'আমাদের রানের ক্ষুধা নেই'

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ফাইল

বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। এই সিরিজের জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন থেকেই ক্রিকেটারদের জন্য 'এ' দলের সিরিজকে প্রস্তুতির মঞ্চ করে দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ টেস্ট স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটার নিয়ে শ্রীলংকা গিয়েছিল বাংলাদেশ 'এ'। সফরে লংকান এ দলের বিপক্ষে একটি তিন দিনের ও একটি চার দিনের ম্যাচ খেলে সিরিজ ড্র করলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নির্বাচকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রানের ক্ষুধা দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

শ্রীলংকা 'এ' দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলার কথা থাকলে বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি তিন দিনে করা হয়। ডাম্বুলায় পরের ম্যাচটি চার দিনই মাঠে ছিল। দুটি ম্যাচেই চালকের আসনে ছিল স্বাগতিক দল। অথচ 'এ' দলের ছাতার নিচে বাংলাদেশের টেস্ট দল খেলেছে লংকায়। তাই ক্রিকেটারদের কাছে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। সেটা পূরণ হয়নি বলে জানান মুমিনুল, 'কন্ডিশন ও উইকেট অনুযায়ী ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আর একটু ভালো হতে পারত। ভালো করা উচিত ছিল।'

বাংলাদেশ দুই ম্যাচে দুই ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। তিন দিনের ম্যাচে ১২০.১ ওভার ব্যাট করে ৩৬০ রান তোলে। এই ইনিংসে চারটি পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস আছে। তবে একটু ধৈর্য দেখাতে পারলে দুটি সেঞ্চুরি হতে পারত। জহুরুল ইসলাম ৯০ আর মোহাম্মদ মিঠুন ৯২ রানে উইকেট হারান। এই দুই ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আর একটু ধৈর্য আশা করেছিলেন মুমিনুল, 'চারটি ফিফটি আছে এবং একটি সেঞ্চুরি। তিন দিনের ম্যাচে যে দুজন ৯০ স্কোর করেছে তাদের দেড়শ' করতে হতো। অন্তত একজনও দেড়শ' করলে দলের স্কোর আরও বড় হতো। চার দিনের ম্যাচে আমার সেঞ্চুরিটা ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। সাদমান ইসলাম ৭৭ রান করেছে, সে একশ' প্লাস করলে আত্মবিশ্বাসটা বাড়ত। যে দু'জন ত্রিশ রান করেছে তাদেরও বড় স্কোরের জন্য খেলতে হতো। আর এগুলো করতে পারলে নিজেদের জন্য ভালো হতো।'

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেট হওয়ার পরও ইনিংসগুলোকে বড় করতে পারেন না। হাফ সেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরি হওয়ার পরই ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। মুমিনুলের দৃষ্টিতে রানের ক্ষুধা না থাকলে এটা হয়, 'আমাদের মধ্যে রানের ক্ষুধার অভাব। ৫০ করলেই আমরা মনে করি হয়ে গেছে। একশ' করলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি। এই কারণে সেট হওয়ার পরও আমরা ইনিসগুলো বড় করতে পারি না। এই সমস্যা আমারও। ১১৭ রান হওয়ার পর কেন আউট হয়ে যাব। এটাকে কেন দুইশ' রানে নিয়ে যেতে পারলাম না। কারণ আমিও অল্পতেই তুষ্ট।'

একটা ভালো দিক হলো, ওপেনার সাদমান ইসলাম দুই ইনিংসেই পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন। প্রথম ম্যাচে ৫৩ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৭ রান এসেছে তরুণ এ ওপেনারের ব্যাট থেকে। টেস্ট দলের এই নতুন ওপেনারের প্রশংসাই করলেন মুমিনুল, 'সাদমান তার দিক থেকে ভালো খেলেছে। কিন্তু ফিফটি কোনো ব্যাটসম্যানের টার্গেট না হলে ভালো। টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে 'এ' দলের ম্যাচে একশ'-দুইশ' করতে হবে। এই পর্যায়ে বড় ইনিংস খেলতে পারলে টেস্টে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারবে।'

'এ' দলের চার দিনের ম্যাচ দুটি দেখতে এই ক'দিন শ্রীলংকায় ছিলেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়ে কলম্বোতেই আছেন। দুই কোচ দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিবারের কাছে গেছেন মুমিনুল, সাদমান, মিঠুনদের পারফরম্যান্সের তথ্য-উপাত্ত সঙ্গে নিয়ে। মুমিনুল জানান, 'উনারা খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। দেখেছেন কিন্তু কোনো মন্তব্য করেননি। কোনো ফিটব্যাক দেননি। উনারা দেখতে গিয়েছিলেন কোন ক্রিকেটার কেমন খেলে। কার অ্যাপ্রোচ কেমন, সে কাজগুলোই করেছেন। এই ক'দিন প্রধান কোচের সঙ্গে কথা বলে যেটা মনে হয়েছে দলীয় পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এই জিনিসটা খেলোয়াড়দের সবার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে চান।' 

'এ' দলের লংকা সফরে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স মোটামুটি হলেও বোলাররা কাঙ্ক্ষিত মানের বোলিং করতে পারনেনি। অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ছাড়া অন্যরা ব্যর্থ। মিরাজ দুই ইনিংসে ১২ (৫ ও ৭) উইকেট নিয়ে ডমিঙ্গোদের খুশি করতে পারলেও পেস বোলাররা ধারাবাহিক ছিলেন না। সে যাই হোক, চার দিনের ম্যাচ খেলে গতকাল দেশে ফেরা ছয় ক্রিকেটার জাতীয় লিগে ম্যাচ খেলবেন ১০ অক্টোবর থেকেই। মুমিনুল নেতৃত্ব দেবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের। তার অধীনে খেলবেন তামিম ইকবাল।