অস্ট্রেলিয়াকে যে বার্তা দিয়ে রাখল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০১৯      

ফাহমিদ সৌরভ

ফাইল ছবি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গতকালের জয়ের রেশটা আজও সবার চোখেমুখে দেখা যাচ্ছে। রাস্তা-ঘাট, পাবলিক পরিবহন, চায়ের দোকানসহ দেশের সবখানেই সাকিব-লিটনদের বীরত্বগাথা রচিত হচ্ছে। সাকিব তার সেরাটা এই বিশ্বকাপের জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন, লিটনকে কেন এতোদিন বসিয়ে রাখা হলো এনিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠবে কিনা তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সব মিলিয়ে সোমবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনার বিষয়বস্তু সাকিবদের জয়।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটা পরের ম্যাচগুলিতে ধরে রাখতে পারেনি মাশরারফির দল। প্রকৃতিবাধা ও টানা হারে ফিকে হতে চলেছিল সেমিফাইনালের স্বপ্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেই পথে লাইফলাইন পেলেন সাকিব-তামিমরা। সেই ‘জীবন’টা কাজে লাগালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোটা কঠিন হওয়ার কথা নয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ দল কতখানি আশাবাদী। মাঠের মতো সংবাদ সম্মেলনেও দারুণ সপ্রতিভ সাকিব। জানালেন, অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তিনি। জানান, ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচের ফর্মটা ট্রেন্টব্রিজে বয়ে নিয়ে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো খুবই সম্ভব।

এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডিদের সামলেছেন তামিম-সাকিবরা। দ্বিতীয় ম্যাচে লকি ফার্গুসনের ১৫০ কিমির গোলা সামলাতে হয়েছে। বল হাতে আগুন ঝুড়িয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট-জিমি নিশামের মতো বোলার। ইংল্যান্ডের মার্ক উড-জোফরা আর্চারদের খেলার অভিজ্ঞতাও হয়েছে টাইগারদের। গত ম্যাচে শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, ওশানে থমোসদের বলেকয়ে সীমানা ছাড়া করেছে ব্যাটসম্যানরা। তাই ম্টিল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সদের সামলানোটা আর এমন কি বড় বিষয়?

সাকিব ভাগ্যের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানান, ক্রিকেটাররা দারুণ পরিশ্রম করছেন। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দিচ্ছেন এখন ভাগ্যের কিছুটা সহায়তা পেলে সেমিফাইনাল আর দূরের বিষয় থাকবে না।

এবারের আসরে ভাগ্য অবশ্য কিছুটা বিপক্ষে গেছে বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি ভুল না হলে ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততেই পারতো, শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটা ভেসে না গেলে সেমটাতেও জয় পেত বাংলাদেশ। তেমনটা হলে পাঁচ ম্যাচে চার জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তো বাংলাদেশই থাকে! টনটনে ক্যারিবীয় দূর্গ পতনের চিত্রটা অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয় দেখেছে। নিশ্চিত থাকুন, সাকিব আল হাসানের দুর্বলতা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। মিরাজ, মুস্তাফিজ, লিটনদের কাবু করতে কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়েছেন দলটির টিম ম্যানেজমেন্ট।

আমাদেরও হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা চলবে না। ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ জুটি ভাঙার দাওয়াই খুজে বের করতে হবে। স্টিভেন স্মিথ নামক পাথরটি সরাতে হবে। আর তামিমরা যদি স্টার্ক-কামিন্সদের গোলাগুলো সামলাতে পারেন তাহলে পরের ম্যাচেও জয় বাংলাদেশেরই হবে।