প্রস্তাব পাঠিয়েছে ভারত

ক্রিকেটাররা চাইলে দিবারাত্রির টেস্ট

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: বিসিবি

ভারত কখনোই গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। কৃত্রিম আলোর নিচে প্রতিবেশী বাংলাদেশেরও খেলা হয়নি গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ। এবার এই দু'দলই গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্টে অভিষেক করতে পারে। কারণ চাওয়াটা ভারতের। ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেনস টেস্ট ম্যাচকে দিবারাত্রির করতে চান সৌরভ গাঙ্গুলী। বোর্ড অব ক্রিকেট কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) রোববার এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। ভারতের দিক থেকে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

সোমবার জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে বোর্ডের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বিসিসিআইর প্রস্তাবে দিবারাত্রির টেস্ট খেলার ব্যাপারে কিছুটা রাজি বিসিবি। কারণ বিসিসিআইর নতুন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর চাওয়া প্রত্যাখ্যান করলে সম্পর্কে টান পড়তে পারে। বিসিবির একাধিক কর্মকর্তা ও ক্রিকেটারের অনেকেই দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলতে চান না।

এ জন্যই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন দেখছেন আকরাম খান, 'যেহেতু আমরা এ ধরনের টেস্ট ম্যাচ খেলিনি। ঘরোয়া লিগেও দিবারাত্রির খেলা হয় না। তাই ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের মতামত নেওয়া জরুরি। সবার সঙ্গে কথা বলেই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' রোববার রাতে জাতীয় দলের টি-২০ প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ম্যাচ শেষে দিবারাত্রির টেস্ট নিয়ে ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্টের মতামত জানতে চাওয়ার কথা তার। তবে বিসিবির নির্ভরযোগ্য একজন পরিচালক বলেছেন, কলকাতায় টেস্ট দিবারাত্রি করার প্রস্তাবে রাজি নাও হতে পারে বিসিবি।

কারণ এ ধরণের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। যদিও বিসিবির কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তই আশা করছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এর বড় কারণ হলো কলকাতা টেস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সৌরভের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দলের ক্রিকেটাররাও সৌরভের অতিথি হবেন। সেদিক থেকে এটাও একটা ঐতিহাসিক টেস্ট হতে পারে।

বাংলাদেশ দিবারাত্রির টেস্ট খেলার প্রথম প্রস্তাব পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে ২০১৭ সালে। গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল বিসিবি। এই সময়ের ভেতরে ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশই দিবারাত্রির টেস্ট খেলেছে। বিসিবি সেখানে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগে দিবারাত্রির খেলা চালু করেনি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনাল ম্যাচটি পরীক্ষামূলক গোলাপি বলে হয়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ও প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে। শিরোপা নির্ধারণী চার দিনের ওই ম্যাচ ৩১ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় মধ্যাঞ্চল। চ্যাম্পিয়নরা ২৭৭ ও ২৪৭ রান করে। রানার্সআপ দক্ষিণাঞ্চল ২৭৪ ও ২১৯ রানে অলআউট হয়।

চ্যাম্পিয়ন দলের পেস বোলার তাসকিন আহমেদ সে সময় বলেছিলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে যেটা সমস্যা মনে হয়েছে, গোলাপি বল খুব দ্রুত নরম হয়ে যায়। যে কারণে বল গ্রিপ করা কষ্টের।' তবে গোলাপি বলে দিবারাত্রির চার দিনের ম্যাচের উন্মাদনা ছিল বলে মনে হয়েছিল তার কাছে।

এখন বড় সমস্যা হলো, বাংলাদেশের বর্তমান টেস্টে দলের একজন ক্রিকেটারও গোলাপি বলে দিবারাত্রির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। ২০১৩ সালের ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চার দিনের পরীক্ষামূলক সেই ফাইনালে খেলেছেন জহুরুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, নাঈম ইসলাম, ফরহাদ রেজা, শামসুর রহমান, ইলিয়াস সানি, রকিবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন, মোশাররফ হোসেন রুবেল, শুভাগত হোমরাও। সেদিক থেকে কলকাতায় দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ হলে অনভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানরা খেলবেন।

ভারতীয় ক্রিকেটারের সবাই যে গোলাপি বলে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, তাও না। তবে বর্তমান দলের কেউ কেউ দুলিপ ট্রফিতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। দেশটির অন্যতম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ দুলিপ ট্রফি গত তিন মৌসুম গোলাপি বলে দিবারাত্রির ম্যাচ খেলেছে। এ মৌসুমে ফাইনাল ম্যাচ গোলাপি বলে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই।