ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

কাতারে কাটবে সমর্থকদের পকেট

কাতারে কাটবে সমর্থকদের পকেট

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২২ | ০১:২০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২২ | ০১:২০

১১ হাজার ৫৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ কাতার। মধ্যপ্রাচ্যের ছোট এই দেশে ২৭ লাখ ৯৫ হাজার মানুষের বাস। যার মধ্যে অস্থায়ীভাবে, অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাজের সন্ধানে আসা মানুষও কম নয়। ২০ নভেম্বর এই কাতারে বাজবে বিশ্বকাপের বাঁশি। ফুটবলের সবচেয়ে মেগা আসরকে সুন্দর-সাবলীলভাবে শেষ করতে আয়োজক দেশটির চেষ্টার যেন শেষ নেই। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন পরিকল্পনা, বাড়ছে সুযোগ-সুবিধাসহ আরও কত কী। তবু সমালোচনা চলছেই। 

বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পর থেকে ফিফার বেশ কয়েকটি সদস্য দেশের বিরোধিতা বারবার তাদের নামের পর প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেয়। তবে ফিফার কর্তারা এসব সমালোচনায় মোটেও কান দেননি। তাঁদের বিশ্বাস, আরব বিশ্বে প্রথম বিশ্বকাপ আগের সব আসরকে ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে কয়েক দিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণমাধ্যমের খবর, কাতারে সমর্থকদের পোহাতে হবে বহু জ্বালাতন। বলা যায়, পদে পদেই বিপদের শঙ্কা। সেই বিপদ কখনও মনমতো থাকার জায়গা পাওয়া নিয়ে, আবার কখনও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে। সেই সঙ্গে রাজ্যের খরচ তো আছেই।

সবচেয়ে চিন্তার কারণ এক শহরে আট ভেন্যু হওয়ায়। আয়োজক হওয়ার পর অনেকটা বিদ্যুৎ গতিতে বিশাল বিশাল স্টেডিয়াম গড়ে তোলে কাতার, যেগুলো আবার দোহার মধ্যেই। চাইলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সবক'টিতে ঘুরে আসা যাবে। আশপাশে হওয়ার পরও পকেট ফুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। প্রথম দফায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি হয়। চূড়ান্ত বিক্রি চলে গত ৫ জুলাই পর্যন্ত। সব মিলিয়ে নতুন করে কাতারে দুই মিলিয়ন মানুষ প্রবেশ করতে পারে। তাদের নিজস্ব জনসংখ্যার সঙ্গে বাড়তি দুই মিলিয়ন রীতিমতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের চিত্র ধারণ করতে পারে।

২০১৮ বিশ্বকাপ হয়েছিল রাশিয়ায়। বিশাল আকৃতির যে দেশটিতেও বিগ ম্যাচের আগের রাতে হোটেলে জায়গা পাওয়া নিয়ে চলত যুদ্ধ। ওই সময়ের একটা স্মৃতি রোমন্থন করেছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া আকাশ শর্মা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, '২০১৮ সালে যখন মস্কোতে গিয়েছিলাম। তখন ম্যাচের রাতে পুরো শহরই যেন সোল্ড আউট হয়ে যেত- সেটা হোটেল বলেন বা অন্য কিছু। সবখানেই চলত প্রতিযোগিতা, কে কার আগে বুকিং দেবে।'

অর্থনীতির ভাষায়, চাহিদার সঙ্গে জোগানের অসামঞ্জস্য থাকলে সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের মাসে কাতারেও তেমনটা হওয়ার আশঙ্কা। একে তো কভিডকাল, সঙ্গে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আর এক শহরে মিলিয়ন মিলিয়ন লোকের আগমন- সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে আয়োজক দেশটি। সে ক্ষেত্রে যাঁদের পকেটভর্তি টাকা থাকবে, তাঁরাই হয়তো আরাম-আয়েশে কাটিয়ে দিতে পারবেন মাস। কেননা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তখন সবকিছুর খরচ পড়বে কয়েক গুণ। 

একটা উদাহরণ দিলে আরেকটু দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতার ভ্রমণকারীদের। দু'জন মানুষ একটা রাত যদি কোনো হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে চান, তাহলে ৮০ থেকে ১০০ ডলার গুনতে হবে। সে জন্য কেউ কেউ বলছেন, এই বিশ্বকাপ হবে সমর্থকদের জন্য কিছুটা দুঃস্বপ্নেরও।

আরও পড়ুন

×