আত্মবিশ্বাসী সাকিব

বিশেষ লেখা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯     আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন

সাকিব খুব বেশি কিছু করছে বা খুব বেশি ভালো খেলছে, তা না। সে তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা সে খুব ভালোভাবে নিয়েছিল, খেলার মাঠে যার সুফল পাচ্ছে। প্রস্তুতি ভালো হওয়ায় আত্মবিশ্বাসটাও বেড়েছে। গতকাল (সোমবার) সাকিব যেমন সাক্ষাৎকারে বলেছে, ব্যাটিংয়ে সময় পাচ্ছে। অর্থাৎ বল দেখে শট খেলতে পারছে। টেকনিক্যালি ব্যাটিংয়ে ছোটখাটো কিছু জিনিস পরিবর্তন হওয়ার কারণেই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারছে সে। বল বুঝতে বা শট খেলার ক্ষেত্রে ভালো করছে। এগুলো সম্ভব হচ্ছে ব্যাটিংয়ের টেকনিকে সূক্ষ্ণ সূক্ষ্ণ জিনিসে উন্নতি হওয়ায় জন্য। এ ছাড়া পজিশন ওয়াইজ ব্যাটিংয়ের সুফল পাচ্ছে সে। যদিও সাকিবকে এরকম ব্যাটিং করতে আমি কখনই দেখিনি।

এত সুন্দর খেলছে যে, দেখতেই ভালো লাগে। আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্রিজে থাকছে লম্বা সময় ধরে। সব দিকে, সব ধরনের শট খেলছে। উইকেটের চারদিকে খেলার মতো শট হাতে আসছে। আগে কিছু জোনে সীমাবদ্ধতা ছিল তার। এখন শটের পরিধি বেড়েছে, এ কারণে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ লাগছে তার ব্যাটিং।

বিশ্বকাপে ভালো খেলার মানসিক প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল তার। ভারতে সে আমাকে বলছিল, 'স্যার, প্রস্তুতিটা আমি খুব ভালোভাবে নিয়ে যেতে চাই, খারাপ-ভালো তো হতেই পারে।' চারটি ম্যাচ খুবই ভালো খেলেছে। সামনে আরও ম্যাচ আছে, দেখা যাক কী হয়। মূলত টেকনিক্যালি ও ফিটনেস দুটো জায়গায় উন্নতি করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছে সে। ৫-৭ কেজি ওজন কমানো সহজ ব্যাপার নয়। ওর সঙ্গে ভারতে যে ক'টা দিন কাজ করেছি, তখন সে টেকনিক্যাল দিকগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। টেকনিক আর ফিটনেসের সমন্বয়ে তার এই পারফরম্যান্স।

সাকিবের প্রস্তুতিটা ছিল একটা লক্ষ্য নিয়ে যে, বিশ্বকাপে ভালো খেলবে। সবচেয়ে বড় কথা, যে কোনো ক্ষেত্রে ওর আত্মবিশ্বাস খুব ভালো। এটা ছোটবেলা থেকেই, কোনো কিছুতেই সে ঘাবড়ে যায় না; বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। আত্মবিশ্বাসের জায়গায় যেভাবে ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু এখন সেটা আলাদা করে চোখে পড়ার কারণ সে রান করছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই ধারাবাহিক রান করেছে, যেটা বিশ্বকাপেও নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত এই ছন্দটা বয়ে নিয়ে যেতে পারে কি-না। যদি পারে আর বাংলাদেশ সেমিফাইনাল-ফাইনাল খেলে, তাহলে বিশ্বকাপে তার ব্যক্তিগত ভালো একটা পুরস্কার থাকতে পারে। আর বাংলাদেশ লীগ পর্বে খেলা শেষ করলে তেমন কিছু নাও হতে পারে। এ মুহূর্তে আমার চোখে যেটা ধরা পড়েছে, সে ব্যাটিং ভালো করছে; কিন্তু বোলিংয়ের কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খুবই ভালো বোলিং হয়েছে তার। কিন্তু পরের ম্যাচগুলোতে সেভাবে ছন্দে ছিল না। বুঝতে পারছি উইকেটের সহায়তা পাচ্ছে না, এর পরও আমার মনে হয় আর একটু উন্নতি দেখানোর জায়গা আছে। বোলিংটা আর একটু ভালো হলে দেখতে ভালো লাগবে। উইকেট না পাক, বোলিং ইকোনমিটা যেন ভালো থাকে।

লেখক :জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ