পুরনো উইকেট চান মাশরাফি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, বার্মিংহাম থেকে

ওই যে বড় বিল্ডিংটা, ওটা 'লাইব্রেরি অব বার্মিংহাম'। ইউরোপের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। একটু দূরেই বাংলাদেশিদের একটি পাড়া আছে- কী যেন নাম...। একদিনের মধ্যেই শহরটাকে যা চিনে নেওয়ার তা চিনে নিয়েছেন মাশরাফি। তবে তিনি ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন সাউথ ওয়েলসের স্নোহেড নামে একটি গ্রামে। কারণ, গ্রামই নাকি তাকে বেশি টানে। পাঁচ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটি চলছে বাংলাদেশ দলে। কেউ লন্ডনে, কেউ ব্রিস্টলে, কেউ বা নটিংহামে- হাতেগোনা যে ক'জন বার্মিংহাম হোটেলে চেকইন করেছেন, তারাও কাল বেরিয়ে পড়েছেন হলিডে গাইডের কাছ থেকে নেওয়া প্যাকেজে। কোচ, কর্মকর্তা, খেলোয়াড়- সবাই একসঙ্গে ঠিক করেই নেমেছেন যে মনের মধ্যে 'ভারত ম্যাচ', এ কথাটি আনবেন না। তাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এই ম্যাচটি ঘিরে আগে এত বেশি তারা ভেবেছে যে ম্যাচের দিন সেটা চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এবার ওই 'মনের ভূত' তাড়ানোর জন্যই সবাইকে ট্যুরিস্ট বানিয়ে দেওয়া!

কিন্তু চাইলেই কি আর ক্রিকেটকে ছেড়ে থাকা যায়, এই শহরেই খেলা চলছে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের। ভারতের ম্যাচও রয়েছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুটি ম্যাচের সঙ্গেই যে সেমির অনেক হিসাব-নিকাশ জড়িত।

হোটেলের বাইরে দেখা হয়ে যাওয়া মাশরাফির সঙ্গে ছুটির গল্পে তাই ক্রিকেটও উঠে এলো। এজবাস্টনে দুটি ম্যাচ রয়েছে পরপর। মাশরাফির ধারণা, হয়তো এবারও 'ইউসড' উইকেটে খেলা পড়তে পারে। এবং সেটা পড়লে টাইগারদেরই সুবিধা হবে। কেননা, শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকেও ওই ব্যবহার হয়ে যাওয়া পিচেই খেলা হয়েছে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার ওই ম্যাচটিও খেলা হয়েছিল পুরনো পিচে। তবে কী হয়, এখনও জানা হয়নি তাদের। অবশ্য জানার তাড়াও নেই। ৩০ জুনের আগে আর মাঠের দিকে যাওয়া হচ্ছে না। আইসিসিই সে সুযোগ দেয়নি। অনুশীলনের জন্য কোনো মাঠ বরাদ্দ নেই টাইগারদের। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ছুটি কাটাতে হচ্ছে। টিম হোটেলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ রয়েছেন বিষণ্ণ মনে। ফিজিও আশ্বস্ত করেছেন, তাকে ভারতের বিপক্ষে অন্তত মাঠে নামানোর মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারবেন তিনি। লিটনও রয়েছেন হোটেলে, সদ্য বিবাহিত স্ত্রী এসেছে তার। সাকিব লন্ডনেই রয়েছেন, প্যারিসে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ভিসা দেরিতে আসায় বিশ্বকাপের পরই প্যারিস ভ্রমণের তারিখ রেখেছেন।

এ মুহূর্তে ভারত ম্যাচটি নিয়ে যা কিছু আলোচনা, তা বার্মিংহামের ওই বাঙালি পাড়াতেই। ২ জুনের ওই ম্যাচের টিকিট বেশিরভাগই ভারতীয় দর্শকের দখলে। এই শহরটিতেও ভারতীয়দের বসবাস বেশি। আইসিসি এ জন্যই কোহলিদের ম্যাচ রেখেছে গায়ে গায়ে। ৩০ জুন ভারত-ইংল্যান্ড, ২ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান আর ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটিই ব্লকবাস্টার ম্যাচ ধরে রেখেছিল। এরই মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ফ্লপ হয়েছে। এখন তারা আশায় আছেন ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি নিয়ে। কিন্তু এ মুহূর্তে বার্মিংহামে চলছে ভারতীয়দের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বাংলাদেশিদের ম্যাচ টিকিট কিনে নেওয়ার হিড়িক। মাহাবুব নামের বাংলাদেশি এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ১১৫ পাউন্ডের টিকিট ৪৫০ পাউন্ড দিয়ে কিনেছেন! কোহলিদের সঙ্গে ম্যাচ থাকলে নাকি স্টেডিয়ামেও অন্যান্য দলের সমর্থকদের ঢুকতে বাধা দেয় ভারতীয়রা- এমন অভিযোগও রয়েছে এখানকার প্রবাসীদের মধ্যে। তাই এবার নাকি মিছিল নিয়ে সব একসঙ্গে মাঠে ঢুকবেন তারা। মাশরাফি জানালেন, তার সঙ্গে দেখা হওয়া কিছু বাংলাদেশি জানাচ্ছিলেন, ওই ম্যাচটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পারদ চড়ছে। আসলে আইসিসি যত যা-ই মনে করুক, এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশই জমিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এবং ভারত-পাকিস্তান নয়, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচই ব্লকবাস্টার। দ্বিমত করেননি মাশরাফি। শুধু একটা অনুরোধই করেছেন- সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন এই ম্যাচ নিয়ে বাড়াবাড়ি কিছু না হয়।

বিষয় : পুরনো উইকেট চান মাশরাফি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ-২০১৯