ফাইনালের মীমাংসাটা প্রথম দুই সেটেই নির্ধারণ হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ান দুই আরচার রিও সু জাং ও লি সিউয় ইউন নিশানা ভেদ করে প্রমাণ করেছেন কেন তাদের দেশ আরচারিতে সেরা। তীর মারলেই যেন স্কোরটা ১০ হয়ে যায় তাদের! বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল এশিয়ান আরচারিতে রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতে ইভেন্টের ফাইনালে তা দেখা গেছে।

বাংলাদেশের দুই আরচার দিয়া সিদ্দিকী ও হাকিম আহমেদ রুবেল তৃতীয় সেটে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন। কোরিয়ার সমান স্কোর করে এ সেটটি টাইও করেন তারা। কিন্তু পার্থক্যটা তো প্রথম দুই সেটেই হয়ে গেছে। দিয়া ও হাকিম প্রত্যাশানুযায়ী স্কোর তুলতে পারেননি। তাতে করে সোনার পরিবর্তে রুপালি হাসিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের দুই তীরন্দাজকে। শুক্রবার এই ইভেন্টে কোরিয়ার কাছে ৫-১ সেট পয়েন্টে হেরেছে স্বাগতিকরা।

স্বর্ণ জিততে না পারলেও এই রৌপ্য জয়, বাংলাদেশের আরচারির জন্য নতুন ইতিহাস। কারণ অতীতে কখনোই এই প্রতিযোগিতায় কোনো পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার দুটি ব্রোঞ্জ এবং একটি রুপা জিতে দিয়া-রুবেলরা প্রত্যাশার পারদটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোরিয়ার আধিপত্যে শেষ হয়েছে এবারের এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ৯টি স্বর্ণ, সমান ৩টি করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ মোট ১৫টি পদক জিতে সবাইকে ছাপিয়ে কোরিয়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত একটি স্বর্ণসহ মোট ৭টি পদক জিতেছে। বাংলাদেশ ও কাজাখস্তান ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩টি পদক জিতেছে।

ফাইনালে উঠে স্বপ্ন দেখছিলেন আরচারিতে দেশের হয়ে প্রথম সোনার পদক জয়ের। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলেও হতাশ নন দিয়া ও হাকিম। শুরুর দিকে ভুল না করলে হয়তো অন্য কিছুও হতে পারত। এটা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ দিয়া ও হাকিমের। তবে দেশকে ভালো কিছু এনে দিতে হলে এই খেলার প্রতি সরকারের সহযোগিতা চাইলেন দিয়া সিদ্দিকী, 'এই প্রথম বাংলাদেশ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো ইভেন্টে ফাইনালে খেলল। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। রুপা এসেছে, এর আগে ব্রোঞ্জ এসেছে দুটো, এরপর আমরা সোনাও জিতব ইনশাআল্লাহ। আমাদের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো দিচ্ছে, সেটা যথেষ্ট। তবে হ্যাঁ, আমাদের দিকে আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। স্কুল বা কোথাও যদি আরচারির কথা বলি, তাহলে আজ একটু চিনবে, এরপর চিনবে না, আরচারির প্রতি গুরুত্বটা আরও বেশি দেওয়া উচিত এবং চাই সরকার যেন আরচারিকে সেভাবে সাপোর্ট করে। শুধু আরচারি নয়, যেসব খেলা উঠছে, সেদিকে সরকারের আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। আমাদের কিন্তু সরকার থেকে তেমন একটা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় না, সাধারণত যেটা ক্রিকেট, ফুটবলকে দেওয়া হয়।'