ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বিশ্বকাপের সাদাকালো ইতিহাস

টেলিভিশনে প্রথম বিশ্বকাপ সম্প্রচার

টেলিভিশনে প্রথম বিশ্বকাপ সম্প্রচার

টিভিতে প্রথম বিশ্বকাপ। ছবি: ফাইল

সঞ্জয় সাহা পিয়াল

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২২ | ০৫:৫০

উনিশ শতকের সেই ত্রিশের দশক- জাহাজে করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে খেলতে আসা থেকে শুরু। তার পর তো বিশ্বযুদ্ধ। বিশ্ব রাজনীতিতে মুসোলিনি-হিটলারের দাপট- সবই দেখেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। সাক্ষী থেকেছে ফুটবলের কিংবদন্তি পুসকাস, ক্রুয়েফ, পেলে, ম্যারাডোনা, প্লাতিনি, জিদান হয়ে বড় রোনালদোর পায়ে এই খেলাটার শৈল্পিক রূপ পাওয়ার। আর এসব নিয়েই বিশ্বকাপের গত শতাব্দীর কিছু চাপা পড়ে থাকা ইতিহাস তুলে আনার চেষ্টা করেছেন সঞ্জয় সাহা পিয়াল
সুইজারল্যান্ড (১৯৫৪)।

লাতিন থেকে ফের ইউরোপে ফিরে আসে বিশ্বকাপ। ফুটবল বিশ্বকাপ ততদিনে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো টেলিভিশনে সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। এবং সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ টেলিভিশনে দেখতে পান দর্শক। এবারে মোট ১৬ দলকে নিয়ে শুরু হয় বিশ্ব আসর। আগেরবার জার্মানির ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় অংশ নিতে পারেনি।

তবে এবারে পশ্চিম জার্মানি নামে খেলতে আসে জার্মানরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড, তুরস্ক আর দক্ষিণ কোরিয়া। আগেরবারের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দুটি দল সুইডেন আর স্পেন এবারে অনুপস্থিত। তারা বাছাই পর্ব উতরাতে ব্যর্থ হয়। তবে এই বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হয়ে আসে হাঙ্গেরি। ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরির বিপ্লব, তবে তারও আট বছর আগে ১৯৪৮ সালে যেন হাঙ্গেরিয়ান ফুটবলের বিপ্লব ঘটে যায়।

সে দেশের কমিউনিস্ট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, 'সোশ্যালিস্ট ফুটবল' দেখাবে তারা বিশ্বকে! ডেপুটি স্পোর্টস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বুদাপেস্টের সাবেক ট্রেড ইউনিয়ন নেতা গুস্তাভ সেবেস নির্দেশ দেন, হাঙ্গেরির সেরা ফুটবলারদের হনভেদ ক্লাবে যোগ দিতে হবে। আর তারপরই একে একে ওই ক্লাবে যোগ দেন ফেরেঙ্ক পুসকাস, জোল্টান জিবর, স্যান্ডর ককনিসরা। তৈরি হয় বিশ্ব ফুটবলে রক্ষণাত্মক খেলার নতুন এক কৌশল। যার দর্শনই ছিল শুধু গোল দিলেই ভালো ফুটবল হয় না, তিন গোল দিয়ে চার গোল খেলে কোনো লাভ নেই। হাঙ্গেরির সেই রক্ষণাত্মক ফুটবল বনাম পশ্চিম জার্মানির আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেবারের ফাইনালে। ৩-২ গোলে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পশ্চিম জার্মানি। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে গোল করে জার্মান নায়ক হয়ে যান হেলমুট রাহন। টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'ডচেসল্যান্ড ইস্ট ওয়াইডির ওয়াজ!'

(জার্মানি ফের ঘুরে দাঁড়াল)। আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত আর বিভেদের জার্মানিতে এই বিশ্বকাপ জয়টিই ছিল হতাশার মাঝে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মতো। পরে ওই বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়েই 'মিরাকল অব বার্ন' এবং 'দ্য মার্জিন অব মারিয়া ব্রাউন' নামে জার্মানিতে জনপ্রিয় কিছু সিনেমা নির্মাণ করা হয়।

আরও পড়ুন

×