বিসিবিতে চলছে নীরব সংস্কার

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আলী সেকান্দার

ছবি: ফাইল

লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার গ্রেফতার হওয়া এবং এক-দু'জন পরিচালকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে একটু হলেও ইমেজ সংকটে পড়েছে বিসিবি। বিষয়টি অনুধাবন করে বোর্ডের সুনাম ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এরই মধ্যে দু'জন পরিচালক তানজিল চৌধুরী ও গাজী গোলাম মুর্তজাকে ডেকে কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তানজিলকে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন সভাপতি। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রস্তাবে নতুন দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন তানজিল। ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান লোকমান এখন কারাগারে আটক।

বিসিবির স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোতে ভেতরে ভেতরে সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বঞ্চিতদের ভাগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ; বরং সন্দেহের বশে কারও কারও কপাল পুড়তে পারে। সূত্র জানিয়েছে, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববিসহ কয়েকজন পরিচালক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের 'গুডবুক'-এ নেই। এ নিয়ে পরিচালকদের মধ্যেও কানাঘুষা চলছে। চাপা অসন্তোষও আছে তাদের মধ্যে। যদিও অভিজ্ঞ সংগঠক ববিকে গত দুই মেয়াদে কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটিতে থাকার ব্যাপারে বিসিবি সিইওকে আগ্রহের কথা জানিয়ে লিখিত দিয়েও কোনো কমিটি পাননি ববি। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেট সংগঠকের ভাগ্যের শিকে ছেঁড়ার সম্ভাবনা এবারও ক্ষীণ।

তবে এবার কমিটি পুনর্গঠন করার মূল কারণ লোকমান বিতর্কিত হওয়া। মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা এবং বাড়িতে বিদেশি মদ পাওয়ার অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা বিসিবির এই পরিচালকের নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকাতেও আছে। লোকমান বিসিবি সভাপতি পাপনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় বিতর্কের আঁচ ক্রিকেট বোর্ডেও লাগে। সূত্র জানায়, এই বিতর্ক চাপা দিতেই তাকে সব ধরনের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাপন।

গত ৯ অক্টোবর বুধবার বিসিবি পরিচালকদের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় স্ট্যান্ডিং ও সাব-কমিটি থেকে লোকমানকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। একজন পরিচালক এর বিরোধিতা করলেও পাপন তাতে সায় দেন। তারই ধারাবাহিকতায় লোকমানকে সরিয়ে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান করা হচ্ছে তানজিলকে। আগেও ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে তানজিলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'বিসিবিকে আরও গতিশীল করতে চান সভাপতি স্যার। কিছু কমিটি পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছেন এজন্য। আমাকে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের দায়িত্ব নিতে বলেছেন। উনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে, আমি ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।'

সেক্ষেত্রে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে লোকমানকে। তবে লোকমানের পরিচালক পদ বহাল থাকছে। কেবল মোহামেডান ক্লাব থেকে বহিস্কার করা হলে বা আদালত কর্তৃক দোষী প্রমাণ হলে লোকমানকে পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। বিসিবির গঠনতন্ত্রেও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে। মোহামেডান থেকে বহিস্কার করা হলে কাউন্সিলরশিপ হারাবেন লোকমান। সেক্ষেত্রে অটোমেটিক বিসিবি পরিচালকের পদ হারাবেন তিনি।

আর আদালত শাস্তি দিলে পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বহিস্কার করতে হবে। অবশ্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ চাইলে এজিএম বা কাউন্সিলদের জরুরি সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে। মোহামেডান ক্লাব চাইলেও লোকমানের কাউন্সিলর পদ বাতিল করে বিসিবিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিতে পারে। যদিও বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালী অংশ সেটা চান না বলে অভিযোগ করেন একজন পরিচালক। বরং জানা গেছে, এই ইস্যুতে তরুণ পরিচালকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।