ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই চাপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ড্যানিয়েল ভেট্টরি

বিশ্বকাপ শুরুর তিন ম্যাচেই জয় নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছয় পয়েন্ট নিয়ে এ ম্যাচ খেলতে নামাটা দারুণ ব্যাপার। এটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে ম্যাচগুলো শেষ করতে পারাটা সত্যিই অনেক তৃপ্তিদায়ক। এটা জানা কথা, ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই অনেক চাপ। ভারত সম্ভবত বিশ্বের সেরা দল। আর এত বিপুল দর্শকের সামনে এমন একটি ম্যাচ খেলতে পারাটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার।

উপমহাদেশে নিউজিল্যান্ডের অনেকেরই হয়তো এ অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডে এটা তাদের জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। নিউজিল্যান্ড যেহেতু অনেক দিন ধরেই ভালো খেলে আসছে, তাই এ ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন, তা দিয়ে দলটাকে বিচার করা যাবে না।

তারা ধারাবাহিকভাবেই খেলার চেষ্টা করবে। তাই কোনো একটি ম্যাচ বা একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স যা-ই হোক না কেন, তারা পরের ম্যাচে আবার ভালো করবে। এটা বিশ্বকাপ। এখানে চাপে পড়লে বিষয়গুলো কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এখন যেহেতু তিন ম্যাচ জেতা হয়ে গেছে, এ অবস্থায় নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচকে একটু সহজভাবে নিতেই পারে। আফগানিস্তানের সঙ্গে শেষ ম্যাচে জয়টা ছিল দারুণ। এ ম্যাচে সবাই তাদের ভূমিকা ভালোভাবেই পালন করেছেন। অবশ্য সেরা পারফরম্যান্স এসেছে জিমি নিশাম আর লকি ফার্গুসনের কাছ থেকে। তারা দু'জনে মিলে ৯ উইকেট নিয়েছেন। বিশেষ করে নিশামের বোলিং ফিগার ছিল অসাধারণ।

সোজাসুজি বললে, দলে নিশামের কাজ হলো প্রয়োজনে কিছু ওভার করে দেওয়া, লাইন-লেন্থ বজায় রেখে চাপটা ধরে রাখা আর পারলে একটা-দুটো উইকেট তুলে নেওয়া। কিন্তু গত ম্যাচের মতো পারফরম্যান্স যদি সে প্রতি ম্যাচেই করতে পারেন, তাহলে নিউজিল্যান্ড সেটা দু'হাত ভরেই নেবে। নিশামের রেকর্ড খুব ভালো না হলেও তার পাঁচ উইকেট নেওয়াটা আমাকে বিস্মিত করেনি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সে আফগানিস্তানের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের পাঁচজনের উইকেট নিয়েছেন। শুরুতেই সে বল করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। সে যে নিয়মিত উইকেট নেবেন, এমনটা বোধ হয় কেন উইলিয়ামসনও আশা করেননি। তবে নিশামের এমন পারফরম্যান্স তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

নিউজিল্যান্ড সব সময় দুই অলরাউন্ডার নিয়ে খেলার পক্ষপাতী। তাদের ব্যাটিংয়ের ওপর ভরসা আছে দলের। তাই এমন পারফরম্যান্স নিউজিল্যান্ডের জন্য আরেকটি অপশন হিসেবে কাজ করবে। এটা নিয়মিত বোলারদের ওপর থেকে অনেকখানি চাপ কমিয়ে দেবে। তারা সবাই সব ম্যাচে ভালো করবে না। তাই হাতে এমন বিপজ্জনক বিকল্প থাকলে তা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিশেল স্যান্টনারের বল না করাটা একটু অন্য রকম লেগেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচের অমন পারফরম্যান্সের পর। স্পিনার হিসেবে ফর্মে থাকলে আপনি সব সময় বল করতে চাইবেন। তাই তিনি হয়তো একটু হতাশ হবেন। তবে তাকে যে বল করতে আসতেই হয়নি, এটাও পেসারদের কৃতিত্ব।

লেখক: নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক

বিষয় : ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই চাপ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ-২০১৯