বিশেষজ্ঞ কলাম

ছন্দেই আছে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

স্টিভ ওয়াহ

নিঃসন্দেহে এটা খুবই দাপুটে এক পারফরম্যান্স। এ দলটা এমন, যারা একদম সঠিক সময়ে ছন্দ আর আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া পুরনো দিনের ওয়ানডের মতো করে এ ম্যাচটা খেলেছে। পিচও অনেকটা টেস্ট ম্যাচের মতো ছিল। প্রথমে অ্যারন ফিঞ্চ আর ডেভিড ওয়ার্নার একটা ভালো শুরু দিয়ে গেছে। তারপর সেখান থেকে বাকিরা একটা চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তুলেছে। ফিঞ্চের এ সেঞ্চুরিটা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার সেরা পারফরম্যান্স। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে, বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন সেঞ্চুরি দারুণ এক ব্যাপার। ব্যাটিংয়ে এখন সে তার সেরা সময় কাটাচ্ছে। সে মানসিকভাবে শক্ত, টেকনিক্যালি খুব ভালো। লাইন-লেন্থ নিয়ে নিজের বিবেচনার ওপর ভরসা আছে তার। ব্যাটিংয়ে আক্রমণের দায়িত্ব নিয়ে সে অন্যদের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। এতে বাকি ব্যাটসম্যানরা তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছে। ওয়ার্নারের সঙ্গে তার জুটিটা এ আসরে সব সময় অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে রেখেছে। আগে ব্যাট করে বড় রান করা বা রান তাড়া করার ক্ষেত্রে তারাই অস্ট্রেলিয়াকে পথ দেখিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার আরেকজনের কথা না বললেই নয়, সে হলো অ্যালেক্স ক্যারি। ওকে তো আমার মাইকেল হাসি আর মাইকেল বেভানের সংকর বলে মনে হয়। ওর খেলায় আক্রমণ আর রক্ষণের দারুণ এক সমন্বয় আছে। স্লগ ওভারের চাপের মধ্যে থেকেও সে পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বিশ্নেষণ করতে পারে। আর সুযোগ পেলেই রান করে। এ আসরে অস্ট্রেলিয়ার জন্যে ম্যাচ উইনার হিসেবেই আবির্ভূত হবে সে।

জেসন বেহরেনডর্ফকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ছিল অত্যন্ত সাহসী। এ জন্য অস্ট্রেলীয় নির্বাচকরা একটা ধন্যবাদ পেতেই পারে। তাকে দলে নেওয়ার ফলটা হাতেনাতেই পেয়েছে অসিরা। জেমস ভিন্সকে যে ইনসুইংগারে সে আউট করেছে সেটা খেলা যে কারও জন্যই কঠিন হতো। এটা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বল। এ উইকেট নিয়ে শুরুতেই ইংল্যান্ডকে নাড়িয়ে দেয় সে। তার পাঁচ উইকেট শুধু এ ম্যাচের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এ আসরের অন্য দলগুলোর জন্যও এটা একটা সতর্কবার্তা। কারণ তার সুইং করানোর ক্ষমতা মিশেল স্টার্কের মতো। তারা দু'জনে সামনের ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।

এমন পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড অবশ্যই হতাশ হবে। এ ম্যাচটা ছিল তাদের ফেভারিট তকমার যথার্থতা প্রমাণের একটা সুযোগ। এখন তারা বুঝতে পারবে বাকি দুই ম্যাচ জেতা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। ঠিক যেমনটা আমরা করেছিলাম ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। তাদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে খেলে তারা সাফল্য পেয়েছে সেই নির্ভার ও আক্রমণাত্মক মানসিকতাটা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ম্যাচে স্কিল আর ধৈর্যের কাছে গায়ের জোর পরাজিত হয়েছে। দারুণ এই ম্যাচটা এমন এক দল জিতেছে, যারা নিজেদের সামর্থ্য আর পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ইংল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া দেখার পালা।

লেখক :অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।