাকা করে) এর ওপরে মৃত্যুর কারণ লিখে দেওয়া হবে- এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর পরিবারের।

মাদারীপুরের লিটন মুন্সি আর নাসির উদ্দিন সরদার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন। এই দু'জনসহ নিহত চারজন এবং আহত তিনজন মিলিয়ে মোট সাতজনের বাড়ি মাদারীপুরে। লিটন ও নাসির ছাড়াও নিহত হন রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের সুফিয়া বেগম এবং ক্রোকিরচর গ্রামের যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ সেন্টু। আহত হন কালকিনি পৌরসভার বিভাগদী গ্রামের হালান হাওলাদার, কৃষ্ণনগর গ্রামের কবির হোসেন এবং ঝাউতলা গ্রামের সাইদুল হক সরদার।

নিহত লিটন মুন্সির বাড়ি রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামে। ইউনিয়ন যুবলীগের এই নেতা ঢাকায় থাকলেও পরিবারের সদস্যরা থাকতেন গ্রামের বাড়িতে।

লিটনের বাড়ি গিয়ে জানা গেল, তাঁর মা আছিয়া বেগম ও বাবা আইয়ুব আলী মুন্সি বয়সের ভারে এখন অচলপ্রায়। নানা রোগ-শোক বাসা বেঁধেছে তাঁদের শরীরে।

লিটনের মৃত্যুর পর সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা পেয়েছিল পরিবারটি। ৫ লাখ টাকা বাবা আইয়ুব মুন্সির নামে আর বাকি ৫ লাখ টাকা লিটেনর মেয়ে মিথিলার নামে ব্যাংকে সঞ্চয় করে রাখা আছে। বর্তমানে লিটনের বাবা কাজকর্ম করতে না পারায় সংসারের কোনো উপার্জনকারী নেই। ওষুধ কেনার মতো সামর্থ্যও নেই তাদের। সরকার থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতি মাসে লিটনের বাবা-মায়ের ওষুধের জন্য খরচ হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা।

আইয়ুব আলী মুন্সি বলেন, বর্তমানে কাজ করার ক্ষমতা নেই তাঁর, নেই বেঁচে থাকার অবলম্বনও। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তিনবার চিঠি লিখলেও কোনো জবাব পাননি। ছেলে লিটন হত্যার খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে- মৃত্যুর আগে সেটাই দেখে যেতে চান।

নাসিরের কবর সংরক্ষণ চায় পরিবার: নিহত শ্রমিক লীগ নেতা নাসির উদ্দিন সরদারের বাড়ি কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামে। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পরই বাবা পালান সরদার মারা যান। এর কিছুদিন পর নাসিরের ছোট ছেলে নাজমুলও মারা যায়। বর্তমানে নাসিরের বৃদ্ধা মা হাওয়া বেগম, স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও ছোট ভাই আনোয়ার সরদার থাকেন গ্রামে। আনোয়ার ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, সংসারও চালান।

হাওয়া বেগম বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এখন আর তাঁদের খোঁজ করেন না। তাঁর ছেলে নাসিরের কবরটা সরকারের তরফ থেকে বাঁধিয়ে (পাকা করে) এর ওপরে মৃত্যুর কারণ লিখে দিলে সান্ত্বনা পেতেন। জীবিত থাকতেই ছেলে হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হোক- এটাই তাঁর প্রত্যাশা।