বিল পরিশোধ বা টাকা স্থানান্তরে মানুষের অভ্যাস বদলাচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা পণ্য ও সেবা আনছে ব্যাংকগুলো। অ্যাপসহ বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং থেকে নিজ ব্যাংক ছাড়াও আরেক ব্যাংকের গ্রাহককে মুহূর্তে টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে। রাত কিংবা দিন যে কোনো সময় পরিশোধের সুযোগের কারণে দ্রুত বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক। গত মার্চ শেষে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

অপরাধমূলক লেনদেনের বেশিরভাগই হয় নগদে। নগদ বহনের নানা ঝুঁকি থাকে। খরচও হয় বেশি। যে কারণে বেশ আগে থেকে নগদ লেনদেন কমানোর চেষ্টা করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ডভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংকগুলোকে নানাভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ ১০ হাজার। লেনদেন হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই মাসে গ্রাহক ছিল ৪৮ লাখ ২৭ হাজার। লেনদেন হয় ২৩ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। আর পাঁচ বছর আগে একই মাসে গ্রাহক ছিল মাত্র ২০ লাখ ৭৩ হাজার। লেনদেনের পরিমাণ ছিল সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি কার্ডের সংখ্যা ও কার্ড থেকে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। গত মার্চ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা কার্ড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখের বেশি। এর মধ্যে ডেবিট ৩ কোটি ১ লাখ, ক্রেডিট কার্ড ২১ লাখ ৭৮ হাজার। প্রিপেইড কার্ড সংখ্যা রয়েছে ৩৭ লাখ। গত মার্চে সব মিলিয়ে কার্ড থেকে ৪৫ হাজার ৪১২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডেবিট কার্ডে লেনদেন ছিল ৪২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। ক্রেডিট কার্ডে ২ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। আর প্রিপেইড কার্ডে ৩২৬ কোটি টাকা।

ঘুরেফিরে কার্ড ব্যবসায় ভালো করছে কয়েকটি ব্যাংক। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষে রয়েছে বেসকারি খাতের সিটি ব্যাংক। দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে ১০ ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে– প্রাইম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ইউসিবিএল, ইস্টার্ন, ডাচ্‌-বাংলা, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও ব্যাংক এশিয়া। ডেবিট কার্ডে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্‌-বাংলা। দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামী ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে ব্যাংক এশিয়া, দ্য সিটি, সোনালী, ইউসিবিএল, ব্র্যাক, যমুনা, ট্রাস্ট ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক রয়েছে শীর্ষ তালিকায়।