বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই তারকাদের নিয়ে মাতামাতি। কারিকুরি বা ফিনিশিং টাচে কোন তারকা হৃদয় জিতে নিলেন এ নিয়ে হয় বিস্তর আলোচনা। বিশ্বকাপে আলো ছড়াবেন কে বা কারা জানার আগ্রহ থাকে সমর্থকদের মাঝে। কে হবেন টুর্নামেন্ট সেরা, কে পাবেন গোল্ডেন বল, কে পাবেন গোল্ডেন বুট জিজ্ঞাসু মন খুঁজে ফিরে সেসব। মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পে নাকি অন্য কারও হাতে উঠবে মর্যাদার এ পুরস্কার। ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার দেওয়া হয় গোল্ডেন বল। গেল ১২ বিশ্বকাপে ১২ জন আলাদা ফুটবলার জিতেছেন এই পদক। দু'বার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড নেই কারও। ২০১৪ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা ছিলেন লিওনেল মেসি। গোল করার পাশাপাশি গোল করাতেও পারদর্শী আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কাতারে গোল্ডেন বল জিতে নতুন করে ইতিহাস লেখাতে পারেন কিনা তা দেখার।

বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জিতে নিতে পারলেও বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা হয়নি মেসির। পুরো ক্যারিয়ারে একবার কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ই জাতীয় দলের হয়ে সেরা সাফল্য তাঁর। তাই মেসিভক্তদের প্রত্যাশা শিরোপা জিতে বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ করবেন প্রিয় তারকা। তাঁর হাত দিয়ে আর্জেন্টিনারও শিরোপাখরা কাটুক কাতারে।

টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে স্কালোনির শিষ্যরা। মেসিসহ দলের অন্য খেলোয়াড়রা আছেন দারুণ ছন্দে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই মৌসুমে ১১ গোল করেছেন মেসি। পাশাপাশি আছে ১২টি অ্যাসিস্ট। মেসি জ্বলে উঠলে সেদিন মাঠে বাকিরা হয়ে থাকেন দর্শক। মার্টিনেজ, হুয়ান, নিকোলাসসহ তারুণ্যের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা। ফেভারিটের তকমা নিয়েই দোহায় পড়ি জমিয়েছেন তাঁরা। বিশ্বকাপের বাঁশি বাজবে আজ থেকে। মেসিরাও ফুটবল মহারণে উজাড় করে দেবেন বিজয়মঞ্চ খুঁজে পেতে।

নেইমারের বিশ্বমানের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পুরো মাঠে তাঁর বিচরণ মুগ্ধ করবে যে কাউকেই। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার তাঁর সেরা বিশ্বকাপ খেলেছেন রাশিয়ায়। নিজের দমটা ধরে রেখেছেন এখনও। কাতারেও ব্যতিক্রম হবে না- এমন প্রত্যাশা ব্রাজিল সমর্থকদের।

আগস্টে নেইমার নিজের মৌসুম শুরু করেছেন আগুন গতিতে। লিগে সাত গোলের পাশাপাশি আছে ছয়টি অ্যাসিস্ট। ২০২২-২৩ মৌসুমে লিগ মৌসুমে ২০ গোলে অবদান রেখেছেন নেইমার। বল এতটাই নিজের দখলে রাখতে পারেন, যে কারণে অন্যদের চেয়ে একটু আলাদাই এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। শীর্ষ পাঁচ ইউরোপীয় লিগে সেরা 'ফ্রিকুয়েন্ট প্রগ্রেসিভ ক্যারিয়ার' তাঁর। কাতার বিশ্বকাপে নেইমারের কাছে প্রত্যাশাটা থাকবে একটু বেশিই। নান্দনিক ফুটবল খেলা নেইমার বিশ্বকাপে আর তিনটি গোল করলেই সমন্বিতভাবে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের মালিক হবেন। জাতীয় দলের হয়েও ৭৫টি গোল আছে তাঁর। মাঠে নেইমারের সতীর্থরাও আছেন দারুণ ছন্দে। গোল পোস্টের সামনেও থাকছেন তারকা অ্যালিসন বেকার। সব মিলিয়ে কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সম্ভাবনা অনেক।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের পাওয়ার হাউজখ্যাত। মেসির মতো তাঁরও এটি শেষ বিশ্বকাপ।

কারণ, ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় রোনালদোর বয়স হবে ৪১ বছর। তাই জাতীয় দলের হয়ে কাতার বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণ করার শেষ সুযোগ এই স্ট্রাইকারের সামনে। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হতে কাতারে দুটি গোল করতে হবে রোনালদোকে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাঁর গোলের সংখ্যা সাত। ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকে ৪০ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন সিআর সেভেন। গেল মাসে ক্লাবের হয়ে ৭০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে ১৯১ ম্যাচে ১১৭টি গোল আছে তাঁর। কাতার বিশ্বকাপে সিআর সেভেনের কাছে সেরাটাই প্রত্যাশা থাকবে ভক্তদের। যে পর্তুগালের বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়া ছিল পেন্ডুলামের মতো, সে দলেরও সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

পর্তুগিজ দলে ২৬ বছর বয়সী আন্তোনিও সিলভার সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পেপের অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে চমক দেখাতে পারে ইউরোপের দলটি।

কিলিয়ান এমবাপ্পে স্বপ্টেম্নর মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। বয়সভিত্তিক ইউরো মাতিয়ে ২০১৭ সালে ফ্রান্সের জাতীয় দলে ডাক পান। পরের বছর ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপেই দেখান ঝলক। প্রথম বিশ্বকাপেই ট্রফি নিজের করে নেন ১৯ বছরের এমবাপ্পে। চার বছর পেরিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন পিএসজি স্ট্রাইকার। ২৩ বছর বয়সী এমবাপ্পে এবার আরও পরিণত। দিদিয়ের দেশম টানা দ্বিতীয় ট্রফি জেতার মিশনে তাঁর ওপরই রাখছেন আস্থা। লিগ ওয়ানে ১৩ ম্যাচে ১১ গোল করে নেইমারের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় ম্যাচে করেছেন সাত গোল। এমন পারফরম্যান্সের পর কাতার বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশাই থাকবে তাঁর কাছে।

এ ছাড়া কাতার বিশ্বকাপে চোখ থাকবে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, জার্মানির থমাস মুলার, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর। চমক দেখাতে পারেন পেদ্রি, রদ্রিগো, মুসেইলা সাকা, ফার্নান্দেজসহ বেশ কয়েকজন।