বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করেই মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ তার স্বকীয় উন্নয়ন কৌশলের সূচনা করেছিল। এই কৌশলের নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়টা আসলেই ছিল বৈরী। রাস্তাঘাট, সেতু, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো ছিল বিপর্যস্ত। সেগুলোর পুনর্নির্মাণ ছাড়াও কোটিখানিক শরণার্থীর পুনর্বাসনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা তাঁকে করতে হয়েছিল। ওই সময়টায় খাদ্য সংকট ছিল তীব্র। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাদ্য উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত করেছিল। আর ছিল নোংরা খাদ্য কূটনীতি। পাকিস্তানের নেতিবাচক কূটনীতির প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিএল-৪৮০ তথা খাদ্য সাহায্য বন্ধ করে দেয়। ১৯৭৩ সালে ওপেকের নিয়ন্ত্রণে থাকা জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারিত করা হয়। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের কারণে সারাবিশ্বেই মূল্যস্ম্ফীতি বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের মূল্যস্ম্ফীতি ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অথচ খাদ্য মজুত ছিল খুবই সামান্য। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ছিল বাড়ন্ত অস্থিরতা। নতুন দেশ। আশা ছিল সবাই মিলেই স্বদেশকে গড়বেন। কিন্তু অসিহষ্ণু প্রবীণ ও নবীন রাজনীতিকরা তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছিলেন। বাংলাদেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি তো ওত পেতেই ছিল দেশে অশান্তি তৈরি করার জন্য। 'হক কথা'র 'নাহক' বার্তা মানুষকে অস্থির করে তুলেছিল। 'গণকণ্ঠ'ও কম যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সদ্য স্বাধীন দেশের কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধু দিক হারাননি। মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মূল ধারাকেই আঁকড়ে ধরে থাকলেন।

সে সময়ের চরম দুর্যোগ-দুর্বিপাকের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু আগামীর সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপায়ণে ছিলেন লক্ষ্যভেদী। এমন সংকটকালেও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পরিকল্পনা কমিশন। সেখানে জড়ো করেছিলেন দেশের শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের। ১৯৭৩ সালেই তিনি জাতিকে উপহার দেন প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। ওই পরিকল্পনার মূলে ছিল মানুষ। মানুষকেই তিনি প্রকৃত সম্পদ মনে করতেন। তাই তো প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মুখবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, 'বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাগুলোকে আলাদা করা যায় না। ... একটি পরিকল্পনা, যেটা যত ভালোভাবেই প্রস্তুত করা হোক না কেন, বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না যদি না দেশের মানুষ এ জন্য কঠোর পরিশ্রম ও প্রয়োজনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে বদ্ধপরিকর না হয়।' মানুষের অংশগ্রহণে উন্নয়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তিনি বিপ্লবোত্তর চীনে দেখেছিলেন। সে দেশের কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংস্কারে যেভাবে সুসংগঠিত সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন সে বিষয়গুলো তিনি তাঁর নয়া চীন সফরের সময় তন্ন তন্ন করে দেখেছিলেন। সুসংগঠিত মানুষের সমাবেশে যে সবার জন্য উন্নয়ন সম্ভব সেই ধারণাটি তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল। তাই স্বদেশি কায়দায় শুধু সমাজতন্ত্র চালু নয়, মানুষকে সংগঠিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন।

তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি 'জাম্প' করেন না। তিনি 'অ্যাডভেঞ্চারিস্ট' নন। তিনি চলেন ভেবে-চিন্তে। ধীরে ধীরে। তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাই মাটিঘেঁষা। ইতিহাস-সংলগ্ন। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী ময়দানে তাই তো তাঁকে বলতে শুনি, 'আমার মাটির সঙ্গে, আমার মানুষের সঙ্গে, আমার কালচারের সঙ্গে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে, আমার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেই আমার ইকোনমিক সিস্টেম গড়তে হবে।' সে কারণেই তিনি কৃষি ও শিল্পের যুগপৎ উন্নয়নে বিশ্বাসী ছিলেন। চা, পাট, বস্ত্র, চামড়াশিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তাঁর চিন্তা, চেতনা ও মননে ছিল শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। মানুষের কল্যাণে যা যা করা দরকার, তাই করতে তিনি সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তাঁর উন্নয়ন কৌশলে মানুষই যে প্রকৃত সম্পদ সে কথা বিশ্বাস করতেন। তিনি উন্নয়নের জন্য এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির পক্ষে ছিলেন, যেখানে মানুষ একটি দীর্ঘ, সুস্থ ও সৃজনশীল জীবনযাপন করতে পারে। মানুষকে তাই তিনি উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখার পক্ষে ছিলেন। শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, তিনি বিশ্ব পরিমণ্ডলে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর দুঃখী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য নতুন এক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা বিশ্ব সভায় উচ্চারণ করেছেন। যুদ্ধ নয়, শান্তির কথা বলতে গিয়ে তিনি ধনী দেশগুলোকে গরিব দেশে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তার কথা বলতেন।

নিজ দেশে বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের কল্যাণে যে উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছিলেন, তার সুফল বাংলাদেশ পেতে শুরু করেছিল। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ৯৩ ডলার থেকে ২৭৩ ডলারে উন্নীত করতে পেরেছিলেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তিনি কৃষিতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ বরাদ্দ (২৪%) দিয়েছিলেন। এর পরেই ছিল শিল্প (২০%)। কৃষির আধুনিকায়ন তথা সবুজ বিপ্লবের সূচনা তিনিই শুরু করেছিলেন। কৃষি গবেষণায় তিনি ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিলেন। বিরি, বারি, ব্রি, বার্ক, বিনা তথা সব কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাঁরই হাতে গড়ে উঠেছে। কৃষি স্নাতকদের তিনি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জাতির বড়ই দুর্ভাগ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বকীয় উন্নয়নের এই রূপকারকে বিশ্বাসঘাতকের দল খুব বেশি দিন তাঁর এই অতুলনীয় দেশ গড়ার কাজ করার সুযোগ দেয়নি। এরপর দেশে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। স্তিমিত হয়ে যায় প্রবৃদ্ধির গতি। অঙ্গীকারবদ্ধ নেতৃত্ব যে উন্নয়নের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, সেদিন বাঙালি হারে হারে টের পেয়েছিল। সেই সময় থেকে প্রায় পাঁচ দশক পরে, বঙ্গবন্ধুকন্যা- আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একই রকম বার্তা দিয়ে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও যে অনেক দূর দেখতে পান। করোনার স্বাস্থ্যগত এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী নীতি-কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার এই সময়োচিত এবং সাহসী প্রচেষ্টা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। প্রায় ৬৫ লাখ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি সহায়ক উন্নয়ন ঘটিয়ে এক কোটি ১৩ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। দীর্ঘকাল ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি যে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল, সেটা করোনাজনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্য থেকেই প্রমাণিত হয়েছে। করোনা মোকাবিলার মাধ্যমে আমাদের যে দক্ষতা তৈরি হয়েছে এবং যে অভিজ্ঞতাগুলো অর্জিত হয়েছে, সেগুলোই প্রতিফলিত করা হয়েছে এ পরিকল্পনায়। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলেই তো প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছবে। বেশি বেশি মানুষ আয় করার সুযোগ পেলে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বাড়বে এবং তার ফলে শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশও হবে টেকসই। স্বভাবতই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশিরভাগ (৮১ ভাগ) আসবে ব্যক্তি খাত থেকে। তাই ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকে গতি দিতে যা যা করা প্রয়োজন সেগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

দুই বছর আগে যখন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি আমরা পেয়েছিলাম, তারপর দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনেকখানি পাল্টে গেছে। করোনা মহামারির কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নতুন করে আরও বেশি চাপে পড়ে যাওয়া থেকেই বর্তমান সংকটের শুরু। বর্তমান নেতৃত্বের গুণেই করোনা সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আমরা অন্য অধিকাংশ দেশের তুলনায় ভালো করেছি। তারপর যখনই অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনরুদ্ধার গতি পেতে শুরু করেছিল ঠিক সে সময়টায়ই এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের কারণে আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ এসে হাজির হয়েছে।
এ শতকের শুরুর দশকের শেষ ভাগের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় এবং করোনাজনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা সামাল দেওয়া- এ দুই ক্ষেত্রেই আমরা সফল হয়েছি আমাদের শক্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তির জোরে। এবারও আমরা প্রথম থেকেই সবাইকে আশ্বস্ত করে আসছি, ওই সামষ্টিক-অর্থনৈতিক ভিত্তির জোরে এই সংকটও আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব এবং এ ক্ষেত্রে অন্য অধিকাংশ দেশের তুলনায় আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। তবে এই বিশ্ব সংকট কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনও কারও জানা নেই। কাজেই সামনে আরও বহু ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ যে রয়ে গেছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার আগামী দিনে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন। সে জন্য কৃষিতে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। স্বকীয় উন্নয়নের এটিই পরীক্ষিত পথ। এর বাইরেও আমাদের সামষ্টিক-অর্থনীতিকে যে কোনো মূল্যে স্থিতিশীল রাখতেই হবে। সে জন্য স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয় আলাদা মনোযোগের দাবি রাখে। এ জন্য পারস্পরিক দোষারোপ এবং মিথ্যা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যেন বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও জোরদার করা যায়। এ জন্য মনিটরিং শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলতে পারে। তিন মিলিয়ন ডলারের বেশি এলসির গভীর মনিটর করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর সুফলও মিলছে। প্রয়োজনে এক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত এলসিকেও এমন ধারার মনিটরিংয়ের আওতায় আনা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি টাকা খরচের পেছনে খানিকটা বিদেশি মুদ্রা খরচের বিষয়টি রয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা রড, বিটুমিন, পরামর্শক বাবদ খরচ প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পেই করতে হয়।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দেওয়াও নিতান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আরএমজির বাইরে অন্য পণ্য রপ্তানিতেও যে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। পশ্চিমের দেশগুলো চীন-রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর যে প্রবণতা দেখাচ্ছে তার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। মুডি'স, এসঅ্যান্ডপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা বারবার জানিয়ে দিচ্ছেন যে বাংলাদেশের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ-জিডিপি অনুপাত একটি নিরাপদ জায়গায় রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বেশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার এখনই সময়। একই সঙ্গে বহুজাতিক ও জাইকার মতো দ্বিপক্ষীয় সংস্থা থেকে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করে যেতে হবে। পাইপলাইনে থাকা বিপুল পরিমাণের এমন ঋণ ছাড় করাতে ইআরডি ও সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে আরও অনেক দিন। তাই প্রবাসী আয় বাড়ানোর দিকে সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করা চাই। এ লক্ষ্যে তাঁদের জন্য চালু করা বিভিন্ন ধরনের ডলার বন্ড অটো-রিনিউয়ালসহ নিয়মনীতি সহজতর এবং ডিজিটাল করতে হবে। তাঁদের জন্য বিমানবন্দর, কনসুলার সেবা এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সামাজিক সুরক্ষার জন্য পেনশনসহ নানামুখী সুযোগের দিকে বিশেষ নীতি সমর্থন দিতে হবে।
টাকা-ডলার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে অনেকটা অগ্রগতি হলেও এখনও রপ্তানিকারকদের বিনিময় হার আর রেমিট্যান্স যাঁরা পাঠাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিনিময় হারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ধীরে ধীরে এই পার্থক্যও কমিয়ে আনতে হবে। সবার জন্য একই হার করার উদ্যোগ নিতে হবে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বিদেশি মুদ্রাবাজার আরও সচল হবে এবং পুরো বিদেশি মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হবে। শুধু বিদেশি মুদ্রাবাজার নয়, অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার করতে হবে; যাতে করে আমরা সামষ্টিক-অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল রাখতে পারি। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি সংস্কার অব্যাহত রেখে আমাদের স্বকীয় উন্নয়ন কৌশলকে আরও সক্ষম ও জনবান্ধব করার প্রশ্নে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে সমান মনোযোগী এবং অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। সবাই মিলে আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়তে চাই শান্তি ও প্রগতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর