বিপিএলে বায়োসিকিউর বাবল হয়ে গেছে ম্যানেজড ইভেন্ট এনভায়রনমেন্ট (এমইই)। নতুন মডেলে অনেক কিছুই শিথিল করা হয়েছে। যেমন ছিল টোকিও অলিম্পিকে। পুরো দল নয়, কভিড আক্রান্ত খেলোয়াড়কে থাকতে হবে সাত থেকে ১০ দিনের আইসোলেশনে। ফলস পজিটিভ ধারণা করা হলে পরের দুই টেস্টে নেগেটিভ হলে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া যাবে। বায়ো-বাবলে থাকা খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের কারও উপসর্গ থাকলে শুধু টেস্ট করার নিয়ম। টোকিও অলিম্পিকের এ মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টে।

২০২১ সালের জুলাই-আগস্টে অলিম্পিক গেমস হলেও ম্যানেজড ইভেন্ট এনভায়রনমেন্ট মডেল প্রয়োগ করা হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল)। যেটা সফল হওয়ায় নিউ নরমাল সময়ের প্রথম বিপিএলে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানান, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপেও এমইই মডেল ছিল। তিনি বলেন, 'যে গাইডলাইনটা আমরা এই বিপিএলে প্রয়োগ করতে যাচ্ছি, এটা টোকিও অলিম্পিকের আলোকে। এখানকার বিদ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চেষ্টা করছি প্রয়োগ করতে। ঠিক কঠোর না। আগে যেটাকে বায়ো-বাবল বলা হতো, সেই কনসেপ্ট থেকে পুরো স্পোর্টস সরে এসেছে। এখন বায়ো-বাবল কথাটা উল্লেখ করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, ম্যানেজড ইভেন্ট এনভায়রনমেন্ট (এমইই)। জিনিসটা বিদ্যমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রেন্ডলি করায় বায়ো-বাবলকে কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে।'

এমইই মডেল টুর্নামেন্ট সফর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। যে কারণে বিদেশি ক্রিকেটারদের কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা। কভিড টেস্টে নেগেটিভ হলে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন তারা। সংরক্ষিত জোনে ঢুকে যাওয়ার পর উপসর্গ ছাড়া কভিড টেস্ট করা হবে না। যদিও বায়ো-বাবলে ঢোকার জন্য প্রথম টেস্টেই কভিড পজিটিভ হয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। গতকাল পর্যন্ত আটজনের মতো ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফ কভিড পজিটিভ হয়েছেন। 

আজ সিলেট সানরাইজার্স দলের সদস্যদের টেস্ট করা হলে জানা যাবে কভিড পজিটিভ হয়েছেন কতজন। যদিও গত তিন দিনের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেবাশীষ জানান, টুর্নামেন্ট ঝুঁকির মুখে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই বলে এমইই মডেলের বাড়তি সুবিধা নিলে দলগুলো ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, বায়ো-বাবল শিথিলের বাড়তি সুবিধা নিতে গিয়ে ক্রিকেটাররা কভিড আক্রান্ত হলে ক্ষতিটা ফ্র্যাঞ্চাইজিরই। 

দেবাশীষ চৌধুরীর মতে, 'এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে স্টেক হোল্ডারদের, ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা ও খেলোয়াড় অর্থাৎ যারা খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তাদের সহযোগিতা ছাড়া টুর্নামেন্ট সফল করতে পারব না। আপনাদের প্রতিবেদন আমাদের সাহায্য করেছে। আমরা যদি সচেতনতা অবলম্বন করে অংশগ্রহণ করতে পারি, এই টুর্নামেন্টও সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারব।' 

নামে নতুন হলেও খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ জোন তৈরি করেছে বিসিবি। যেখানে সাধারণদের প্রবেশাধিকার নিষেধ।