তৃণমূলের মানুষকে সম্পৃক্ত না করায় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে সফলতা আসছে না। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে ৷ সমাজের বৈষম্য দূর করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থা সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে ৷

সোমবার সমকাল ও বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর আয়োজিত ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ও অগ্রগতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনসিডিনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী। এই আয়োজনে সহযোগিতা করে সুইজারল্যান্ড সরকার।

আলোচকরা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তৃণমূলের মানুষ যেন বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। সামাজিক সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

গোলটেবিলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। কারণ প্রকৃত দরিদ্র কারা তা নির্ধারণ হচ্ছে না। প্রত্যেক উপজেলায় একটি তালিকা করা গেলে সফলতা আসত ৷ নতুন নতুন কর্ম কৌশলের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে এনজিওগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে অসহায় মানুষ সুবিধা পেত।’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক ড. মোকতার হোসেন বলেন, ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কে এখনও অনেক সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও অবহিত নন। তাই সমাজে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।’

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘দেশ অনেক এগিয়ে গেছে, কিন্তু বৈষম্যও বেড়েছে। শহর আর গ্রামের মধ্যে বেড়েছে বৈষম্য। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, মানুষ যাতে আর বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা। তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যেন খেতে পায়, চিকিৎসা পায়। তাদের সন্তানরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, তারা যখন তৃণমূলে কাজ করতে যান, তখন লক্ষ্য করেন মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৷ এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ প্রদানে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘২০১৫ সালে অনুমোদিত জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলটি যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু পাঁচ বছর পার হলেও এ সম্পর্কে জনগণ অবগত নয়। স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে যে পরিকল্কপ্পনা দরকার, সেটি এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।’

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক শিক্ষাবিদ শরীফ শমসের বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় থাকলেও তৃণমূলের মানুষ বঞ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সামাজিক নিরাপত্তায় অনেক পিছিয়ে। তারা বারবার ঘূর্ণিঝড়ে আবাস হারিয়ে নিঃস্ব ৷ তাদের শুধু ভাতার ব্যবস্থা করলে হবে না, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে।’

ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রাষ্ট্রের এত বড় উদ্যোগ থাকা সত্বেও অনেকেই আস্থা অনাস্থার দোলাচলে থাকে। কারণ কেন্দ্র থেকে এত বড় জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ কার্যক্রমের মধ্যে নিয়ে আসা অনেক জটিল। আমাদের যে নীতি আছে, সেগুলোর সমন্বয় জরুরি। সেবামূলক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস্তবতার আলোকে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে। নগরের ও গ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পনা অনুসারে গড়ে তুলতে হবে।’

বিষয় : সমকাল-রূপান্তর গোলটেবিল

মন্তব্য করুন