শচীন-কুম্বলের ঘটনা মনে করালেন ক্যারি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, তার ওপর ১৪ রানে নেই তিন উইকেট। উইকেটে আগুন ঝড়াচ্ছেন জোফরা আর্চার, ক্রিস উকসরা। আর্চার তো রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছেন অজি ব্যাটসম্যানদের মনে। উইকেটে এলেন অ্যালেক্স ক্যারি। এবারের আসরে এমন পরিস্থিতিতে আগে পড়তে হয়নি তাকে। 

প্রথম চার বলে চার রান করলেও উইকেটে মোটেও স্বস্তি পাচ্ছিলেন না অ্যালেক্স ক্যারি। আর্চারের পঞ্চম বলটা এসে আঘাত করল ক্যারির হেলমেটে। তাতেই রক্তারক্তি কাণ্ড। 

স্টিভ স্মিথের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যারি। তখনই ছোবল মারেন আর্চার। ইনিংসের অষ্টম ওভারের শেষ বলটি লাফিয়ে ওঠে আঘাত করে ক্যারির হেলমেটে। ক্যারি মাথা সরাতে চাইলেও নিজেকে বাচাতে পারেননি।  

আর্চারের ঘণ্টায় ৮৬ মিটার গতির বলে হেলমেটও খুলে যায় ক্যারির, থুতনিও কেটে যায় অনেকটা। তবে হার মানেননি অস্ট্রেলীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ক্যারির পুরো চোয়াল ব্যান্ডেজ করে দেন অজি ফিজিও। 

ব্যান্ডেজ বেঁধে আবার ব্যাটিং শুরু করেন ক্যারি। আদিল রশিদের শিকার হওয়ার আগে খেলেছেন ৪৬ রানের ইনিংস। তার চেয়ে বড় কথা স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেছেন ১০৩ রান। এই জুটিটিই মান রাখে অস্ট্রেলিয়ার। 

ক্যারির এই লড়াই মনে করিয়ে দিল ১৭ বছর বয়সী কিশোর শচীন টেন্ডুলকারের কথা। ১৯৮৯ সাল। শচীনের ক্যারিয়ারের প্রথম পাকিস্তান সফর। গতির অপর নাম তখন ওয়াকার ইউনুস। ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ভারত তখন কাঁপছে।

ব্যাট করতে আসলেন কিশোর শচীন। ওয়াকারের একটা বাউন্সার এসে লাগলো শচীনের নাকে। দরদর করে রক্ত পড়তে শুরু করল। তবে মাঠ থেকে উঠলেন না তিনি। রক্ত মুছে খেলে গেলেন। করলেন ৫৪ রান।  সবচেয়ে বড় কথা লিটন মাস্টারের সেই ইনিংসে ম্যাচটা ড্র করে ভারত। 

২০০২ সালে অ্যান্টিগা টেস্টে ব্যাট করার সময় মারভিন ডিলনের বাউন্সারের আঘাত পেয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। উইকেটের বেশ কয়েক জায়গায় রক্ত। ব্যান্ডেজ করে আবার ব্যাটিং শুরু করলেন। মাথা ও চোয়ালের বেশির ভাগটাই সাদা ব্যান্ডেজে বাঁধা। ব্যাট হাতে ভালো না করলেও খানিক বাদেই বল হাতে নেমে পড়লেন ভারতীয় স্পিনার।

কয়েক ওভারের মধ্যেই ত্রাস ধরিয়ে দেন তিনি। কার্ল হুপারের উইকেটটাও প্রায় তুলেই নিয়েছিলেন। হুপার বাচলেও রক্ষা পাননি ব্রায়ান লার। কুম্বলের একটা বল আঘাত হানে লারার প্যাডে। আপিল করতেই ডেভিড শেফার্ড তর্জনী তুলে দেন। সেবারই প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করে ভারত।