করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃত্যু ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। মাত্র দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবগুলো দেশই বিপর্যস্ত হয়েছে এই মহামারিতে। উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দেশগুলোও এ থেকে রক্ষা পায়নি। 

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, ব্রিটেন ও ব্রাজিলসহ উচ্চমধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চ আয়সম্পন্ন দেশগুলোতে পৃথিবীর আট ভাগের এক ভাগ লোকের বাস। তবে করোনায় মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক এসব দেশেই। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছে ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের সমান মৃত্যু আর কোনো দেশে হয়নি। খবর এপি, আল জাজিরার।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী, মৃত্যুর এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিস্কোর জনসংখ্যার প্রায় সমান। 

অসলোর পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের অনুমান, ১৯৫০ সালের পর থেকে বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে হানাহানিতে যত মানুষের প্রাণ গেছে, করোনার আক্রমণে তারচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। হৃদরোগ ও পক্ষাঘাতের পর বিশ্বে এখন তৃতীয় ঘাতক রোগ করোনা। বিস্ময়কর এই পরিসংখ্যনটি অবশ্য সঠিক তথ্য নাও হতে পারে। কারণ সরকারি হিসেবের বাইরেও মানুষ মারা গেছে নিজেদের বাড়িতে। বিশেষ করে ভারতের মতো বিশাল দরিদ্র দেশে মৃত্যুর সঠিক হার কখনো উঠে আসেনি।

প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ২২ মাসে করোনার হটস্পটগুলো স্থান পরিবর্তন করেছে। বিশ্বের মানচিত্রে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ এখন রাশিয়া, ইউক্রেন ও পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ সেন্টার আইসিএপি-এর পরিচালক ড. ওয়াফা এল-সদর বলেন, ‘এই মহামারিটির একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটি হলো এটি সম্পদশালী দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে। এটি হলো এর বিড়ম্বনার দিকটা।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের প্রথম দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস।