বিশেষজ্ঞ কলাম

চিন্তার কিছু নেই অস্ট্রেলিয়ার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

স্টিভ ওয়াহ

গত এক বছরে ভারত আর অস্ট্রেলিয়া বেশ ক'বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে, তাই তাদের ম্যাচের উত্তেজনার পারদ ওপরে থাকাটাই স্বাভাবিক। এই দ্বৈরথে কোনো দলই এখনও পরিস্কারভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপের চাপের ম্যাচে ভারতের এমন জয় টুর্নামেন্টে সামনের ম্যাচগুলোতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। ওভালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ টস জিতেছে ভারত। কারণ ওই পিচটা ছিল ব্যবহূত, আর ম্যাচ যত গড়িয়েছে সেটা আরও ধীরগতির হয়েছে। ভারতের ব্যাটিং ছিল খুবই হিসেবি। তাদের পরিকল্পনা ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে একটি ভিত্তি গড়ে তোলা; তারা সেটা ভালোভাবেই কার্যকর করেছে। তারা যখন ব্যাটিংয়ে একটা ভালো শুরু পেয়ে যায়, ইনিংসের বাকি দায়িত্বটা তখন বিরাট কোহলি নিয়ে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচেও তাই হয়েছে।

তবে মূলত হার্দিক পান্ডিয়ার ইনিংসটিই প্রতিপক্ষের শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সে যেন ঠিক ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ল্যান্স ক্লুজনারের মতো। অন্য ব্যাটসম্যানরা যেভাবে বড় শট খেলে ইনিংস শেষ করে, পান্ডিয়া সেভাবে শুরু করে। আর কোনো ক্যাপ্টেনেরই তা আটকানোর উপায় জানা নেই।

তার ওপর ধোনির বুদ্ধিমত্তা আর বিস্ময়কর প্রতিভা তো আছেই। অস্ট্রেলিয়ার ওপর তার আক্রমণ ছিল খুবই সময়োচিত। এটিই ভারতকে সাড়ে তিনশ' পার করাতে সাহায্য করে।

ফিল্ডিংয়ে বেশকিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছে অস্ট্রেলিয়া। এতে তারা নিশ্চয়ই হতাশ। তাদের বোলিংও ছিল দিশাহীন আর ছন্নছাড়া। এত বড় স্কোর তাড়া করতে হলে ভালো প্ল্যাটফর্মের দরকার হয়। শেষ ১৫ ওভারে আক্রমণ করতে হলে এটা জরুরি। শুরুতে খুব বেশি পিছিয়ে পড়লে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া কখনোই রান তাড়া করার মতো অবস্থায় ছিল না। ডেভিড ওয়ার্নারকে দেখে মনে হয়নি সে স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ে খেলছে। স্টিভেন স্মিথকেও মনে হয়েছে ক্রিজে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য লড়ছে। এ অবস্থায় ম্যাচ জিততে হলে অনেক কিছুই নিজেদের পক্ষে থাকতে হয়। অ্যারন ফিঞ্চের রানআউটই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। সে ভালো ফর্মে ছিল আর বড় সেঞ্চুরির জন্য সেট হয়ে গিয়েছিল।

ফিঞ্চ আর অ্যালেক্স ক্যারির দারুণ শট সিলেকশন জানান দিচ্ছে এ আসরে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসটি ব্যাটিং অর্ডারে তাকে আরও ওপরে খেলানোর দাবিটা জোরালো করবে। সে এমন এক ম্যাচ উইনার যে মাত্র কয়েক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন ক্রিকেটারের নেতৃত্বগুণের পরিচয় নানাভাবেই প্রকাশ পেতে পারে। তবে ভারতীয় দর্শকদের স্টিভেন স্মিথকে দুয়ো দেওয়ার বিষয়টি বিরাট কোহলি যেভাবে সামলেছে, তাতে বোঝা যায় সে একজন জাত নেতা।

ভারতীয় দল এ ম্যাচ থেকে পুরো আত্মবিশ্বাস নিতে পেরেছে। চাপের মুখে তাদের বেশিরভাগ

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই পারফর্ম করেছে এবং তাদের পরিকল্পনা যথাযথভাবেই বাস্তবায়িত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ারও খুব বেশি হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের হাতে এ হারের বিশ্নেষণের জন্য সময় আছে। সেমিফাইনাল আসা অবধি ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করা বা বোলিং নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সময় তারা পাবে। এই বিশ্বকাপ এখন খুবই উন্মুক্ত। মোটামুটি ছয়টি দল লর্ডসে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ব্যাপারে আশাবাদী।

লেখক:অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক

বিষয় : বিশেষজ্ঞ কলাম ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১৯