জাতীয় দলে খেললে কত টাকা পান একজন ক্রিকেটার?

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

সাধারণ ধারণা ছিল- অনেক টাকা, ক্রিকেটার মানেই সেলিব্রেটি আর গ্ল্যামার। অর্থবৈভব তো আছেই। কিন্তু সেদিন টাইগার ক্রিকেটারদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ওভাবে ম্যাচ ফি বাড়াতে হবে, বেতন দ্বিগুণ করতে হবে শুনে অনেকেই কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত, সত্যিই কি আর্থিক সংকটে ভুগছেন ক্রিকেটাররা? আসলে তারা ঠিক কত পান? জাতীয় দলে খেলা একজন ক্রিকেটারের বছরে আয় কত? সমকাল স্পোর্টসের ফেসবুক পেজের ইনবক্সে পাঠকদের এমন অনেক প্রশ্ন আসে। সে কারণেই একবার দেখে নেওয়া যাক, জাতীয় দলে খেলা বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার আসলেই ঠিক কত টাকা পান, তাদের মাসিক বেতনই বা কত? ম্যাচ ফি কত?

প্রথমে আসা যাক বিসিবির বেতনভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা। চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা বিসিবির বেতন কাঠামোয় প্রায় ১০০ জন ক্রিকেটার রয়েছেন। আগে যেটা ছিল ১২০ জন। এই একশ' জনের মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রয়েছেন ১৭ জন। যাদের মধ্যে 'এ প্লাস' ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৪ জন। যাদের বেতন প্রতি মাসে চার লাখ টাকা করে। এরপর 'এ' শ্রেণিতে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন তিন লাখ করে। 'বি' শ্রেণিতে দুই লাখ এবং রুকি শ্রেণিতে এক লাখ করে।

একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে টেস্টে ম্যাচ ফি পান তিন লাখ, ওয়ানডেতে দুই লাখ এবং টি২০ ম্যাচে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে এ বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ চারটি টেস্ট, ১৯টি ওয়ানডে এবং চারটি টি২০ ম্যাচ খেলেছে। কোনো ক্রিকেটার যদি এর সব ক'টি ম্যাচ খেলে থাকেন, তাহলে এ বছর এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলে টেস্টে ১২ লাখ টাকা, ওয়ানডেতে ৩৮ লাখ টাকা আর টি২০ খেলে ছয় লাখ ২৫ হাজার টাকা শুধু ম্যাচ ফি বাবদ পেয়েছেন। বছরের বেতনের সঙ্গে এই ম্যাচ ফি যোগ করলে জাতীয় দলের 'এ প্লাস' ক্যাটাগরিতে থাকা কোনো ক্রিকেটারের আয় দাঁড়াচ্ছে বেতন থেকে ৪৮ লাখ আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৫৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার আয় এক কোটি চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। এটা শুধু জাতীয় দলের হয়ে খেললে, এর বাইরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল টি২০, বিসিএল-এনসিএলের দু-চারটি ম্যাচ তো রয়েছেই।

তবে আর্থিক এই সচ্ছলতাটা জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদেই বেশি। এর বাইরে প্রায় আশিজনের মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার রয়েছেন। যাদের মূল আয় বিপিএল টি২০ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে। কম করে হলেও দুটি টুর্নামেন্ট থেকে ৩০ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন একজন ক্রিকেটার। আর এর বাইরে এনসিএল এবং বিসিএল খেলে খুব বেশি আয় হয় না তাদের। কেননা এনসিএলে ১৭ থেকে ৩৫ হাজার ম্যাচ ফি আর বিসিএলে ৫০ হাজার টাকা। ঠিক এখানেই ম্যাচ ফি বাড়ানোর জোরালো দাবি তুলেছেন তারা। এই ক্রিকেটারদেরই পাশে দাঁড়িয়েছেন মুশফিকরা।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের তুলনায় পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে আর আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি কম। অথচ আয়ের দিক থেকে বিসিবি হচ্ছে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম ধনী বোর্ড। কয়েক মাস আগে আইসিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সবচেয়ে ধনী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বাজারমূল্য প্রায় ২৫৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার। দ্বিতীয়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ডের মূল্য ৭৯ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয়তে ৫৯ মিলিয়ন বাজারমূল্য নিয়ে ইংল্যান্ড, চতুর্থতে ৫৫ মিলিয়ন ডলার নিয়ে পাকিস্তান আর বাংলাদেশ আছে পঞ্চমে ৫১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে। বিসিবির আয়ের বেশিরভাগ অর্থই আসে স্পন্সর ও আইসিসির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ থেকে।

সেখানে বাংলাদেশের থেকে কম আয় করেও শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বেশি দেওয়া হয়। যদিও ক্যারিবীয়দের জীবনযাত্রায় ওই অর্থ খুব বেশি না। একজন ভারতীয় ক্রিকেটার টেস্টে ম্যাচ ফি পান ২৩ হাজার ৩৮০ ইউএস ডলার, সেখানে একজন ইংলিশ ক্রিকেটার পান প্রায় ২০ হাজার, অস্ট্রেলিয়ান ১৩ থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে, কিউই ক্রিকেটার পান ছয় হাজার ৯৯ ডলার, প্রোটিয়া ক্রিকেটার ছয় হাজার ৯২৫ ডলার, ক্যারিবীয় ক্রিকেটার পাঁচ হাজার ৭৫০ ডলার, লংকান ক্রিকেটার পাঁচ হাজার ডলার, বাংলাদেশি ক্রিকেটার চার হাজার ৩০০ ডলার।