ধর্মঘটের ডাক দিলেন সাকিব-তামিমরা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ইউএনবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সোমবার বিকেলে মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটাররা দাবি করেন, দেশের ক্রিকেট ঠিক মতো চলছে না। সাকিব, তামিম এবং মুশফিকসহ অন্যান্য ক্রিকেটাররা সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। 

এই ধর্মঘটের জেরে আগামী মাসের শুরুতে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। ওই সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে। এরপর নিজেদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। এছাড়া আগামী ২৪ অক্টোবর জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড এবং ২৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পও অনিশ্চয়তার মু্খে পড়ে গেল।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের টেস্ট এবং টি-২০ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মূখপাত্র হিসেবে বলেন, 'দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে ক্রিকেটাররা কোন ধরণের ক্রিকেটে অংশ নেবেন না।' যেহেতু অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে বিশ্বকাপ আছে। তাই তারা আওতার বাইরে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় দল, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারসহ সবাই এই ধর্মঘটের অন্তর্ভূক্ত। সেটা আজ (সোমবার) থেকেই কার্যকর বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে আলোচনা সাপেক্ষে অবশ্যই সবকিছুর সমাধান হবে। দাবিগুলো যখন মানা হবে তখন আমরা আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবো বলে জানান সাকিব।

বাংলাদেশ দলের স্পিন অলরাউন্ডার সাকিব বলেন, 'আমরা সবাই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে কেউ তিন-চার বছর খেলবে, কেউ দশ বছর আছে। যারা ভবিষ্যতে ক্রিকেটে আসবে, তাদের জন্য আমরা একটা ভালো পরিবেশ রেখে যেতে চাই। যেন যেখান থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনে এগিয়ে যায়।'

জানা গেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অসন্তোষ ক্রিকেট বোর্ডের ওপরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিপিএলের আগামী আসরে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকবে না। বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে হবে এই টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এতে করে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের আয় অনেক বেশি কমে যাবে।

এছাড়া চলতি মাসে প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেট জাতীয় লিগ শুরু হয়েছে। সেখানেও ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু তাদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়নি। অথচ জাতীয় লিগ শুরুর আগে ইঙ্গিত ছিল জাতীয় লিগের ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের এই ধর্মঘটের কারণ আর্থিক বিষয় নিয়েই।