ষোলো বছর আগে রাগবি-যুগে প্রবেশ বাংলাদেশের। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের জন্ম হওয়ার ৯ বছর পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলে লাল-সবুজের দলটি। ২০১৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান রাগবি সেভেনসে নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ব্রুনাই ও লাওসকে হারানোর অভিজ্ঞতাও আছে। দেশের বাইরে এতে এত ম্যাচ খেলা নাদিম মাহমুদরা নিজের ঘরেই এতদিন খেলতে পারেননি কোনো ম্যাচ! দেড় দশক ধরে রাগবি খেলা শুরু করলেও দেশের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে না পারা আনোয়ার জামানরা ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়। আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাগবির জন্য ঐতিহাসিক একটি দিন। এই প্রথম একটি দল ঢাকায় খেলতে এসেছে। সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসা নেপালের বিপক্ষে তিন ম্যাচের রাগবি সিরিজে আজ মাঠে নামছে রেহমউদ্দিন শেখের দল। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে দু'বার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নেপাল। সকাল সাড়ে ১০টায় এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় হবে রাগবি সেভেনস ম্যাচ। আগামীকাল ফিফটিন সাইড খেলবে দু'দল। তিন ম্যাচে বেশি পয়েন্ট অর্জনকারী দল জিতবে ঐতিহাসিক এ সিরিজটি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-নেপাল রাগবি সিরিজের পৃষ্ঠপোষকতা করছে হা-মীম গ্রুপ।

রাগবির জন্য নেই আলাদা কোনো মাঠ। ইউরোপের দেশগুলোতে রাগবি অনেক জনপ্রিয়; কিন্তু বাংলাদেশে এখনও ডিম্বাকৃতির বলের এ খেলাটি সেভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে আগের চেয়ে এখন রাগবি খেলা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে ফেডারেশন। তারই ধারাবাহিকতায় বিদেশে দল এনে সিরিজের আয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশের রাগবির এ দলটি বলতে গেলে সেনাবাহিনীরই! জাতীয় দলের ২৩ খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন শুধু বাংলাদেশ আনসারের; বাকি সবাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত। মূলত ইন্টার ইউনিট এবং ইন্টার ডিভিশন খেলার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে সেনাবাহিনী দল। তারাই এখন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। নেপালের বিপক্ষে সিরিজের জন্য গত দুই মাস রাগবি ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল এবং বিকেলে অনুশীলন করছে দলটি। বর্তমান দলের সবাই ৬-৭ বছর ধরে একসঙ্গে খেলছেন।

২০১৭ সালে কাতারের দোহায় এশিয়ান রাগবি সেভেনস ট্রফিতে নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে খেলা দু'জন বাদে বাংলাদেশের সবাই আছেন। আর নেপালের আছেন সাত খেলোয়াড়। সেভেন সাইডে খেলার রেকর্ডটি বাংলাদেশের ভালো। এ খেলাটি বিরতির এক মিনিটসহ দুই অর্ধ মিলিয়ে খেলতে হয় ১৫ মিনিট (৭+১+৭)। দলে থাকেন ১২ খেলোয়াড়। ফিফটিন সাইডের খেলার সময়কাল বিরতির ১০ মিনিটসহ ৯০ মিনিট (৪০+১০+৪০)। দলে থাকেন ২৩ খেলোয়াড়।