টানা খেলতে পারবেন না সাইফউদ্দিন

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আলী সেকান্দার

ছন্দে থেকেও শ্রীলংকায় খেলতে যেতে না পারার মর্মপীড়ায় ভুগছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তামিম ইকবালরা কলম্বো গেছেন একগুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে। দু'দিন আগেও সাইফউদ্দিন জানতেন, এই দলের একজন সহযাত্রী তিনিও। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বোলিং করতে গিয়ে বুঝলেন এ যাত্রায় তার আর যাওয়া হচ্ছে না। পিঠের ব্যথাটা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীও এই পেসারকে না খেলার পরামর্শ দেন। কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনও বুঝে যান মাশরাফি বিন মুর্তজার মতো সাইফউদ্দিনকেও ঢাকায় রেখে যেতে হচ্ছে।

গতকাল এ প্রসঙ্গ উঠতেই কেমন চুপসে গেলেন সাইফউদ্দিন। জড়ানো কণ্ঠে বলেন, 'এত ভালো ছন্দে থাকার পরও খেলতে পারব না। শ্রীলংকা যাওয়া হলো না।'

শুধু শ্রীলংকা সফরই নয়, সামনের দিনগুলোতে টানা খেলে যাওয়াও অনিশ্চয়তায়। খেলতে পারবেন না টেস্ট ক্রিকেটও। যদিও সাম্প্রতিক সময়টা তার ভালোই যাচ্ছিল। বিশ্বকাপে ৫৮ ওভার বল করে ৪১৭ রান দিয়ে সাত ম্যাচে ১৩ উইকেট তার। ইকোনমি ৭.১৮। বিশ্বকাপে দলের স্ট্রাইক বোলারও ছিলেন ২২ বছরের এ তরুণ। ব্যাট হাতে খুব বেশি ইনিংসে নামার সুযোগ না হলেও ভারতের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করে দলের মান বাঁচিয়েছেন। পিঠে ও ডান হাতে টেনিস এলবোর ব্যথা না থাকলে হয়তো আরও ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যেত এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে।

সাইফউদ্দিনের পিঠের ব্যথা তার খেলার বয়সেরই সমান। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানান, নয় বছর ধরে পিঠের ব্যথায় ভুগছেন ফেনীর এ ক্রিকেটার। গতকাল সাইফউদ্দিনও জানালেন, '১৩ বছর বয়স থেকেই ব্যথা অনুভব করতে থাকি। খেলার কারণে সেটা বেড়েছে। চাপ পড়লেই খুব ব্যথা করে।'

সাইফউদ্দিনের চোটকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'ফিসেট'। মেরুদণ্ডের সঙ্গে পাজরের হাড়ের জোড়ায় এ ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয় বলে জানান দেবাশীষ চৌধুরী। ক্রিকেটে মূলত পেস বোলাররা এ ধরনের সমস্যায় বেশি ভোগেন।

বিসিবির এই চিকিৎসক জানান, 'সাধারণত বোলিং টেকনিকে সমস্যা থাকলে 'ফিসেট' ইনজুরি হয়। শুরুতে টেকনিক ঠিক করা গেলে চোট ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দেরি হলে ফিসেট ভালো করতে গেলে অন্য সমস্যা দেখা দেয়। সাইফউদ্দিনের ক্ষেত্রে সেই দেরিটাই হয়ে গেছে। এখন টেকনিক বদলালে বলে পেস থাকবে না। এর পরও কথা থাকে, টেকনিক পরিবর্তন করে পুরোপুরি ভালো নাও হতে পারে। সাইফউদ্দিনকে খেলতে হবে 'ওয়ার্ক লোড' ম্যানেজ করে।'

গত চার মাস ধরে পিঠের ব্যথাটা বেশি ভোগাচ্ছে সাইফউদ্দিনকে। ডানহাতি এ পেসারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা খেলার মধ্যে থাকায় সমস্যাটা বেশি হচ্ছে তার। টাইগারদের নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই গত মার্চে পিঠের ও টেনিস এলবোর ব্যথা নিয়ে দেশে ফেরেন সাইফউদ্দিন। ফিজিওর পরামর্শে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য বোর্ডের কাছে লিখিত অনুরোধও করেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। কিন্তু কোচের অনুরোধ উপেক্ষা করে জোর করেই প্রিমিয়ার লীগে খেলায় তার দল। এতে করে পিঠের এবং টেনিস এলবোর ব্যথা বেড়ে যায়। ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যান সাইফউদ্দিন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার পর ব্যথা ফিরে আসে। ইংল্যান্ডের লিস্টারশায়ারে বিশ্বকাপের ক্যাম্প চলাকালে আবারও ইনজেকশন নিতে হয় তাকে। পাঁচ ম্যাচ খেলার পরই আবারও ব্যথা ফিরে এলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পারেননি তিনি। এক ম্যাচ না খেলায় দলের প্রতি ফেনীর এ বোলারের একাগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও সাইফউদ্দিনের চোটের গভীরতা সম্পর্কে কেউই উপলব্ধি করতে পারেননি তখন।

এ নিয়ে দেবাশীষ চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'একটা ইনজেকশন নিয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি ম্যাচ খেলা যায়। এরপর ব্যথা ফিরে আসে। সাইফউদ্দিনকে খেলতে হলে বিরতি দিয়ে খেলতে হবে। সে টানা খেলতে পারবে না।'

ফিসেট চোটের কারণে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবেন না সাইফউদ্দিন। এই চোট থেকে মুক্তির পথ নেই বলেও জানান দেবাশীষ, 'তার এই চোট সারবে না। বারবার ইনজেকশন দেওয়াও বিপজ্জনক। রেডিওথেরাপি দিলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সে চিকিৎসাও বিদেশে নিতে হবে। এ ছাড়া বায়োম্যাকানিকস টেস্ট করে সমাধান খুঁজতে হবে। বিসিবি থিঙ্কট্যাঙ্ককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এখন তাদের হাতে।' তবে ব্যথা কমাতে গতকাল থেকেই পুনর্বাসন শুরু করেছেন সাইফউদ্দিন।

বিষয় : ক্রিকেট সাইফুদ্দিন