২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে কারাতে থেকে স্বর্ণ জিতেছিলেন মো. হাসান খান সান। শিলং ও গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ এসএ গেমসে ছিল না কারাতের ইভেন্ট। গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত গেমসে আবারও যুক্ত হয় কারাতে। আবারও কারাতে থেকে স্বর্ণজয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু এবার ব্রোঞ্জ পদকেই আটকে যান তিনি। মনটাও ভেঙে যায় সানের।

১৭ বছর ধরে যে খেলাটিকে ভালোবেসেছেন, হঠাৎ সেই কারাতে থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা সানের। কারও প্রতি ক্ষোভ কিংবা অভিমানে নয়, একটা নিরাপদ জীবন বেছে নিতেই কারাতে ছাড়তে চান সান।

এবার বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করতে চান তিনি, 'বাংলাদেশ আনসার থেকে ভালো বেতন পাই। কিন্তু কেন যেন আমার মন বিসিএসের দিকেই পড়ে গেছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন এমবিএ করছি। দু'বছর ঘরে পড়ছি। আর দু'বছর পর এমবিএ শেষ করব। এর মধ্যে বিসিএস দেব। আমার বয়স হিসেবে এবারই আমি শেষবার বিসিএস দিতে পারব। তাই জোর চেষ্টা করছি। সারাদিন পড়ালেখার মধ্যে ডুবে থাকি। যদিও আড়াই মাস সাধারণ ছুটি থাকায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) বিসিএস পরীক্ষার নোটিশ দেয়নি। আমি চাই যেন প্রস্তুতির কোনো কমতি না থাকে। আসলে ভালো একটি জীবন কে না চায়।'

কারাতেতে অভিজ্ঞ সান। ২০০৩ সালে কারাতেতে নাম লেখালেও পদক জিততে তার লেগেছিল আরও দুই বছর। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে পদকের যাত্রা শুরু করেন সান। পরের বছরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রথম স্বর্ণজয়। এরপর ধীরে ধীরে কারাতে ডিসিপ্লিনে নিজেকে শাণিত করেন। ২০০৯ সালে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ কারাতে আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি স্বর্ণ ও একটি রুপা জিতে চমক দেখিয়েছিলেন।

পরের বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে জমজ ভাই মুনকে সঙ্গে নিয়ে দলগত জেতা স্বর্ণপদক খ্যাতি এনে দেয় আনসারের এই কারাতেকার জীবনে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আনসার ভিডিপিতে স্থায়ী চাকরি হয়েছে সানের। বাবাহারা সংসারে মা ও ভাইকে নিয়ে দিন কাটে তার। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৪৩টি স্বর্ণ এবং ৭০টি রুপা ও ব্রোঞ্জপদক শোকেসে সাজানো থরে থরে। কিন্তু এবার আর কারাতেতে মন টানছে না। সরকারি চাকরির জন্য তাই কারাতে ছাড়তে প্রস্তুত সান।

মন্তব্য করুন