মরিসনও বোঝেন না নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন!

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: ক্রিকবাজ

বাংলাদেশ দল ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড গেছে। মরিসনও বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন নিউজিল্যান্ডে। বিপিএলে ধারাভাষ্যের সুবাদে দলের অনেককে দেখেছেন তিনি। নিজের দেশে তাই বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। ৮০-৯০ দশকের কিউই আউট সুইং মাস্টার ড্যানি মরিসন বাংলাদেশের পেসার নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাসিত। চোটের কারণে বাংলাদেশ পেসার তাসকিন নেই শুনে হতাশই হলেন তিনি। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের অদ্ভুত কন্ডিশন নিয়েও কথা বলেন মরিসন। ক্রিকবাজকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারের মূল অংশ তুলে ধরা হলো: 

প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের পেস বোলারদের কিভাবে দেখছেন?

মরিসন: বাংলাদেশ প্রথমবার সেখানে তিন ম্যাচের  টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। খুবই উচ্ছ্বসিত আমি। বাংলাদেশ দল সেখানে সিরিজ উপভোগ করার মতো একঝাঁক পেসার পেয়ে গেছে। তাসকিন, রুবেল, মুস্তাফিকদের নিয়ে দারুণ পেস আক্রমণ পেয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন বেশ জোরে বল করে। অবশ্যই রুবেলের নাম ওই কাতারে। তাদের উচ্চতা ভিন্ন রকমের। বাঁ-হাতি পেসার আছে দলে। খালেদ আহমেদের মতো পেসার পেয়েছে। সেও খুব লম্বা এবং উইকেটে জোরে বল করে। বিপিএলে বাংলাদেশের পেসার দেখে আমি তো দারুণ খুশি। 

প্রশ্ন: ইনজুরির কারণে তাসকিন দল থেকে ছিটকে গেছেন...

মরিসন: কে ছিটতে গেছেন, তাসকিন? তাসকিনের জন্য এটা খুব হতাশার। তরুণদের এই ইনজুরি থেকে ফর্মে ফেরা খুবই কঠিন। নিউজিল্যান্ডে খেলার মতো পেসার সে। তবে খালিদ আহমেদ আছে। আমি তাকেও খুব ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ সেখানে টেস্ট ম্যাচ জেতেনি। কঠিন  সিরিজ হবে বাংলাদেশের জন্য। হ্যামিলটনে বল সুইং করবে বেশি। টেস্ট সিরিজের সময় আবহাওয়া কেমন থাকে দেখাটা হবে খুবই উপভোগ্য। যদি ওয়েলিংটনে গরম এবং বাতাসে আদ্রতা কম থাকে উইকেট হবে ফ্লাট। সেখানে ৬০০ রান করেও হারতে পারে দল। ক্রাইস্টচার্চে আবার শীত থাকলে অন্য চ্যালেঞ্জ। সেখানকার উইকেটও ফ্লাট হতে পারে। ক্রিকেটাররা ফিট থাকলে দারুণ উপভোগ্য সিরিজ হবে।

প্রশ্ন: বোলিংয়ের মূল বিষয় হবে কি? 

মরিসন: সুইংই সেখানকার রাজা। পেসাররা সেখানে দারুণ  সুইং পাবে। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম  সাউদি ও ওয়াগনাররা সেখানে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আর্বিভূত হতে পারে। বাংলাদেশেরও ভিন্নধর্মী বোলার আছে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে আমরা বলতে পারি, লাইন এবং লেনথই মূল বিষয়। ধারাবাহিকতাও রাখবে মূল ভূমিকা। ক্রিকেটারদের ফিটনেস বড় ব্যাপার হতে যাচ্ছে। তাসকিন ফিট থাকলে সে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারত।

প্রশ্ন: ক্রিকেটারদের ধৈর্য কি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। কি  মনে হয়? 

মরিসন: বোলার বলেন কিংবা ব্যাটসম্যান, ধৈর্যই আসল কথা। বোলারদের জন্য কথাটা একটু বেশিই খাটে। রুবেলের কাছে প্রত্যাশা অনেক। আগে সেখানে খেলেছে রুবেল। তার কাছে দলের প্রত্যাশা অজানা নয় তারও। ধৈর্য শব্দটাই বড় কথা। সোজা কথা হচ্ছে নিউজিল্যান্ড সম্পূর্ণ আলাদা এক কন্ডিশন। ভালো ভালো দল সেখানে গিয়ে ভুগান্তিতে পড়ে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে সব দলের বোলাররা সেখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। 

টেস্ট ক্রিকেট মানে হারলেও একটা দলকে পাঁচ দিন খেলতে হবে। তিন-চারদিনে হেরে যাওয়া কাম্য নয়।  বাংলাদেশ এবং অন্য এশিয়ার দেশের জন্য আমার পরামর্শ ধৈর্য নিয়ে খেলা। নিউজিল্যান্ড কিন্তু এই জায়গায় বেশ এগিয়ে। গ্রান্ডহোম, সাউদি, বোল্টরা এখানে অন্যদের থেকে আলাদা। ওয়াগনার শুধু তার বাউন্স দিয়ে ব্যাটসম্যানদের আউট করতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের আগের সফরে বাতাস সেখানে খুব প্রভাব ফেলেছিল...

মরিসন: আবার কন্ডিশনের কথা চলে এলো। শীত হলে যেকোন দলের জন্য সেখানে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে সিরিজ হবে।  টেস্ট বলতে গেলে মার্চে। আর মার্চে সেখানকার কন্ডিশন কেমন হবে বলা মুশকিল। সাধারণত মার্চটা খুব ভালো যায়। কিন্তু আবার বলছি, এটা নিউজিল্যান্ড। সুতরাং বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে ভালো করা কঠিন হবে। ওয়েলিংটনে এটা হবে আরও কঠিন। কেউ কেউ অবশ্য বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে ভালো বোলিং করে। 

প্রশ্ন: ফিটনেস কি বড় চ্যালেঞ্জ হবে?

মরিসন: এখানকার খেলাটা খুবই শারীরিক। ফিট থাকার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো তিন টেস্টর সিরিজ খেলছে। চেষ্টা করতে হবে  ফিট থেকে সিরিজে টিকে থাকতে। সেজন্য দলে বেশি করে পেসার নেওয়া।  গতির বোলাররা এখন থেকে নতুন কিছু শিখবে।  

প্রশ্ন: স্পিনারদের ভূমিকা?

মরিসন: তারাও সুবিধা পাবে। টেস্ট গ্রীষ্মে এসে গড়াবে। উইকেট ক্লান্ত হয়ে পড়বে। ভেঙে যাবে। কিন্তু আবার সেই কথা। কন্ডিশন কেমন হয় দেখা যাক। দুনেদিন, ক্রাইস্টচার্চে ম্যাচ আছে। সেখানে শীত বড় শত্রু। খুব কঠিন। স্পিনারদের খুবই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হবে।  তাদের জন্য উইকেট কতটা হাত বাড়িয়ে দেবে বলতে পারছি না।

বিষয় : খেলা ক্রিকেট বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড-২০১৯ মরিসন সাক্ষাৎকার