নিউজিল্যান্ডে মসজিদে গুলি

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: টুইটার

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারী; এই হামলার মধ্যে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সেখানে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা নাগাদ) আল নূর নামের মসজিদে ওই হামলা হয়। আল নূর ছাড়াও হামলা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের আরেকটি মসজিদেও। এতে সব মিলিয়ে ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এটাকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে নিউজল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন বলেছেন, এই তাণ্ডবে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছে আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। এ সময় ওই হামলার মুখে পড়েন তারা। একজন নারী মসজিদের প্রবেশ মুখে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেটদলের খেলোয়াড়দের সেখানে হামলা হয়েছে জানিয়ে ঢুকতে নিষেধ করেন। সাথে সাথেই তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশি ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, 'ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড় নিরাপদে হোটেলে ফিরে এসেছেন।'

ওই ঘটনাকে ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য তামিম ইকবাল। এক টুইট বার্তায় তামিম টুইটে লেখেন, ‘পুরো দল বন্দুকধারীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, জঙ্গি ধাঁচের পোশাকে এক ব্যক্তি আল নুর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মসজিদে নামাজ পড়তে ঢুকছিলেন খেলোয়াড়রা; এসময় হামলার ঘটনা ঘটে। তারা নিরাপদে ফিরে আসেন।

নিউজজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় 'যতদূর জানতে পেরেছি' বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। একজন নারী ও তিনজন সন্দেহভাজন পুরুষকে ধরা হয়েছে। অন্য কেউ এতে জড়িত আছে কিনা তা আমরা নিশ্চিত নয়।

হামলার ঘটনাকে খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মসজিদের ওই এলাকা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিম কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ; তবে এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ক্রাইস্টচার্চের সব মসজিদ এবং স্কুল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী রেডিও নিউজিল্যান্ডকে বলেন, মসজিদের ভেতর তিনি হঠাতই গুলির শব্দ শুনতে পান। এ সময় অন্তত চারজন লুটিয়ে পড়েন; সেখানে শুধু রক্ত আর রক্ত।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা ছিল। তবে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জেরে তা বাতিল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি) টুইট করে বিষয়টি জানিয়েছে।

মসজিদে হামলার ঘটনায় হতাহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত না হওয়া গেলেও তাদেরকে শরণার্থী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিউজল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন বলেছেন, যে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তার স্থান নিউজল্যান্ডে নেই।

নিউজিল্যান্ড একটি মুসলিম সংখ্যালঘু দেশ। ২০১৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের।