ধারাবাহিকতাই ওয়ালশের মন্ত্র

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, টনটন থেকে

ছবি: বিসিবি

দেয়ালের গায়ে গায়ে ভিভ রিচার্ডস, জোয়েল গার্নারের আশির দশকের সাদাকালো সব ছবি। সমারসেটের হয়ে একসময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ওই ক্যারিবীয়রা। ড্রেসিংরুমে ঢোকার মুখেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তা দেখে নিলেন কোর্টনি ওয়ালশ। প্লে ব্যাকে ফিরে গেলেন কি? ওই সময় গ্লুস্টোশায়ারের হয়ে খেলতেন ওয়ালশ। সমারসেটের ডার্বিই হতো দুই মাঠে ব্রিস্টল আর টনটনে। তাই টনটন তার কাছে মোটেই অপরিচিত নয়। জানেন মাঠের পাশের পুরনো গির্জাটি থেকে কখন ঘণ্টাধ্বনি ওঠে। উইকেটের কোন পাশ থেকে হাওয়াটা বেশি জোরে লাগে, কোন দিকের বাউন্ডারিটা ছোট। বৃষ্টির কারণে ক'দিনের অলস সময়টাই তার কাছে যত বিরক্তির, 'বৃষ্টির ওপর তো আর কারও হাত নেই। ছেলেদের নিয়ে সেন্টার উইকেটে গিয়ে প্র্যাকটিস করাতে পারলে ভালো হতো।'

টাইগারদের সঙ্গে অনেক দিন হলো তার। দল নির্বাচন নিয়ে কখনোই নিজের জোরালো মত চাপিয়ে দেন না। এক মনে থাকেন, ঝুটঝামেলাও এড়িয়ে চলেন সতর্কে। তার পরও কাল যখন রুবেলের খেলার কথাটি উঠে এলো, তখন প্রিয় ছাত্রের জন্য কিছুটা সুপারিশ করলেন তিনিও।

'রুবেল গত মৌসুম দারুণ খেলেছে। এবারও তার শুরুটা ভালো হয়েছে। একজন পেস বোলিং কোচ হিসেবে তাকে একাদশে দেখতে পারলে আমি খুশি হবো। কিন্তু একাদশ নির্বাচন করা তো আর আমার কাজ নয়। আমি রুবেলকে তৈরি করে রেখেছি। নেটে হয়তো প্রত্যাশামতো অনুশীলন করতে পারছি না আমরা, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নামার জন্য তৈরি আমাদের পেসাররা।'

নিজে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি; কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, এর আগে যতবারই টাইগাররা ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয়েছে কোনোবারই এতটুকুর জন্যও পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে ক্যারিবীয় দলকে নিয়ে আহ্লাদ করতে দেখা যায়নি তাকে। গতকালও কেউ একজন হেসে হেসে জিজ্ঞাসা করছিল- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ, আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং? 'আমি অনেক দিন ধরে বাংলাদেশে আছি। টাইগারদের কোচিং করাচ্ছি। এটাই আমার কাজ। আমি অবশ্যই চাই, আমার ছাত্ররা ম্যাচটি জিতুক। এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই।' মুচকি হেসে ওয়ালশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আধুনিক ক্রিকেটে ওসব আবেগ আর চলে না।

তবে হেটমেয়ার, পুরান, গেইল, রাসেল, থমাসদের নিয়ে গড়া দলটিকে শক্তিশালী মনে করছেন তিনি। 'দেখুন এটা ঠিক যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বিশ্বকাপে ভালো করছে। ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়েও দলটি বেশ শক্তিশালী। তবে আমরা তাদের দেখছি একটু অন্যভাবে। আমরা কিন্তু এ দলটির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছি। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং- ওদের সঙ্গে গত কয়েক বছর আমরা সব বিভাগেই ভালো খেলছি। সেই ধারাবাহিকতাটাই ধরে রাখতে হবে। তাহলেই আমরা যে কাঙ্ক্ষিত পয়েন্টের দিকে চেয়ে আছি সেটা পেয়ে যাব।'

মাঠের বাউন্ডারির আকার ছোট এবং উল্টো দিকে রাসেলের মতো হার্ডহিটার- টাইগার বোলারদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে? প্রশ্ন ছিল ওয়ালশের কাছে। উত্তর দীর্ঘদেহী কিংবদন্তির, 'দেখুন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের ধারাবাহিকতা বেশ ভালো। তবে এটা নতুন একটি টুর্নামেন্ট, নতুন মাঠ, নতুন পিচ- সব মিলিয়ে নতুন করেই আমাদের নামতে হবে। মাঠে বাউন্ডারির আকার যেহেতু ছোট সেহেতু আমাদের কৌশল পাল্টাতেই হবে এবং আমরা সেটা করে যাচ্ছি। কিন্তু সঙ্গত কারণেই সেটা আমরা মিডিয়ায় বলব না।'

কনসিটেন্সি, কন্ট্রোল এবং এক্সিকিউশন- রেকর্ডারটি রিপ্লে করে বারবার এ তিনটি শব্দের ওপরই জোর দিতে দেখা যায় ওয়ালশকে। বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, ক্যারিবীয় বধ সম্ভব, যদি ওই তিনটি শব্দের সফল প্রয়োগ করতে পারে তার ছেলেরা।