বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব, ধর্মঘটে যেতে পারেন ক্রিকেটাররা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: সমকাল

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সোমবার বিকেলে এক 'অভিনব' সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটাররা উপস্থিত থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, ক্রিকেটাররা ধর্মঘটের ডাকও দিতে পারেন।

আগামী মাসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভারত সফর। ওই সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে। এরপর নিজেদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। এই ধর্মঘটের প্রভাব ওই সিরিজে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অসন্তোষ ক্রিকেট বোর্ডের ওপরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিপিএলের আগামী আসরে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকবে না। বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে হবে এই টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এতে করে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের আয় অনেক বেশি কমে যাবে।

বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের অসন্তোষের কারণে মিরপুর স্টেডিয়ামে মিলিত হয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা। ছবি: সমকাল 

এছাড়া চলতি মাসে প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেট জাতীয় লিগ শুরু হয়েছে। সেখানেও ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু তাদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়নি। অথচ জাতীয় লিগ শুরুর আগে ইঙ্গিত ছিল জাতীয় লিগের ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের এই ধর্মঘটের কারণ আর্থিক বিষয় নিয়েই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট এবং টি-২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সমকালের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারেও ক্রিকেটারদের এই আর্থিক দিক নিয়ে কথাও বলেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, 'ক্রিকেটারদের সমর্থন দেওয়ার জন্য আপনাকে সবসময় দৃড় অবস্থান নিতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারে নীতি-নির্ধারণ পর্যায়ে এমন কাউকে দরকার। তাহলে দেখবেন আপনা-আপনিই অনেক ভালো কিছু হচ্ছে।' তিনি জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি নিয়ে বলেন, বর্তমান বাজারে একজন ক্রিকেটারের ওই অর্থ দিয়ে আসলে কিছুই হয় না।

এছাড়া সাকিবের দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঠিকঠাক চলছে না বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং কর্তারা কোন একটি সিরিজ ধরে পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসর সামনে রেখে আট কিংবা অন্তত ছয় মাস আগে পরিকল্পনা করা উচিত। এটা ক্রিকেটের সংস্কৃতিগত একটা ব্যাপার।'