চাপ কিংবা ভীতি নেই টাইগারদের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ০২ জুলাই ২০১৯   

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, বার্মিংহাম থেকে

ছবি: এএফপি

ছবি: এএফপি

উল্টে-পাল্টে, ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্ন অনেকটা একরকম। প্রশ্নে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও তারা মাশরাফি মর্তুজার উত্তর থেকে একটা শব্দ খুঁজছিলেন। সম্ভবত তারা টাইগার অধিনায়কের মুখ থেকে খবরের একটা শিরোনাম চাচ্ছিলেন। কিন্তু সমীহ টাইপের কোন কথা ম্যাশের মুখ থেকে বেরোয়নি। বরং জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের চোখ এখনও সেমিফাইনালে।

মঙ্গলবার এজবাস্টনে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্ন- বাংলাদেশ দল ভালো খেলছেন, এতে মাশরাফি বিস্মিত কি-না। অধিনায়ক উত্তর দিলেন, নাহ মোটেও না। আসলে আমি বুঝতে পারছি না, আপনি কি বলতে চাইছেন। পরের প্রশ্নটাও সূক্ষ্ণ তিরের মতো, এখনও সেমিফাইনালের আশা করেন। মাশরাফি বললেন, একশ’ ভাগ। তার জন্য বেশি কিছু করতে হবে না আমাদের। শুধু সেরা খেলাটা দিতে হবে।

এতেই মনে হয় ভারতীয় সাংবাদিকরা বুঝে গেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মনে কি চলছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই এখন উত্তাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং নিদাহাস ট্রফি এবং এশিয়া কাপে তারই প্রমাণ দেখা গেছে। প্রশ্নে তাই অন্য রকম সুর। আগের কথা তুলে জানতে চাইলেন, এবার কি ভারতকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বললেন, আমরা যখনই খেলি তাদের হারানোর জন্যই খেলি। তবে ভারত এখন অনেক ভালো দল। মাঠে তাই বাংলাদেশ দল সেরাটা খেলতে মুখিয়ে আছে।

তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ বিপাকে পড়তে পারে এজবাস্টনের ছোট বাউন্ডারির কারণে। ভারত এখানে ইংল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেনি। এক দিকের বাউন্ডারি বড়, অন্য দিকে আবার ছোট। ভারতীয় বোলাররা তাই ইংল্যান্ডের কাছে বেধড়ক মার খেয়েছে। অন্যদিকে কোহলিরা পুরো ইনিংসে ছক্কা মারতে পেরেছে একটা। বাংলাদেশ দলকেও ওই মাঠের জ্যামিতি ভোগাতে পারে। মাশরাফি অবশ্য বিষয়টি অতো জটিল করে দেখছেন না। তার মতে, দু’দলই একই মাঠে, একই উইকেটে খেলবে। তাই বাড়তি চিন্তার কিছু নেই।

এছাড়া এজবাস্টনে টস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড-ভারত যে ‍ উইকেটে খেলেছে ওই একই উইকেটে খেলবে বাংলাদেশ দলও। বড় রান তুলতে হবে। টস জেতা দল ব্যাটিং নেবে চোখবুজে। তবে মাশরাফি দল টস নিয়ে অত ভাবছেন না। টস ‍গুরুত্বপূর্ণ মানছেন। ভারতের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাট নিলে ভালো হবে নাকি বল নিয়ে তা মাশরাফি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।

এর মধ্যে অবশ্য মাশরাফিকে এক মজার প্রশ্নও করা হয়েছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মজা করে উত্তরও দিয়েছেন। মাশরাফি মর্তুজা সংসদ সদস্য হিসেবে বিশ্বকাপ খেলছেন। দেশকে বিশ্ব আসরে নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি। দেশের মানুষের কাছে মাশরাফি এক আবেগের নাম। যে সাংবাদিকদররা ক্রিকেট নাড়া-চাড়া করেন তাদের তা অজানা নয়। এখান থেকে ১০-১৫ বছর পরে মাশরাফি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে কি-না সেই  প্রশ্নও তাকে করা হয়। মাশরাফি হেসে ফেলেন। উত্তর বলেন, আপনি কি আমাকে মারতে  চান। সাংবাদিকও জানিনে দেন, তারা চান ক্যাপ্টেন মাশরাফি দীর্ঘজীবী হোন।