বিশ্বকাপ ২০১৮

হুলিগানরা সক্রিয়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

স্পোর্টস ডেস্ক

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে হারানোর পর লন্ডনের রাস্তায় বাঁধভাঙা উল্লাস করেন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। যে উল্লাস মানেনি কোনো রীতি-নীতি, ধার ধারেনি কোনো আইনের। প্রিয় দলকে বিশ্বকাপের মতো মহারণের সেমিতে উঠতে দেখে অনেকেই বোধবুদ্ধি হারানোর মতো কাজ করে বসেন। রাস্তা আটকিয়ে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করে রীতিমতো পাগলপ্রায় অবস্থা। সেই উদযাপনের ভিড়ে পড়ে অনেক অ্যাম্বুলেন্সও। কেউ কেউ রোগীবাহী সেসব অ্যাম্বুলেন্সের ওপর দেদার লাফালাফি-নাচানাচি করেন। তাতেই যে পুলিশের টনক নড়ল। আজ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নামবেন হ্যারি কেনরা। তার আগে ইংল্যান্ডের পুলিশ কড়া সতর্কতা জারি করেছে এই 'হুলিগান'দের জন্য।

ফুটবল মাঠে প্রিয় দলের সমর্থন জানাতে গিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামার অতীত রেকর্ড রয়েছে এই হুলিগানদের। মাঠের গ্যালারি কিংবা কোনো রেস্তোরাঁ- খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই আকণ্ঠ পান করে নেন তারা। এরপর পুরোটা সময় প্রতিপক্ষের সাপোর্টার ও খেলোয়াড়দের গালাগাল দেন কুরুচিকর গান গেয়ে। শুধু লন্ডন নয়, সেদিন সুইডেনকে হ্যারি কেনরা হারানোর পর মস্কোতেও চলেছে এই হুলিগানদের দাঙ্গা-হাঙ্গামা। ফিফার পক্ষ থেকে ইংল্যান্ড ফুটবল সংস্থাকে এই উগ্র সমর্থকদের সাবধান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে গতকাল এক বার্তায় ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি থেকে বলা হয়, 'গত শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের পর কিছুসংখ্যক সমর্থক লন্ডনসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় উদযাপনের নামে বিশৃঙ্খলা করেছে। যেটা সত্যিই দুঃখজনক। অনেকে রাস্তা আটকে, অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নেচে-গেয়ে এমনকি ইংল্যান্ডের আইনবহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয়। আমরা চাচ্ছি এ রকম কিছু আর না হোক। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। উদযাপন করতে বাধা নেই। তবে সেটা যেন দেশের আইন না ভাঙে। সীমা ছেড়ে না যায়। জরুরি সার্ভিসগুলো যাতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়।'

সুইডেনকে হারানোর দিনে মাত্রাতিরিক্ত উল্লাস করতে গিয়ে যারা নানা নীতিবহির্ভূত কাজে জড়িয়েছেন তাদের ছাড় দেবে না পুলিশ। ইতিমধ্যে ৩৮৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৭০ জন ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে। ওই দিনের এমন তুলকালামের পর নড়েচড়ে বসেন নিরাপত্তা কর্মীরা। ম্যাচ শুরুর একদিন আগে থেকেই নেওয়া হওয়া বাড়তি নজরদারি। তবে শনিবারের পর এখনও ঠিক হয়নি কিছু অলিগলি, শপিং মল, যানবাহন। এ ব্যাপারে ডেপুটি চিফ কনস্টেবল মার্ক রবার্টস জানিয়েছেন, লোকজন শপিং মলগুলোতে বাজে উদযাপন করেছে। বাস, কারগুলো এখনও অকেজো হয়ে আছে। অনেক অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে গেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকে ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনার মধ্যে পুলিশের রেকর্ডবুকে জমা পড়েছে হাজারেরও বেশি অভিযোগ। যার মধ্যে ২২৬টি পারিবারিক বিবাদ। বাকিগুলো বিভিন্ন ধাঁচের অপরাধ। এতে গ্রেফতার হয়েছেন ২৩০ জন।