বিশ্বকাপ মানেই হরেক রঙের মেলা। সেই মেলায় কেউ তরুণ, কেউ বুড়ো, কেউ আবার নবাগত। এসবের বাইরে এমন কয়েকজন তারকা আছেন, যাঁরা কিনা নিজেদের জন্যই ফুটবলবিশ্বে পরিচিত। আবার ক্লাব ফুটবলেও দারুণ সুনাম তাঁদের। কিন্তু দেশের হয়ে বড় কোনো সফলতা এখনও জেতা হয়নি, ভবিষ্যতে জেতাটা কঠিন। কেননা তাঁদের রাজ্যে তাঁরাই রাজা! এমন চার তারকা হলেন- পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডভস্কি, কোস্টারিকার কেইলর নাভাস, ওয়েলসের গ্যারেথ বেল আর দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিয়াং মিন।

রবার্ট লেভানডভস্কি
ক্লাব ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন রবার্ট লেভানডভস্কি। ৩৪ বছর বয়সেও যেভাবে মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছেন, তাতে লেভাকে নিয়েই বেশি ভয়ে থাকে প্রতিপক্ষগুলো। হয়তো তাঁর জন্মটা জার্মানি বা ফ্রান্সে হলে এতদিনে দু-একটা বিশ্বকাপ জিতেই ফেলতেন। কিন্তু পোল্যান্ডের এই মহাতারকা নিজ দেশকে চাইলেও সেভাবে রাঙাতে পারছেন না। এবারও তাঁর পানে চেয়ে থাকবে পোলিশরা। কিন্তু একা কতদূর করবেন। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় পোল্যান্ড। তিন ম্যাচ থেকে কেবল একটিতে জেতে তারা। লেভানডভস্কিও ভালো করতে পারেননি। এবার তাঁর সামনে মেসির আর্জেন্টিনাও আছে। পাশাপাশি সৌদি আরব ও মেক্সিকো। তবে পোলিশদের আশা দেখাচ্ছে লেভার বিশ্বকাপের আগের ফর্ম। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সায় আসার পরও থেমে নেই। নিয়মিত গোল পাচ্ছেন তিনি। যেটি কাতারেও রাখতে পারে বড় অবদান।

কেইলর নাভাস
২০১৪ বিশ্বকাপ খেলতে এসে সবাইকে চমকে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ফেলে কোস্টারিকা; যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসেই এখন পর্যন্ত সেরা সাফল্য। আর এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিলো 'বাজপাখি' খ্যাত কোস্টারিকান গোলকিপার কেইলর নাভাসের। সেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ কিনে নেয় এই কোস্টারিকান গোলকিপারকে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্সলীগ লীগ জেতা এই গোলকিপার; ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে উয়েফার বর্ষসেরা গোলকিপার নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে এই কোস্টারিকান রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে পাড়ি জমান। বর্তমানে পিএসজির গোলবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নাভাস। ২০১৪ বিশ্বকাপের মতো কাতার বিশ্বকাপেও এই বাজপাখির উপরই দারুণ কিছুর জন্য ভরসা করে আছে পুরো কোস্টারিকাবাসী।

গ্যারেথ বেল
ক্লাব ক্যারিয়ারে তাঁর সময়টা ভালো যাচ্ছে না। রিয়াল মাদ্রিদে দিনের পর দিন বসে কাটানোর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে যেতে হলো তাঁকে। সেখানেও শান্তি নেই। চোট আবার অফ ফর্ম তাঁর পিছু ছাড়ছে না। তবু ওয়েলস ফুটবল দলের ত্রাতা এই গ্যারেথ বেল। জাতীয় দলের জার্সিতে ঠিকই বদলে যাবেন তিনি- এমন বিশ্বাস ওয়েলস সমর্থকদের। দেশটির বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা একেবারে কম। এবারের আগে মাত্র দু'বার ফুটবলের মহামঞ্চে খেলেছে দেশটি, যার মধ্যে আবার চমক ১৯৫৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটা। তার পর লম্বা সময় আর বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি তাদের। এবার আবার কাতারে খেলবে। বাছাইয়ে দারুণ পারফর্ম করা দেশটির লক্ষ্য গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনো। দলে গ্যারেথ বেল ছাড়াও ভরসা দেওয়ার মতো কয়েকজন আছেন। তবে মূল আস্থার জায়গা বেল। একটা সময় রোনালদো, বেনজেমা আর বেলকে নিয়ে গড়া লস ব্ল্যাঙ্কোসদের আক্রমণভাগের ত্রয়ী বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই সময়ের বেলকে যদি এবার কাতারে দেখা যায় তাহলে তো ওয়েলসের জন্য স্বস্তির।

সন হিয়াং মিন
দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণভাগের মূল তারকা সন হিয়াং মিন। এশিয়া থেকে হাতেগোনা যে ক'জন ইউরোপে পরিচিত, তাঁদের মধ্যে সন অন্যতম। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহামে খেলছেন অনেক দিন ধরেই। ইংলিশ তারকা হ্যারি কেনের সঙ্গে তাঁর রসায়নটা দারুণ মেলে। গতির সঙ্গে ড্রিবলিংয়েও প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে পারেন সন। বিশেষ করে সেট পিচে খুবই দক্ষ তিনি। পাশাপাশি নিখুঁত ফিনিশিং, লং শটে দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং মাপা ক্রসে সতীর্থকে বল বানিয়ে দেওয়ার যে জাদুকরী শৈলী আছে তাঁর মধ্যে, সেটি কাতারের মাটিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের উপভোগের উপলক্ষ হতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়টা তাঁর ভালো যাচ্ছে না। টটেনহামের হয়ে নিয়মিত গোল পাচ্ছেন না তিনি। সেই সঙ্গে আবার চোটের ছোবলও খেতে হয়েছে। যেটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আবার দুশ্চিন্তার। তবে দেশের জার্সি গায়ে যদি চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন সন, তাহলে গ্রুপ পর্বে বড় প্রতিপক্ষকেও কাঁপিয়ে দিতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও বিশ্বকাপে দেশটি প্রায়ই ঝলক দেখায়। এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি এই দক্ষিণ কোরিয়া। গত বিশ্বকাপে তারা সেভাবে পারফর্ম করতে পারেনি। তবে এবার সনের কাঁধে চড়ে গ্রুপ পর্বের বাধাটা পেরোতে চায়। যদিও কাজটি তাদের জন্য সহজ হবে না। ২০ নভেম্বর থেকে কাতারে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে উরুগুয়ে, ঘানা ও পর্তুগালকে।

বিষয় : 'ছোট' দলের বড় তারকা

মন্তব্য করুন