'এবার স্মরণীয় বোলিং করতে চাই'

প্রকাশ: ২২ মে ২০১৯     আপডেট: ২২ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

...

ছবি: ফাইল

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। একটু একটু করে উত্তাপও বাড়ছে তার। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের পর বিশ্বকাপের মৌতাতে আচ্ছন্ন টাইগাররা। ক্রিকেটের এই শ্রেষ্ঠ মঞ্চে যাওয়ার আগে দলগত পরিকল্পনার বাইরেও ক্রিকেটাররা নিজেদের তৈরি করেছেন নিজের মতো করেই। দেশ ছাড়ার আগে সমকালের সঙ্গে বিশ্বকাপ আড্ডায় নিজেদের সে ভাবনাগুলোই তুলে ধরেছেন টাইগাররা। বিশ্বকাপযাত্রী টাইগারদের ধারাবাহিক এই সাক্ষাৎকার পর্বে আজ থাকছে রুবেল হোসেন। তার মুখোমুখি হয়েছিলেন সেকান্দার আলী

সমকাল: ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আপনার শেষ স্পেলের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে?

রুবেল: অবশ্যই। সারা জীবন স্মরণ করে রাখার মতো একটা আভিজ্ঞতা ছিল। অবশ্যই ওই জিনিসটা এই বিশ্বকাপে আমার মাথায় থাকবে। ওই ধরনের স্পেল আমি পুনরায় করার চেষ্টা করব। আমরা প্রতিটি ম্যাচের আগে ভিডিও দেখি। আমার অনেকগুলো ভালো স্পেল আছে, ওই ভিডিওগুলো দেখব এবং মাথায় রাখব। প্র্যাকটিসে সেভাবেই প্রস্তুতি নেব। ওই ধরনের একটা স্পেল যদি আবার নিয়ে আসতে পারি, তাহলে খুব ভালো হবে।

সমকাল: এ নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলবেন। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এটা একটা বড় অর্জন। এতটা পথ কীভাবে ফিট রেখেছেন নিজেকে?

রুবেল: আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আমি খুব কম ইনজুরিতে পড়ি। ফিট থাকার চেষ্টা করি। বিশ্বকাপে আমাদের সবাইকেই ভালো খেলার চেষ্টা করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নিজে থেকেই চেষ্টা করব ভালো কিছু করার। এই জেদটা নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছি।

সমকাল: আপনি স্লগে বোলিং করেন। আপনার কাছে মানুষজনের প্রত্যাশা বেশি থাকে। বোলিংয়ের সময় ওই জিনিসটা কি মাথায় থাকে?

রুবেল: অবশ্যই। আমি অনেক দিন ধরে জাতীয় দলে খেলছি। মাশরাফি ভাইয়ের পর জাতীয় দলে আমি সিনিয়র পেস বোলার। মানুষ অবশ্যই আমার কাছে আশা করে। আমিও ভালো ভালো ম্যাচ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। এই জন্য মানুষের আশা আছে আমার ওপর। আমি চেষ্টা করব মানুষের আশা পূরণ করতে।

সমকাল: বিভিন্ন সময় ভালো-খারাপ যায় মানুষের। কিন্তু সব জিনিস তো মানুষ মনে রাখে না। আপনি কোনটা মনে রাখেন?

রুবেল: আমি সব সময় ইতিবাচক দিকগুলোই চিন্তা করি, খারাপ জিনিসগুলো মাথায় নেই না। বিশেষ করে আমি যখন বোলিং করি, দু-তিনটা বল যখন গতিতে যায় তখন বুঝতে পারি ভালো হচ্ছে। তখন ভেতরে কাজ করে আজ ভালো একটা ফিনিশিং দিতে হবে। আমি অপেক্ষা করি ছন্দের জন্য। এই বিশ্বকাপেও চেষ্টা করব ছন্দ নিয়ে আসতে।

সমকাল: এখন তো ব্যাটসম্যানরা অনেক শট খেলে। আপনি আবার শেষ পাঁচ ওভারে বোলিং করেন। স্লগে বোলিং করা এখন কেমন চ্যালেঞ্জ?

রুবেল: স্লগে বোলিং করা আসলেই কঠিন। কারণ এখন ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করে স্লগে মারার জন্য। বাউন্ডারি মেরে দলের রান ভালো একটা জায়গায় নিয়ে যেতে। ওই সময় আমাদের বোলারদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জ থাকে। ওই পরিস্থিতিতে বিগত ভালো ম্যাচের কথা চিন্তা করে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটসম্যানকে রিড করে বল করতে হবে। প্রয়োগটা ভালো করতে পারলে সফল হওয়া যাবে। প্র্যাকটিসেও ওইটা নিয়ে কাজ করতে হবে। ওখানে আমরা অনেক প্র্যাকটিসের সুযোগ পাবো। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলারও সুযোগ পাব।

সমকাল: এখন অনেক দলই ওয়ানডেতে ৪০০ রান করে। তখন কি মনে হয় ব্যাটসম্যান হলে ভালো করতেন?

রুবেল: ইংল্যান্ডে কিছু কিছু ম্যাচ আমরা দেখেছি, ৪০০ রানও ছাড়িয়ে গেছে। ওই ধরনের কন্ডিশনে বোলারদের মাথা ঠাণ্ডা করতে হয়। একটা বা দুটো বাউন্ডারি হয়ে গেলে ঘাবড়ে যেতে পারে, ওই সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তাভাবনা করে ওভারটা শেষ করতে হবে। আর এখন তো ব্যাটসম্যানদেরই খেলা হয়ে গেছে ক্রিকেট। এটা আমাদের বোলারদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গেই আমাদের লড়াই করতে হবে।

সমকাল: বিশ্বকাপ দলে পাঁচজন পেস বোলার আছে। এই পাঁচজনের মধ্যে আপনার বোলিংয়ে বৈচিত্র্য কী?

রুবেল: আমার যে সামর্থ্যের জায়গা, জোরে বল করে আঘাত করতে পারি। ইয়র্কার করতে পারি। আমার এই শক্তির জায়গাগুলোতেই জোর দিতে হবে। এগুলো নিয়ে আরেকটু কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। যেহেতু ইংল্যান্ডে অনেক খেলেছি, আমার নিজের প্রতি একটা বিশ্বাস আছে, আমি পারব। ইনশাআল্লাহ আমি পারব।

সমকাল: নির্বাচকরা বলেছেন, এ মুহূর্তে জাতীয় দলে রুবেলের বিকল্প নেই। আপনি এটা বিশ্বাস করেন?

রুবেল: মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত আছি। কারণ বিশ্বকাপের মতো একটা জায়গায় আমি যাচ্ছি। যেহেতু নির্বাচকরা আমার ওপর এত বড় একটা আস্থা রেখেছে, আমিও চেষ্টা করব তাদের এই বিশ্বাসকে সম্মান দেখাতে।

সমকাল: বোলিংয়ের সময় ফিল্ড সেটআপ কি নিজেই করেন?

রুবেল: ক্রাইসিস মুহূর্তে আমি নিজে থেকেই অধিনায়ককে বলি। মাশরাফি ভাই অনেক সিনিয়র, উনি এগুলো ভালো বোঝেন। তারপর সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই আছেন, সব সময় আমাকে পেছন থেকে সাপোর্ট করেন। ফিল্ড সেটটা কোথায় নিলে ভালো হবে। মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমার সব সময় কথা হয়।

সমকাল: ৯টা দলে অনেক ভালো ভালো ব্যাটসম্যান আছেন। তাদের বিরুদ্ধে সফল হতে কী ধরনের কাজ করছেন?

রুবেল: প্রতিটি দলের সঙ্গে আগে আমরা খেলেছি। আমাদের ভিডিও অ্যানালিস্ট আছেন, উনি আমাদের একটা পরিকল্পনা দেবেন। প্রত্যেকের দুর্বল জায়গাগুলো বলে দেবেন। আমাদের কোচ আছেন, মাশরাফি ভাই আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। যে গেম প্ল্যান থাকবে সে অনুযায়ী খেলতে হবে। আর বিশ্বকাপের মতো জায়গায় সব দলই সমান। বাংলাদেশ দল এখন ওয়ানডেতে অনেক ভালো। সবাই যদি সেরাটা দিতে পারে, তাহলে এবার আমাদের বিশ্বকাপ হতে পারে। দেশের বাইরে আমরা অনেক ভালো ভালো ম্যাচ জিতেছি। আমরা যদি দল হিসেবে খেলতে পারি তাহলে বিশ্বকাপে ভালো কিছু হবে।

সমকাল: ইংল্যান্ডে ৪৮১ রান হয়েছে গত বছর। আপনার কি মনে হয়, সেই জায়গা থেকে পেস বোলিং ইউনিট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে?

রুবেল: ওই ধরনের কন্ডিশনে আমরা যদি খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি। আমার মনে হয় চেজ করার মতো স্কোর ধরে রাখা সম্ভব হবে।

সমকাল: একটা বাজে ওভারের পর বোলারকে মাঠে খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে আপনি কী করেন?

রুবেল: আমরা জানি ওই কন্ডিশন টাফ। ওখানে প্রথম পরিকল্পনা কাজ না করলে দ্বিতীয় পরিকল্পনায় যেতে হবে। সবার সঙ্গে আলাপ করতে হবে, কেউ যদি একটা ওভার মার খায় বা একটা স্পেল ভালো না হয় ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আমার খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। নেগেটিভ জিনিসগুলো আমরা ভাবছি না। আমরা যাব পজেটিভ নিয়ে।

সমকাল: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি অনেক কিছু নিয়ে পোস্ট করেন। এগুলো নিয়ে কি আপনার কাজ করার ইচ্ছা আছে?

রুবেল: অবশ্যই। কিছু কিছু জিনিস আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। এজন্য নিজে থেকেই ওই জিনিসগুলো নিয়ে আমার পেইজে লিখি। বিষয়টি সবাই ইতিবাচকভাবে নিলে ভালো হয়। আমার কাছে মনে হয় সবই ঠিক আছে। আমি এদেশেরই সন্তান, আমার কাছে মনে হয়, এটা লেখা উচিত তাই আমি লিখি।

বিষয় : খেলা ক্রিকেট বাংলাদেশ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ-২০১৯