২০১৯ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন কমিটি আসার পর আশার আলো দেখা যায় বাংলাদেশের হকিতে। তাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল নিয়মিত প্রিমিয়ার হকি লিগ আয়োজন করা। কিন্তু এখনও সুবাতাস মেলেনি হকিতে। প্রিমিয়ার লিগ তো দূরের কথা, দ্বিতীয় স্তরের খেলাও আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে ঘরোয়া অন্যান্য খেলাধুলার মতো বন্ধ হকিও। বৈশ্বিক মহামারি কেটে গেলেও যে হকিতে নতুন সূর্যোদয় হবে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ কভিড-১৯-এ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবগুলোর দ্বারা দল গঠন করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই করোনাভাইরাস কেটে গেলেও প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। হকির দুরবস্থা সহজেই সারছে না। সর্বশেষ ২০১৮ সালের অক্টোবরে হয়েছিল প্রিমিয়ার বিভাগ হকি।

এরপর চেয়ার নিয়ে টানাটানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়া কর্মকর্তাদের কারণে নীল টার্ফে ছিল শুধুই হাহাকার। গত বছর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একেএম মুমিনুল হক সাঈদ নির্বাচিত হওয়ার পুনরায় লিগ চালুর উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেপ্টেম্বরে মতিঝিল ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে তার নাম আসার পর বিদেশে অবস্থান করা সাঈদ আর দেশে আসেননি। কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে না পারায় ইতোমধ্যে ফেডারেশন থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশের জবাবে সাঈদ উল্টো আইনি নোটিশ পাঠান। স্থবির হয়ে পড়া হকিতে এখন শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই। এমন অবস্থায় কর্মকর্তাদের চোখ এখন মাঠের বাইরের ইস্যুর দিকে।

তার পরও অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের ক্যাম্প শুরুর পরিকল্পনা করেছে ফেডারেশন। করোনায় স্থগিত হয়ে গেছে জুনিয়র এশিয়ান হকি। সেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য মাঠে নামছেন খেলোয়াড়রা। আর ফেডারেশনও চাচ্ছে প্রিমিয়ার হকি লিগ চালু করতে। কিন্তু লিগ শুরু হওয়া না হওয়ার ব্যাপারটি নির্ভর করছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর ওপর। কারণ অনেক ক্লাবেরই আর্থিক অবস্থা খারাপ। ফেডারেশনে সাঈদের অভাব অনুভব হচ্ছে বলে মনে করেন সহসভাপতি আব্দুর রশিদ শিকদার, 'যদি ক্লাবগুলো খেলতে না চায়, তাহলে লিগ চালু করা কঠিন হয়ে পড়বে। করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান যে করোনা-পরবর্তী সময়ে হকিতে যুক্ত হতে চাইবে না, তা বলা যায়।

মন্তব্য করুন