পেসারদের উন্নতি দেখছেন ল্যাঙ্গেভেল্ট

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: বিসিবি

পেস বোলারদের প্রথম দিন দেখে যতটা হতাশ হয়েছিলেন চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট তার অনেকটাই কেটে গেছে এই ক'দিনে। টাইগারদের নতুন পেস বোলিং কোচ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি পর্ব শেষে জানালেন, তাসকিন, মুস্তাফিজরা দ্রুত শিখছে। প্রস্তুতি ম্যাচে পেস বোলাররা অনেকটাই ধারাবাহিক বল করতে পেরেছেন। টেস্টেও ধারাবাহিক বোলিং দেখতে চান ল্যাঙ্গেভেল্ট।

প্রশ্ন: প্রস্তুতি কেমন হলো?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। গত কয়েকটা দিন ভালো কেটেছে। প্র্যাকটিসে যে জিনিসগুলো নিয়ে কাজ হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখতে পেলাম দুই দিনের গেমে। শুরুতে ছেলেদের দেখে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কাজ করার পর এখন সবকিছু ঠিকঠাক করছে।

প্রশ্ন: তাসকিনকে কেমন দেখলেন?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: ইনজুরির কারণে লম্বা সময় খেলার ভেতরে ছিল না সে। তাকে ম্যাচে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম। সে দারুণ বোলিং করেছে। অবশ্য দ্বিতীয় নতুন বলে সে কিছুটা ধুঁকছিল। এর কারণ হলো, অনেকদিন সে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি।

প্রশ্ন: টি২০ সিরিজে মুস্তাফিজকে পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: এ মুহূর্তে তার ছোটখাটো ইনজুরি আছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাকে। কারণ সামনে সাদা বলের অনেক খেলা। টি২০ বিশ্বকাপ আছে। আমাদের উচিত হবে, তাকে সতর্কতার সঙ্গে খেলানো। কারণ সে টি২০ এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে আমাদের সেরা বোলার। আজ এক ওভার বল করার পরই মাঠে থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: তাকে কি টেস্টে মিস করবেন?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: অবশ্যই মুস্তাফিজকে মিস করব। সে খুবই ভালো একজন বোলার। দলের জন্য সে অপরিহার্য একজন বোলার। সাদা বল এবং লাল বলে এই কন্ডিশনে দারুণ সফল। টেস্ট ক্রিকেটে সে খুবই ধারাবাহিক। আমার জন্য আনন্দের যে, সে আজ প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু তার ছোটখাটো ইনজুরি আছে সে কারণে টেস্টের মতো ম্যাচে খেলানো ঠিক হবে না। আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ আছে। টেস্টের চেয়ে তাকে টি২০-তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: ১০ দিনের মতো প্রস্তুতি হলো, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: আমার জন্য এটা দারুণ ব্যাপার যে, তারা খুব দ্রুত শিখছে। প্রথম দিন দেখেছি তারা উইকেট টেকিং ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিটি বলেই উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ১২টি বল ধারাবাহিক ডেলিভারি দেওয়া। তারা কতটা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে, সেটাই আমার কাছে আসল। শুরুতে ১২টি ডট বল করতে পারলে উইকেট পাবেই।

প্রশ্ন: টেস্ট দলে মাত্র তিনজন সিমার নেওয়া হয়েছে। কম হয়ে গেল না?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: অধিনায়ক যেটা চাইবে, সেটাই হবে। এই কন্ডিশনে সিমারদের ভালো করা কঠিন। এখানে আমাদের সিমাররা সংগ্রাম করে। সিমার ক'জন থাকবে, সেটা অধিনায়কের ওপর নির্ভর করে। অধিনায়ক যদি বলে একজন সিমার খেলাতে চায়, আমার কাজ হলো একজনকে প্রস্তুত করে দেওয়া। আমি সেটাই করেছি, তারা খেলার জন্য প্রস্তুত।

প্রশ্ন: আপনি অধিনায়ককে বেশি সিমার খেলাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে আমি তো চাইবই দলে বেশি সিমার থাক। বাস্তবতা হলো, আপনাকে কন্ডিশনও বুঝতে হবে। কন্ডিশন অনুযায়ী খেলতে হবে। অধিনায়ক যদি মনে করে, সে কম সিমার খেলাতে চায়, সেটা তার সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন: স্কিলের কোন জায়গায় বেশি ফোকাস করছেন?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিচ্ছি। কয়েকজনকে খুবই ধারাবাহিক হতে হবে। তাদের স্কিল আছে; কিন্তু তারা উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করে। এটা টেস্ট ক্রিকেট না। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক বল করতে হবে। স্পিনার ও পেস সব বোলারদের জন্যই এটা প্রযোজ্য। প্রস্তুতি ম্যাচে সেটা তারা করে দেখিয়েছে।

প্রশ্ন: বোলাররা আপনার কাছে আসে। তারা কী জানতে চায়, প্রশ্ন করে?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: আমি ছেলেদের বলেছি, তোমরা যে কোনো সময় যে কোনো প্রয়োজনে আমার কাছে আসতে পার। নির্দি্বধায় কথা বলতে পার। সেটা আমার জন্য খুব ভালো হবে। আমি দেখেছি, কোনো বোলারই লজ্জা বোধ করছে না। তারা অসাধারণ। তারা প্রশ্ন না করলে শিখতে পারবে না। এ ব্যাপারে তারা খুবই ভালো।

প্রশ্ন: খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কীভাবে?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: আপনি কারও দেশে গেলে তার কাছে জানতে চাইবেন তার পরিবার কেমন আছে। এভাবেই আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছি।

প্রশ্ন: কে বেশি প্রশ্ন করে?

ল্যাঙ্গেভেল্ট: এবাদত ও তাসকিন। তারা সব সময় প্রশ্ন করে। বাকিরা প্রচুর প্রশ্ন করে নানা বিষয়ে জানতে।