অন্য চোখে

ক্যাচ ড্রপ, ভুলে ভরা আম্পায়ারিং...

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

স্পোর্টস ডেস্ক

কেউ ইচ্ছা করে বৃষ্টি নামায় না। খেলায় কেউ ইচ্ছা করে ক্যাচ ছাড়ে না। আম্পায়াররাও ইচ্ছা করে ভুল সিদ্ধান্ত দেন না। অনিচ্ছার সেই কাণ্ডগুলোই এবারের বিশ্বকাপে ঘটছে বেশি বেশি। ১২ আসরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৩) ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়ে গেছে এবারই। তাও আবার প্রথম ১৬ ম্যাচের ভেতরেই। যে ১৩টি ম্যাচ খেলা হয়েছে, তাতেও আছে ক্যাচ ড্রপ ও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের আধিক্য। বছরের বাকি সময়ের তুলনায় যা অনেক ক্ষেত্রেই বেশি।

এযাবৎ যে ২৬টি ইনিংসে খেলা হয়েছে, তার মধ্যে ক্যাচ ড্রপ হয়েছে ২৭টি। প্রতি ইনিংসে একটিরও বেশি! ক্যাচ ড্রপের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে ইংল্যান্ড, সর্বোচ্চ পাঁচটি ড্রপ হয়েছে দলটির। একজনের ভোগান্তি মানে আরেকজনের পোয়াবারো। প্রতিপক্ষের বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে বেশি লাভবান হওয়ার দলটির নাম ভারত। বিরাট কোহলির দল ক্যাচ আউট থেকে বেঁচে গেছে মোট ছয়বার। এর মধ্যে দুটি আবার জয়ের পথও খুলে দিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১ রানের মাথায় ফাফ ডু প্লেসিসের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতানো ১২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রোহিত শর্মা। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষদিকে নেমে ২৭ বলে ৪৮ রান করা হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন অ্যালেক্স ক্যারির হাত থেকে। মজার বিষয় হচ্ছে, নিজেরা ছয়বার ক্যাচ ড্রপের সুবিধা পেলেও ভারত এখন পর্যন্ত একটি ক্যাচও মিস করেনি। ইংল্যান্ড অবশ্য পাঁচটি ড্রপের বিপরীতে চারবার নতুন সুযোগও পেয়েছে। যদিও যোগ-বিয়োগের কাটাকাটিতে একটি ক্ষতি শেষ পর্যন্ত থেকেই গেছে। তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এক্ষেত্রে মোটের ওপর ভালো আছে। দু'দলই প্রতিপক্ষের জন্য চারবার ক্যাচ ছেড়েছে, সুবিধাও পেয়েছে চারবার করে। ভারতের মতো একটিও ক্যাচ না ছাড়া আরেক দল আফগানিস্তান। যদিও তিনবার আউট থেকে বেঁচেছে তারা। ক্যাচ ধরা আর বেঁচে যাওয়ার অদল-বদলে সুবিধাপ্রাপ্ত অন্য দলটি শ্রীলংকা। একটি মিস করে দুটি জীবন পেয়েছে তারা। আর হিসাবের ঘরে ক্ষতি লেখা আপাতত অস্ট্রেলিয়া (৩ মিস, ১ সুবিধা), নিউজিল্যান্ড (৪ মিস, ০ সুবিধা), পাকিস্তান (৪ মিস, ২ সুবিধা) ও উইন্ডিজের (২ মিস, ১ সুবিধা)।

তবে ক্যারিবীয়রা আবার ডিআরএসের দিক থেকে বেশ লাভবান। এখন পর্যন্ত আম্পায়ারদের মোট সাতটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে তারা। যার মধ্যে পাঁচটিই এসেছে পক্ষে। এবার সব মিলিয়ে আম্পায়ারদের দেওয়া ২৯টি সিদ্ধান্ত ডিআরএসে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে; এর মধ্যে সফল হয়েছে ৯টি; যার অর্থ খেলোয়াড়দের ৩১ শতাংশ ভিন্নমতই সফল। অন্য সব সময়ের তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি। ডিআরএস চ্যালেঞ্জে আম্পায়ারকে ভুল প্রমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে আফগানিস্তানের। তাদের নেওয়া পাঁচটি রেফারেলের চারটিই সরাসরি বাতিল হয়েছে, অন্যটিতে আম্পায়ার্স কল হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ দল তিন ম্যাচে দুটি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিল। দুটিই সরাসরি বাতিল হয়। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডিআরএস চ্যালেঞ্জ বাতিল হয়েছে তিনটি করে। প্রোটিয়াদের আরও দুটি সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেছে আম্পায়ার্স কলের কারণে। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি করে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছে তিন এশিয়ান দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। ভারতেরটি সফল হলেও বাকিদেরটি সরাসরি বাতিল। আম্পায়ারদের মধ্যে ডিআরএসের কারণে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন বেশি ক্রিস গাফানি। নিউজিল্যান্ডের এ আম্পায়ারের পাঁচটি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ হয়েছে, যার মধ্যে তিনটিই ভুল প্রমাণিত হয়। ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড এবং শ্রীলংকার রুচিরা পালিয়াগুরুগের সিদ্ধান্ত পাল্টেছে দুটি করে।